পহেলা জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবসে রাজধানীতে শহীদ মতিউল-কাদের চত্বরে ছাত্র ইউনিয়নের শ্রদ্ধা নিবেদনএকতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদের করদ রাজ্য বানাতে দেওয়া হবে না, জনগণের লড়াইয়ে সাম্রাজ্যবাদ পরাস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবসে ১ জানুয়ারি রাজধানীতে শহীদ মতিউল-কাদের চত্বরে ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শেষে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশে এ কথা বলেন ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।
বক্তারা বলেন, ‘আজ সারাবিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের থাবায় আক্রান্ত। লাতিন আমেরিকা থেকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া-প্যাসিফিক সব জায়গায় সাম্রাজ্যবাদ তার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। ফিলিস্তিন, সুদানে গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশও সাম্রাজ্যবাদীদের নিশানায়। বাংলাদেশের বন্দর, জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া, মানবিক করিডোরের নামে মায়ানমারের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর চেষ্টা করানো হচ্ছে। বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদের করদ রাজ্য বানাতে দেওয়া হবে না, জনগণের লড়াইয়ে সাম্রাজ্যবাদ পরাস্ত হবে।’
পহেলা জানুয়ারি সকাল ৮টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
এসময় শহীদ মতিউল-কাদেরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতৃবৃন্দ।
ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ’র সঞ্চালনায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দীন।
সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি আগে সাম্রাজ্যবাদ যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করতো এখনও সেই অবস্থা বিদ্যমান, এবং এই আধিপত্যবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদকে পরাভূত করতে না পারলে আসল মুক্তি আসবে না। কেউ কেউ এই সাম্রাজ্যবাদকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে, আমরা বলতে চাই এই পাঁয়তারায় কোনো লাভ হবে না। জনগণ এই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে রুখে দিবে এবং আমাদের বন্দর, করিডোর বিদেশিদের দিবে না।’
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘এই উপমহাদেশের সমুদ্রে মার্কিন তার আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন পায়তারা করে যাচ্ছে। আমাদের একাত্তরকে ভুলিয়ে দিয়ে একটা গোষ্ঠী আমেরিকার তাবেদারি করছে। আমি বলতে চাই এই পাঁয়তারা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ‘মুখে ভারত বিদ্বেষী স্লোগান দিলেও ভারতের সাথে কোন অসম চুক্তি বাতিল করে নাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমন কি বিদেশিদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ জনগণের কাছে গোপন রাখা হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়ন তার ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যেকোন সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়ন লড়াই চালিয়ে যাবে।’
পহেলা জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস উপলক্ষে বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশে ভিয়েতনামের দূতাবাস। বার্তায় জানানো হয়েছে, ভিয়েতনাম সরকার এবং জনগণ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যারা জাতীয় স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ভিয়েতনামকে সমর্থন করেছেন। শহীদ মতিউল, মীর্জা কাদের সর্বদা আমাদের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি ভিয়েতনামের মুক্তির লড়াইয়ে সংহতি জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ও ডাকসু মিছিল বের করলে তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী গুলি চালায়। শহীদ হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদের। শহীদ মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদেরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভিয়েতনামের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।