হামে মৃত্যু : দায়ীদের চিহ্নিত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবদেক : হামের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট- যা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা ও টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। যারা এ গাফিলতির জন্য দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর রিপোর্টারস ইউনিটি সফিকুল কবির মিলনায়তনে “হামে শিশুমৃত্যু: জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে হামের চলমান মহামারিতে প্রাণ হারানো শিশুদেরকে, তাদের মা-বাবা-প্রিয়জনদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা, যে সব শিশু এখনো চিকিৎসাধীন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস্ হেলথ এর আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুবের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতারের সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্ল্যাটফর্ম এর যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম লালা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ এম জাকির হোসেন, অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক ডা. এম এইচ ফারুকী, ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞবৃন্দ। সম্মেলন থেকে এ পরিস্থিতিতে জরুরি দাবি ও করণীয় জানানো হয়। সেগুলো হল: ১. অবিলম্বে সারাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করতে হবে, যাতে কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা- বস্তি, দুর্গম অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ২. আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ‘হাম কর্নার’ চালু করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভিটামিন এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা সুবিধার বিকেন্দ্রীকরণ করে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুব্যবস্থা থাকতে হবে। মহানগরীতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে হবে। ৩. টিকা নিয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণা ও গুজব মোকাবিলায় কার্যকর জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু করতে হবে। ৪. একটি শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা ও দ্রুত মোকাবেলা কার্যক্রম চালু করা। জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করতে হবে। ৫. হাম নির্মূল কৌশলপত্র পুনরায় সক্রিয় করতে হবে। ৬. ভ্যাক্সিন উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। আইপিএইচ এর ভ্যাক্সিন উৎপাদন সক্ষমতা পুনঃস্থাপন করতে হবে। ৭. ভবিষ্যতে এধরণের জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি বা স্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন পাবলিক হেলথ এমার্জেন্সি চালু করতে হবে। তারা বলেন, এই সংকট একটি সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান- এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। পরিশেষে, তারা সবাইকে অভিভাবক, সমাজের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে আর কোনো শিশুকে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে প্রাণ হারাতে না হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..