দেশ বিক্রির বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে আছে সরকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট-এর প্রচার ও গণসংযোগে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন
একতা প্রতিবেদক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ এবং ইরানে মার্কিন-ইসরাইলী হামলা, গাজায় জায়নবাদী গণহত্যাসহ দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ এপ্রিল জুরাইন রেল গেটে জমায়েত হয়ে বিক্রমপুর প্লাজা, আলম মার্কেট, পোস্তগোলা এলাকায় প্রচার, গণসংযোগ, লিফলেট বিলি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জুরাইন এর গণসংযোগ প্রচারে উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহীদুল ইসলাম সবুজ, শহীদুল ইসলাম, কামাল হোসেন বাদল, আব্দুস সালাম খোকন, সুশান্ত সিনহা সুমন, সাইফুল ইসলাম সমীর, জাহিদ হোসেন খান, আফজাল হোসেন, দাউদ আলী মামুন, নবী হোসেন প্রমুখ। একই দিনে বিকেল ৫টায় মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে জমায়েত হয়ে তিন রাস্তার মোড়সহ ঐ এলাকায় লিফলেট বিলি, গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রচার গণসংযোগে অংশ নেয় নাজমুল হক প্রধান, রাগিব আহসান মুন্না, বেলাল চৌধুরী, সৈয়দ হারুনুর রশীদ, আমিরুন নুজহাত মনীষা, আহসান হাবিব লাবলু, খালেকুজ্জামান লিপন, নুরুজ্জামান, অ্যাড. ফারুক হোসেন, বাবু হাসান প্রমুখ। ১৯ এপ্রিল তেজগাও নাবিস্কো মোড় থেকে নাখালপাড়া রেলগেট, লুকাস মোড় হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বেলাল চৌধুরী, ডা. হারুন অর রশীদ, সাদিকুর রহমান শামীম, সৈয়দ হারুনুর রশীদ, সুশান্ত সিনহা সুমন, পাকির আলী, রায়হান উদ্দিন, বিশ্বজিৎ শীল, জুয়েল প্রমুখ। একই দিনে বিকাল ৫টায় খিলগাও তালতলা এলাকায় গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, রাজেকুজ্জামান রতন, রাগিব আহসান মুন্না, সীমা দত্ত, মন্জুর আহমেদ মন্জু, খালেকুজ্জামান লিপন, আব্দুল আলী, রোকনুজ্জামান রোকন, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহীদুল ইসলাম সবুজ, সুশান্ত সিনহা সুমন, সৈয়দ হারুনুর রশীদ, সিরাজউল্লা, রিফাত হাবিব, অনীক দাস, সূর্য, জসিম উদ্দিন প্রমুখ। ২০ এপ্রিল শাহবাগ থেকে শুরু করে কাটাবন, বাটা মোড়, এলিফ্যন্ট রোড, সাইন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, নিলক্ষেত এলাকায় গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, নাজমুল হক প্রধান, আবদুল্লাহ ক্কাফি রতন, বেলাল চৌধুরী, ডা. হারুনুর রশীদ, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, রাশেদ শাহরিয়ার, কামাল হোসেন বাদল, রজত হুদা, শহীদুল ইসলাম সবুজ, আমেনা আক্তার, ইসমাইল চৌধুরী, ছাত্রনেতা মুক্তা বাড়ৈ, সালমান সিদ্দিকী, তামজিদ হোসেন, জাবির আহমেদ জুবেল প্রমুখ। একই দিনে বিকেল ৫টায় উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে উত্তরা রেলগেট এলাকায় লিফলেট বিলি, প্রচার ও গণসংযোগ করেন অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, ডা. মুশতাক হোসেন, রাগিব আহসান মুন্না, সৈয়দ হারুনুর রশীদ, সুশান্ত সিনহা সুমন, শামীম ইমাম, রায়হান উদ্দিন, মো. রফিক, ইনজামাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। ২১ এপ্রিল বিকাল ৫টায় লালবাগ আজিমপুর সুপার মার্কেটে জমায়েত হয়ে ঐ অঞ্চলে প্রচার ও গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল কবির জাহিদ, বাদল খান, বেলাল চৌধুরী, জুলফিকার আলী, শহীদুল ইসলাম সবুজ, আব্দুস সালাম খোকন, রজত হুদা, আরিফুল ইসলাম নাদিম, স্থানীয় নেতা রুখসানা আফরোজ আশা, আক্তার হোসেন, মুক্তা বাড়ৈ প্রমুখ। এবং একই দিন বিকাল ৫টায় বনানী মহাখালী ওয়ারলেস গেইটে জমায়েত হয়ে ঐ এলাকায় গণসংযোগ করেন কেন্দ্রীয় নেতা রাগিব আহসান মুন্না, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, ডা. হারুন অর রশীদ, খালেকুজ্জামান লিপন, সৈয়দ হারুনুর রশীদ, সুশান্ত সিনহা সুমন, রায়হান উদ্দিন, স্থানীয় নেতা নুরুজ্জামান, ইনজামাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। ২২ এপ্রিল বিকেল ৫টায় ভাটরা থানার সামনে থেকে বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায় গণসংযোগে ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সৈয়দ হারুন, সুশান্ত সিনহা, আশফাকুর রহমান সবুজ, সুমন, মাহবুবে খোদা রাসেল, রায়হান উদ্দিন, সোলায়মান, আনোয়ারুল ইসলাম, নবাব প্রমুখ এবং এদিন বিকেল ৫টায় শান্তিনগর মোড় থেকে মালিবাগ-মৌচাক এলাকায় গণসংযোগে ছিলেন ইকবাল কবির জাহিদ, জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপন, মঞ্জুর আলম মিঠু, ত্রিদিব সাহা, রজত হুদা, মঞ্জু, ইসমাইল চৌধুরী, ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, রাশেদ শাহরিয়ার, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহীদুল ইসলাম সবুজ, শিমুল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। ২৪ এপ্রিল বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি ও মল এলাকায় লিফলেট বিলি ও গণসংযোগে ছিলেন বেলাল চৌধুরী, সৈয়দ হারুনুর রশীদ, রজত হুদা, ডা.