‘গুপ্ত’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছেন। তিনি কত জায়গায় কারণে অকারণে ‘গোপন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অথচ আজকের দিনে যদি তিনি জেনেবুঝে এই ‘গোপন’ শব্দ দিয়ে গান রচনা করতেন তাহলে কত যুদ্ধের মুখোমুখিই না তাকে হতে হত। দেখা গেল, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ মোড়ে একজন শিল্পী বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গাই গাইছে- ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে,/ উঠিল ফুটিয়া নীরব নয়নে।/ না না না, রবে না গোপনে।’ ব্যাস, আর যায় কোথায়? কার বুকে এত সাহস যে, ‘গোপন’ মানে ‘গুপ্ত’ শব্দ দিয়ে গান বানায়। রণদামামা বাজিয়ে দে। এবং সত্যি সত্যিই নাকি সেখানে এমন ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে। কলেজে একটি গ্রাফিতির নিচে আগে লেখা ছিল- ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সম্প্রতি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। পরে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ‘গুপ্তরাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। তার পরেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের যুদ্ধ শুরু। এই যুদ্ধ শুধু চট্টগামের সীমাতেই আটকে থাকেনি বরং এ লড়াই ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও সামাজিক মাধ্যমের পাতায় পাতায়। তাহলে এখন থেকে এই ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে- এই ‘গোপন’ বা ‘গুপ্ত’ শব্দটিকে অভিধান থেকেই বিদায় করে দিতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..