চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহকে জাতীয় যুব দিবস ঘোষণার দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

যুব বিদ্রোহ দিবসের ৯৬তম বাষির্কীতে চট্টগ্রামে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন
একতা প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবসের ৯৬তম বার্ষিকীতে বিট্রিশবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশপাশি দিনটিকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। গত ১৮ এপ্রিল, শনিবার রাজধানীর মুক্তিভবনের সামনে যুব ইউনিয়ন সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। যুব সমাবেশের প্রারম্ভে সকাল ৯টায় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। যুব সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, সাহস, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টার দা সূর্যসেনের নেতৃত্বে একদল স্বাধীনতা আকাক্সক্ষী বিপ্লবী যুবক বিট্রিশ ভারতের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করে, টেলিগ্রাফ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে চট্টগ্রামের বিট্রিশ শাসন অচল করে দিয়ে স্বাধীন চট্টগ্রাম ঘোষণা করে। বক্তারা বলেন, যদিও সেই স্বাধীনতার স্থায়িত্ব ক্ষণকালীন, কিন্তু তার ব্যাপ্তি আজও বহমান। তৎকালীন পরাশক্তি বিট্রিশ সাম্রাজ্যকে অপারাজেয় মনে করা হলেও মাত্র ৬৫ জন যুবক সেই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে। মাস্টার দা সূর্যসেনসহ সেই বিপ্লবী বীর শহীদরা জীবন দিয়ে তার সংগ্রামকে অব্যাহত রেখেছিল। তারই প্রবাহমান লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আমাদের মহান স্বাধীনতা। বক্তারা আরও বলেন, তৎকালীন বিট্রিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের গৌরবের প্রথম সোপান চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ। আজও যখন উত্তর উপনিবেশিকবাদ থেকে উত্তর আধুনিকতাবাদের নানা মোড়কে আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ যখন স্বাধীন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে যায় তখন আমাদের অনুপ্রেরণায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতাসহ বীর বিপ্লবীরা। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদের যেকোনো মোড়কের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস। তাই চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবসকে জাতীয় যুব দিবস ঘোষণার দাবি করেন তারা। চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবসের ৯৬ তম বাষির্কী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত যুব সমাবেশে বক্তারা- চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের দিন ১৮ এপ্রিলকে জাতীয় যুব দিবস ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল বিকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আয়োজিত যুব সমাবেশ বক্তারা এই দাবি জানান। যুব সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী যুব আন্দোলনের ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণা,

বিশেষ করে সূর্য সেন-এর নেতৃত্বে সংঘটিত চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, পরবর্তীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। যে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মাষ্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ হয়েছিল, সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বর্তমান বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের মাধ্যমে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে ও রক্ত ঝরাচ্ছে। যা নতুন করে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে এদেশেও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির দোসরদের সহায়তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এই অসম চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে বিভিন্ন সমঝোতার মাধ্যমে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং কৌশলগত সম্পদ বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে এসব গোপন ও অসম চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী যেকোনো চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না। এসব চুক্তি বাতিল না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সমাবেশে আরও বলা হয়, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে প্রগতিশীল যুব আন্দোলনের বিকল্প নেই। সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় সকল অন্যায়, অসম ও গোপন চুক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং যুব বিদ্রোহের চেতনায় সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সংগঠনের সভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সুভাষ দে, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শংকর সাঁওজাল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অপূর্ব সাহা প্রমুখ। যুব সমাবেশ পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করেন সংগীত ভবন, পদ্ম নৃত্যকলা একাডেমি, লোকজ গানের ব্যান্ড দল- সরলা। সমাবেশ থেকে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের দিন ১৮ এপ্রিলকে জাতীয় যুব দিবস ঘোষণা করা এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক জালালাবাদ পাহাড়টি সেনাবাহিনী থেকে অধিগ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার এবং সেখানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের প্রকৃত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্তসহ যুব বিদ্রোহের মহানায়কদের স্মরণে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের নামকরণ করারও দাবি জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..