বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি সভাপতি

সরকারের ৫ মাসের শাসন আতঙ্ক আশঙ্কা আর দীর্ঘশ্বাস বাড়িয়েছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের শাসন শুধুই মানুষের আতঙ্ক-আশঙ্কা আর দীর্ঘশ্বাস বাড়িয়েছে। একদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বাজেটে জনসাধারণের উপর কর ও ঋণের বোঝা চাপানোর মধ্যদিয়ে জনজীবনের সংকট তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার ফলে দেশ এক ভীতি ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল না করা, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চক্রান্ত বহাল রাখা, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া এবং বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ বিষয়ে সরকারের গণবিরোধী নীতি ও দাসত্বের মনোভাব মানুষের সামনে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সিপিবির উদ্যোগে ২২ জুলাই বিকাল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন-এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ, মঞ্জুর মঈন, ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল। সমাবেশ থেকে বক্তারা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান না করার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশ সঠিক নেতৃত্বের হাতে নেই। সমাবেশে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, জনগণের উপর একের পর এক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে গভীর সংকটের দিকে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং পুশ-ইনের ঘটনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক। দেশের মর্যাদা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা না পৌঁছানো এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ। কোনো অজুহাতে এই বন্দরকে ইজারা বা বিদেশি নিয়ন্ত্রণের আওতায় দেওয়ার যে কোনো উদ্যোগ জনগণ প্রতিহত করবে। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প, বন্দর, জ্বালানি ও অন্যান্য জাতীয় সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা ও রাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ এবং জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষার সংগ্রামে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আপসহীন ভূমিকা পালন করবে এবং এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..