
একতা প্রতিবেদক :
ভারতের নয়াদিল্লিতে নিপীড়িত ছাত্র, যুব ও সাধারণ মানুষের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৪ জুলাই বিকাল ৫টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক সংলগ্ন শিল্পকলা একাডেমির গেটে অনুষ্ঠিত এ সংহতি সমাবেশে বাধা দেয় পুলিশ। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শ্রমিক সংগঠক, মানবাধিকারকর্মী, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে সংগ্রামরত ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর দমন-পীড়নের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
বক্তারা আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার সংগ্রাম পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এক দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার প্রভাব সমগ্র অঞ্চলের ওপর পড়ে। তাই দিল্লীর সংগ্রামরত ছাত্র-যুব-জনতার ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সংহতি অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন বন্ধ, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত এবং আন্দোলনকারীদের সকল দাবি মেন নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে উদ্ভূত সংকটের সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংহতি সমাবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল চৌধুরী, গবেষক লেখক মাহতাবউদ্দিন আহমেদ, পাঠাগার সংগঠক শেখ আবুল হোসেন শিলন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব মাহমুদ, শ্রমিকনেতা জাহিদ নগর। সংহতি সমাবেশে সঞ্চালনা করেন সংস্কৃতিকর্মী কনক হায়াত।