কাস্তে নিয়ে লড়ছেন যারা

গাইবান্ধা সদরে মিহির ঘোষ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে কাস্তে মার্কার প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য মিহির ঘোষ। সৎ, যোগ্য, সাহসী রাজনীতিক হিসেবে গাইবান্ধায় ব্যাপক পরিচিত মিহির নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছেন গণমানুষের অর্থায়নে। গাইবান্ধা সদরের দক্ষিণ গিদারি গ্রামে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করা মিহির ঘোষের বেড়ে ওঠা গাইবান্ধা শহরে। ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয়। ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে সামরিক আদালতে দণ্ডিত হন। পরবর্তীতে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী, হাটের ইজারদারের জুলুম বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার কারাভোগ ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সর্বশেষ বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে ২০২২ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় এক মাসের বেশি কারাভোগ করেন তিনি। মিহির ঘোষ ১৯৮৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দুই দফায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা সংসদের মূল দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র আন্দোলন শেষে তিনি জেলায় ক্ষেতমজুর সমিতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। ক্ষেতমজুর সমিতির জেলার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের দায়িত্বও পালন করেন। মিহির ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৭ বছর সিপিবি গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নবম ও দশম কংগ্রেসে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও একাদশ কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং দ্বাদশ কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ১২ দিনের জন্য চীন সফরে যান। একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মিহির সব ধরনের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গণমানুষের নেতায় পরিণত হয়েছেন। গাইবান্ধার সকল সামাজিক আন্দোলনে তিনি যুক্ত থেকেছেন সক্রিয়ভাবে। জেলার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সাথে সোচ্চার আছেন তিনি। বিগত ২০০৯ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দুটি উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও চক্রান্ত, মিথ্যা প্রচারণা ও কারসাজিতে তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও রাতের ভোটের কারণে সে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই। এবার সকল ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত মোকাবেলা করে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করে এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..