লাগামহীন হয়ে উঠছে বাজার
একতা প্রতিবেদক :
চলতি বছর শুরু থেকেই লাগামহীন হয়ে উঠছে বাজারদর। বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার উপরে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবেই গত এক বছরে ১৬টি সবজির দাম গড়ে বেড়েছে ২৬ শতাংশ। এখন নতুন করে যোগ হয়েছে মসুর ডাল ও আটা-ময়দার দাম। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তি, অন্যদিকে সবজির দামও চড়া। ফলে চাপে পড়েছে সাধারণ নিম্ন্ন আয়ের মানুষ।
বাড়তি দামের সম্পর্কে পাইকারি বাজার, খুচরা বাজার, আড়তদার ও ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের এই সময়ে বৃষ্টি ও বন্যায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হওয়া ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পণ্যটির দাম বেড়েছে। তবে সিন্ডিকেট এবং অনেকের অতি মুনাফা করার বিষয়টাও উঠে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বেশ কিছুদিন চাঁদাবাজি, পরিবহন ও বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ছিল না। এতে সবজির দাম কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার শুরু হওয়ায় দামও বেড়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৮০ শতাংশ পরিবার সংসার চালানোর খরচ জোগাড় করতে পারে না। প্রতি মাসে এসব পরিবার যত টাকা আয় করে, এর চেয়ে কম আয় করেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
গবেষণা বলছে, সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা ৪০ শতাংশ পরিবারের প্রতি মাসের গড় আয় ১৪ হাজার ৮৮১ টাকা। কিন্তু মাসে তার খরচ ১৭ হাজার ৩৮৭ টাকা। এ ছাড়া মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসে গড় আয় ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। কিন্তু সংসার চালাতে এসব পরিবারের খরচ করতে হয় ২৯ হাজার ৭২৭ টাকা। এর মানে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার নিজের প্রয়োজন অনুসারে আয় করতে পারছে না। তাদের ধারদেনা করে চলতে হয়।
বাজারের কম দামের সবজিগুলোর একটি পটোল। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, প্রতি কেজি পটোল এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। শুধু পটোল নয়, বেশির ভাগ সবজির দাম এবার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারদরের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের আগস্টের তুলনায় এ বছরের আগস্টে ১৬টি সবজির দাম গড়ে ২৬ শতাংশ বেশি বেড়েছে। আর পাঁচটি মাছের দাম বেড়েছে গড়ে ১৮ শতাংশ। মাংস ও ডিম শ্রেণিতে গড় মূল্যবৃদ্ধি ৭ শতাংশ।
সবজির দাম : রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গোল বেগুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এ ছাড়া ঢেঁড়স ও পটোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুুন্দল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, নতুন শিম ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালকুমড়া প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লম্বা লাউ ৮০ থেকে ৯০ টাকা। কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পিয়াজ আমদানি বাড়লেও বাজারে দাম তেমন কমেনি। এখনো প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে। তবে কাওরান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানি করা পিয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে দেশি পিয়াজও বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।
আরেক ক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, মাছ-মাংসের দাম বেশি হলে সবজি কিনি। কিন্তু এখন সবজি খাওয়াটাও বিলাসিতা মনে হচ্ছে। বাজারে ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই নেই। শুধু পেঁপে ৩০ টাকা আর মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি। আর কিছু কেনা যাচ্ছে না।
এদিকে গত ২৭শে আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে আলুর হিমাগার গেটে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আলুর দাম এখনো সেভাবে বাড়েনি। এখনো আগের দাম ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাড্ডা বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মাহবুব হোসেন বলেন, আগে যে বেগুন ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন পাইকারি বাজারেই সেটা ১০০ টাকা কেজি। এখন কাওরান বাজার থেকে মাল কিনতে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্নভাবে এখানে-ওখানে টাকা দিতে হচ্ছে। রাস্তা খরচ আছে। মাল আনার ভাড়া, কর্মচারী বেতন, দোকান খরচ- সব মিলিয়ে দাম বাড়ছে সবজির।
আটার দাম বেড়েছে : বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে খোলা আটার দাম বেড়ে খুচরায় প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে প্যাকেটজাত আটার দামও। বাজারে কেজিতে আটার দাম ৬ থেকে ১০ টাকা ও ময়দার দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, খোলা ও মোড়কজাত (প্যাকেট) উভয় ধরনের আটা ও ময়দার দামই বেড়েছে। ১৫ দিন আগে মোড়কজাত আটা (দুই কেজি) কেনা যেত ৯০-৯৫ টাকায়। এখন সেই দাম বেড়ে ১১০-১১৫ টাকা হয়েছে। আর খোলা আটার কেজি ৩৮-৪০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮-৫০ টাকা হয়েছে। এদিকে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ছোট দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বর্তমানে তা ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া মুগডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা।
মুরগি ও ডিমের দাম চড়া : উচ্চমূল্যে আটকে রয়েছে ডিম ও মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি মানভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
পল্টন বাজারের ক্রেতা রবিউল ইসলাম রবি সাপ্তাহিক একতাকে বলেন, মাছ-মাংসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ ডিম ও ডালের ওপর নির্ভর করে। ডিমের দাম বাড়লে সবজির পিছনে ছুটে। কিন্তু বর্তমানে সবজির বাজারে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। বাজারদর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
প্রথম পাতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবে কী
‘ভাগ’
সারাদেশে প্রচার ও গণসংযোগের উদ্বোধন
নির্বাচিত বিএনপি সরকার মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ
সড়কে ৭ ক্ষেতমজুর নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবি
উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ ও লাইসেন্স প্রদানের দাবি
জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করুন
কৃষক সমিতির পঞ্চদশ জাতীয় সম্মেলন আগামী ফেব্রুয়ারিতে
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদের মৃত্যুতে সিপিবির শোক
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন