প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় যমুনা তীরবর্তী মানুষ

আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া :

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বগুড়ার পূর্ব জনপদের যমুনা ভাঙনের শিকার ও তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিবছর ভয়াবহ ভাঙনে যমুনায় বিলীন হচ্ছে একের পর এক গ্রাম, জনপদ, লোকালয়, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ধসে যাচ্ছে ভাঙন রোধে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন স্থাপনা, স্পার, মিনি গ্রোয়েন, ক্রসবার ও তীররক্ষা বাঁধ। কোনো কোনো পয়েন্টে হুমকির মুখে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। নদী ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষাকল্পে প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে জরুরি কাজের নামে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করা হয়ে থাকে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ হয়না। উল্লেখিত বিষয় বিবেচনায় জনপদের জানমাল ও সম্পদ স্থায়ীভাবে রক্ষাকল্পে গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বগুড়া জেলার যমুনার তীর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প নামে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব (ডিপিপি) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কারিগরি নানা দিক যাচাই বাছাইয়ের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির স্থায়ী বৈঠকে (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। উল্লেখ্য, কামালপুর, ইছামারা, গোদাখালী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিলে এবং বিআরই হুমকির মুখে পড়লে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালে ৮০০ কোটি টাকার একটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানে হয়। কিন্তু যাচাই বাছাই ও ডিপিপি সংশোধনের নামে সময়ক্ষেপন হতে থাকে। এক পর্যায়ে ডিপিপি লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়ে। ঐ সরকারের আমলে বগুড়া অঞ্চলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এরপর গত কয়েক বছরে প্রায় ৯ কিলোমিটারব্যাপি ভাঙনে কামালপুর, ইছামারা, গোদাখালী, তালতলা, দরিপাড়া ধুনটের শহরাবাড়ি, বানিয়াজান ও ভান্ডারবাড়ি এলাকার প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ও শতশত বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয় এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। নদী ভাঙনের শিকার কামালপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম মনিম বলেন, ইউনিয়নবাসী বাঁধ ভাঙার ভয় নিয়ে দিন পার করছে। গোদাখালী পয়েন্টে বাঁধ ভাঙলে শুধু এলাকা নয়, ভাটিতে ধুনটসহ আরও বহু এলাকার ফসল ও জানমালের অনেক ক্ষতি হবে। একাধিকবার বাড়ি ভাঙনের শিকার চন্দন বাইশা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাদত হোসেন বলেন, আমরা অধির অগ্রহে অপেক্ষা করছি, যমুনা প্রকল্প একনেক অনুমোদন এবং স্থায়ী কাজ হলে এ জনপদের লাখো মানুষ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া সার্কেলের ত্বত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করি শিগগিরই প্রকল্প একনেক অনুমোদন হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..