শিক্ষা দিবসে বগুড়া ও গাইবান্ধায় ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক: ‘শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করো, বৈষম্যের শেকড় উপড়ে ফেলো’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বগুড়া জেলা সংসদ ও গাইবান্ধা জেলা সংসদ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় বগুড়ার সাতমাথায় এবং সকাল ১১ টায় গাইবান্ধার রেলগেট সংলগ্ন জেলা কার্যালয়ে এ কর্মসূচিদ্বয়ের আয়োজন করে সংগঠনটি। বগুড়ায় অনুষ্ঠিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি বায়েজিদ রহমান এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক জয় ভৌমিক। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আফ্রিক হাসান প্রান্ত, জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা কমিটির সভাপতি আমিনুল ফরিদ। গাইবান্ধা জেলা সংসদের সহ-সভাপতি রুবেল শেখ-এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবির খান, দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ কুমার বর্মন, জেলা সংসদের সদস্য ইশরাত জাহান, দারিয়াপুর হাজী ওসমান গনি কলেজ শাখার সভাপতি মৌমিতা ফেরদৌসী দিশা প্রমুখ। পরে একটি মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। সমাবেশদ্বয়ে বক্তারা বলেন, শিক্ষা আন্দোলনের ছয় দশক অতিক্রম করলেও একটি বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, গণমুখী ও সবার জন্য সমান শিক্ষার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বরং শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে শিক্ষা ক্রমেই বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে এখনো শিক্ষার স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশের পরিবর্তে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ এখনো বিদ্যমান। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা দিবস শুধু অতীতের একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনকে স্মরণ করার দিন নয়; বরং বর্তমান সময়ে শিক্ষার অধিকার ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসার দিন। শিক্ষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরীফ শিক্ষা কমিশনের বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির প্রতিবাদ করতে গেলে মোস্তাফা বাবুল ওয়াজিউল্যাহসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র নিহত হন। তাদের এই ত্যাগকে স্মরণ করে এ দিনটিকে ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..