খাপড়া ওয়ার্ড জেল হত্যাকাণ্ড দিবসে রাজশাহী সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে সিপিবি আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত জমায়েতের একাংশ রাজশাহী সংবাদদাতা :
খাপড়া ওয়ার্ডের জেল হত্যাকাণ্ডের স্মরণে রাজশাহী সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে যেসব কমিউনিস্ট নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাঁরা জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য, ছাত্রদের জন্য আন্দোলন করেছেন, ভারত বর্ষের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছেন, তাদের নির্বিচারে গুলি করা হয়। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের সরকার গঠন করতে হবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
গত ২৪ এপ্রিল, বিকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে খাপড়া ওয়ার্ডের জেল হত্যাকাণ্ডের স্মরণে রাজশাহী সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি জুলফিকার আহমেদ গোলাপের সভাপতিত্বে ও সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমিনুল ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গণজমায়েতে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিমাই গাঙ্গুলী, মহসীন রেজা, মনিরা বেগম অনু, শহীদুল্লাহ সবুজ, সুব্রতা রায়, নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, রাজশাহীর শ্রমিক নেতা হুমায়ূন কবির জেনু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিপিবি নেতা কামাল উদ্দিন, পাবনার সিপিবি নেতা আহসান হাবীব, নাটোরের সিপিবি নেতা নির্মল চৌধুরী, জয়পুরহাটের সিপিবি নেতা রমজানুজ্জামান, বগুড়ার সিপিবি সাজেদুর রহমান ঝিলাম, নওগাঁও সিপিবি নেতা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
গণ জমায়েতে বক্তারা বলেন, খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকান্ড একদিকে শোষক শ্রেণির হিংস্রতা ও বর্বরতার দলিল, অনদিকে শোষিত এবং মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের আপসহীন বীরত্বের প্রতীক। খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট বন্দীরা জেনে বুঝে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন কিন্তু ঘাতকের কাছে মাথা নত ও আত্মসমর্পণ করেননি। খাপড়া ওয়ার্ডে বীর শহীদদের সংগ্রামী জীবন পাঠ্যবইতে সংযুক্ত করার দাবি জানান বক্তারা।
গণ জমায়েত শুরুর আগে একটি বিশাল লাল পতাকা মিছিল রাজশাহী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জাতীয় সঙ্গীত, গণ সঙ্গীত গাওয়ার মধ্যে দিয়ে ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একটি প্রতিনিধি দল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।