হারুনুর রশীদ, মন্জুর আলম মিঠু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এসব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) স্বাক্ষর করেছে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত বাণিজ্য উপদেষ্টা অথবা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এবার নেতৃত্ব দেন তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি এখন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এই বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে একতরফা সুবিধা ও একক কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার অজুহাতে এই চুক্তিতে তাদের চাহিদা মতো আমাদের দেশের ওপর শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত নানান অসম শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ সারা বিশ্বে দস্যুবৃত্তি করে বেড়াচ্ছে, সম্পদ লুণ্ঠনের নেশায় পাগল হয়ে গেছে। সম্প্রতি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলী বর্বর হামলা চালাচ্ছে। তেলের জন্য ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। মার্কিন মদদে জায়নবাদী ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। সারা পৃথিবীর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবতা আজ হুমকীর মুখে। মালয়েশিয়া ইতিমধ্যেই চুক্তি বাতিল করেছে, ভারত স্থগিত করেছে। তাই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই মালয়েশিয়ার মতো বিএনপি সরকারকে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। তারা বলেন, ইতিপূর্বে অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রামে লালদিয়ায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং পানগাঁও টার্মিনাল হ্যান্ডলিং এর জন্য বিদেশি সুইডেন ও ডেনমার্কের কোম্পানিকে ইজারা দিয়েছে। লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ড নামক বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা করেছিল। যা এখনও চলমান আছে। অবিলম্বে লালদিয়া ও পানগাঁও ইজারা চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান নির্বাচনের আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে জনগণের ভোট নিজের পক্ষে নেওয়ার পর এখন স্লোগানের কথা ভুলে গিয়ে দেশ বিক্রির বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে নিশ্চুপ হয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। অবিলম্বে চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গাছের আগা কেটে গোড়ায় পানি ঢালার মতো এই অসম চুক্তি বাতিল না করে কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করছেন। অন্যদিকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেশি দামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমসহ কৃষি পণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ। যার ফলে গার্মেন্টসসহ দেশীয় শিল্প, কৃষি খাত ও ঔষধ শিল্প মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার হবে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বেলেন, বর্তমান সরকার সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে সমন্বয়ের নামে সব রকমের জ্বালানি তেলের লিটার প্রতি ১৫-২০ টাকা দাম বাড়িয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে। যার প্রভাবে সব নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। নেতৃবৃন্দ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির ফলে দেশের সম্ভাব্য ক্ষতির বর্ণনা করে অবিলম্বে চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার আহ্বান জানান। তারা আরও বলেন, আমেরিকা, ভারতসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশের সাথে স্বাধীনতাত্তোরকালে সম্পাদিত সকল চুক্তি জনসম্মুক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে। আমেরিকার সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিসহ চট্টগ্রাম বন্দর, রামপাল, রূপপুর, আদানি ও টার্মিনাল সংক্রান্ত জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও প্রকল্পগুলো বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করতে সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল বাম, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, গণসংগঠন, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যক্তি, গোষ্ঠীসহ সকল দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান। একইসাথে ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরাইলী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সরকারকে সোচ্চার হওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্পিকারের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি সফল করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে দেশ বিক্রির বাণিজ্য চুক্তির সাথে জড়িত উপদেষ্টাদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..