মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রথম সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে মিছিলএকতা প্রতিবেদক :
দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা, ভূমি অধিকারসহ ১০ দফা দাবিতে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে সবুজ তাঁতিকে সভাপতি, কৃষ্ণদাস অলমিককে সাধারণ সম্পাদক ও সুমন মুন্ডাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২৯ জুন দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলন। চা শ্রমিক কেন্দ্রের সংগঠক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
সম্মেলনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন আহ্বায়ক সবুজ তাঁতি।
সম্মেলনের মূল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সবুজ তাঁতি। এরপর, এস এম শুভ সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, সংগঠনের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল কাফি, টিইউসির সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা জলি তালুকদার, চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সদস্য সচিব কৃষ্ণদাস অলমিক, ছাত্রনেতা মিখা পেরেগু, রশিদপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা বিমল কর্মকার ইমন, বুরুজান চা বাগানের সাইদুল ইসলাম সোহেল, ভাড়াউড়া চা বাগানের মিতু রায়, সোনাছড়া চা বাগানের লক্ষী প্রজাপতি, সাতগাও চা বাগানের প্রতিমা দাস, সান্তনা বাড়াইক, গাজীপুর চা বাগানের অলোক কুমার গোয়ালা, আমরাইল চা বাগানের সুভাষ কর্মকার, টুম্পা তাঁতি, লালচান্দ চা বাগানের সন্ধ্যা রানী ভৌমিক ও সুমন মুন্ডা, ডালুছড়া চা বাগানের বর্মা মৃধা, কালাগুল চা বাগান সোহাগ ছত্রী, লস্করপুর চা বাগানের ভজন ভৌমিক, লালাখাল চা বাগানের মমিন মিয়া, চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফোরামের পরিমল সিং বাড়াইক, মতিলাল মুন্ডা প্রমুখ।
এর আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর লাল পতাকার মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। এতে শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এলাকার সহস্রাধিক চা-বাগানের শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও যুবকরা ব্যানার, ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ইউনূস সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি- আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে যদি চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত না করা হয়, তবে এই নির্বাচন কোনভাবেই অর্থবহ হবে না। একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য, লাঞ্ছনা ও শোষণের মধ্যে রেখে সংস্কার সম্ভব নয়।
সোহরাব হাসান বলেন, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে দেশের সকল চা-বাগান বন্ধ করে দিয়ে এই দাবি পূরণ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৮৫ বছর ধরে চলা চা শ্রমিকদের বঞ্চনা আর চলবে না। ভূমির অধিকার ও দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিসহ ১০ দফা দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে চা-শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান। রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে চা-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে সামনে এগিয়ে নেবে বলে জানান সংগঠনটির নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, চা-শ্রমিকের সন্তান যেন আর কুঁড়েঘরে বড় না হয়, যেন শিক্ষার আলো ছুঁয়ে যায় প্রতিটি পরিবার এই স্বপ্ন নিয়েই আজকের সম্মেলন। আজকের সম্মেলন চা-শ্রমিকদের সংগ্রামের এক নতুন সূচনা।
পরে কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রথম পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ঘোষণা করেন সংগঠনের উপদেষ্ঠা আব্দুল্লাহ কাফি রতন ।
কমিটি তালিকা হচ্ছে, উপদেষ্টা পরিষদে- আবদুল্লাহ কাফি রতন, সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, খন্দকার লুতফুর রহমান, পীযুষ চক্রবর্তী, নীলিমেস ঘোষ বলু, আনোয়ার হোসেন সুমন, খায়রুল হাছান, মাসুক মিয়া, সোহাগ ছত্রী, উত্তম কালোয়ার, সীতারাম অলমিক, পূরণ উরাং।
প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ, মিখা পিরেগু, প্রণব কুমার দেব, জিতেন ভৌমিক।
সভাপতি সবুজ তাঁতি, সহ সভাপতি সন্ধ্যা রানী ভৌমিক, কিরণ বাউরি, বর্মা মৃধা, বিলাস ব্যানার্জি, অশোক কুমার গোয়ালা, সুমন ঘোষ।
সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক, সহ সাধারণ সম্পাদক অনিমা অলমিক, বিশ্বজিত দাস, মোহন মাহালী, রীতা মৃধা, বিমল বাকতি।
সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মুন্ডা, লালচান্দ চা-বাগান। কোষাধ্যক্ষ কার্তিক নাইডু, কালিটি চা-বাগান। দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক, খাদিম চা-বাগান। আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ফজলুর রহমান শিপু। প্রচার, প্রকাশনা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিংকু ভৌমিক, লালচান্দ চা-বাগান। সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিমা বসাক, খাদিম চা-বাগান। সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মমিন মিয়া। ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক গৌতম রায় সাহিত্য, লালচান্দ চা-বাগান। ক্রীড়া সম্পাদক বকুল ভৌমিক, লালচান্দ চা-বাগান। আন্তর্জাতিক সম্পাদক: মিখা পিরেগু।
সদস্যদের তালিকা- গোপাল, রাজনগর চা-বাগান; সুশীতল গোয়ালা, ইন্দেশ্বর চা-বাগান; ওম প্রকাশ বাউরি, লালচান্দ চা-বাগান; রাজেশ ভূইয়া, সুনছড়া চা-বাগান; রিংকু গোয়ালা, লালাখাল চা-বাগান; প্রদীপ গাজিপুর চা-বাগান; রিন্টু গোয়ালা, লালখাল চা-বাগান; জয়কৃষ্ণ, মুরইছড়া চা-বাগান; ঠাকুর বোরহাননগর চা-বাগান; রতন ওরাং, আজগরাবাদ চা-বাগান; সত্যজিৎ ওরাং, মুরইছড়া চা-বাগান; রঞ্জিত মৃধা, ডালুছড়া চা-বাগান; অমিত নায়েক-খাদিম চা-বাগান; কমলা ভূইয়া, আলীনগর চা-বাগান; মিঠুন ওরাং, মিরতিংগা চা-বাগান; সজীব চন্দ্র দাস, তারাপাশা চা-বাগান; সিতোম দাস, রশিদপুর চা-বাগান।
সংগঠকরা হলেন- সুমন রবিদাস, আলীনগর চা-বাগান; রূপালী তাঁতী, খাদিম চা-বাগান; সরোজ তন্তুবায়, চন্ডি চা-বাগান; সাগর মাঝি, বেগমখান চা-বাগান; আপন ওরাং, দেউরাছড়া চা-বাগান; নিপু ভৌমিক, লালচান্দ চা-বাগান; কাজল তাঁতী, খাদিম চা-বাগান; ভারতী বাউরী, ডালুছড়া চা-বাগান; রিপন রায়, আলীবাহার চা-বাগান।