ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনে উত্তাল নয়াদিল্লি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারতের জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত দুই মাস ধরে আন্দোলন করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। ছাত্র-তরুণদের এই আন্দোলনটি এক মাস ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আরো তীব্রতা পেয়েছে। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেন লাদাখের অধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। গত ২৮ জুন থেকে অনশন বসা ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২১ দিনের মাথায় তাকে তুলে নিয়ে হাসপাতালেও ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ২০ জুলাই সিজেপি বিক্ষোভকারীরা ৫৭ বছর বয়সি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে পদযাত্রা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় আন্দোলন আরো তীব্র রূপ নেয়। এরপর ২২ জুলাই রাতে মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হলে ফের সংঘর্ষ হয়। বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং অনেক সেলিব্রেটি এই আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়ায় তা আরো বেগবান হয়েছে। দিল্লি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন ভারতের অন্তত ৩৬টি বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড় রাজ্যে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মাধ্যমে শুরুতে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন তরুণকে নিয়ে এই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ তরুণের সমর্থনে এটি দ্রুত বিশাল সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যা মোদী সরকারকে কার্যত অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আন্দোলনকে তার সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় যুব প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে এই বিপুল জনসমর্থনের কারণ কেবল ঘন ঘন প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং কর্মসংস্থানের অভাবের মত বিষয়গুলো নিয়ে তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিফলন। তারা সরকারকে কার্যকরভাবে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। বিক্ষোভ দমাতে মধ্য দিল্লিতে ১৬টি মেট্রো স্টেশন ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত করা হয়, যা হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৩ জুলাই রাতে সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি খসড়া বিল তোলা হবে এবং দ্রুততম সময়ে এটি সংসদে পাস করানো হবে। তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এই খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কেবল আইন সংশোধন যথেষ্ট নয়, বরং প্রশ্নপত্র ফাঁস স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে শুরুতেই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা বলছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরবে না। তবে এনডিটিভি বলছে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সূত্রগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..