গণঅভ্যুত্থানের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সিপিবি-র দ্বান্দ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি
ডা. মনোজ দাশ
গণঅভ্যুত্থানের পরপরই সিপিবি গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকার মূল্যায়ন করে এবং গণঅভ্যুত্থানের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি চূড়ান্ত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে গণঅভ্যুত্থান-উত্তর পরিস্থিতিতে সিপিবি নীতিনিষ্ঠ ও দৃশ্যমানভাবে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। গণঅভ্যুত্থান-উত্তর পরিস্থিতিতে সিপিবি ও বামপন্থিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং এর গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট দ্বান্দিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলনের ফিরোজ আহমেদ এবং ফরহাদ মজহারসহ কিছু পতিত ও আওয়ামী ঘরানার বামপন্থি একপেশে-মনগড়া ও অন্যায্যভাবে সিপিবি ও বামপন্থিদের সমালোচনা করছেন। এজন্য গণঅভ্যুত্থান ও তার গতি-প্রকৃতি এবং রাজনৈতিক কর্তব্য সম্পর্কে সিপিবি-র দলগত দৃষ্টিভঙ্গির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সিপিবি মনে করে, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি সরকারের পতনের ঘটনা নয়; এটি ছিল দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদ, গণতন্ত্রহীনতা, দুর্নীতি, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ব্যাপক ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ছাত্র-যুবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এটি ছিল একটি অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক ঘটনা।
গণঅভ্যুত্থান জনগণের মধ্যে অনেক প্রত্যাশার জন্ম দেয় : এগুলির মধ্যে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু নির্বাচন, বৈষম্য হ্রাস, আইনের শাসন, দুর্নীতি-লুটপাট ও দলীয়করণের অবসান, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশ-সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন ছিল খুবই তাৎপর্যমণ্ডিত। কারণ এসব প্রত্যাশা ও দাবির মধ্য দিয়ে জনগণ শুধু শাসকের পরিবর্তন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।
সিপিবি গণঅভ্যুত্থানের সফলতা ও প্রাপ্তিকে যথার্থভাবে তুলে ধরে : সিপিবি মনে করে, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সফলতা ও প্রাপ্তি হচ্ছে, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পতন ঘটানো। ছাত্র-জনতা, বিশেষ করে তারুণ্যের জাগরণ বাংলাদেশে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গণঅভ্যুত্থান বিশাল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ও বুদ্ধিজীবীর মধ্যে যে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছিল, সাময়িক কিছু হতাশা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন মাত্রায় সক্রিয় আছেন, ভবিষ্যতে ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সংগ্রামে তাদের বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা আছে।
সিপিবি গণঅভ্যুত্থানের অন্তনির্হিত কিছু সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বলতাও চিহ্নিত করেছে : আন্দোলনে ব্যাপক সংখ্যক ছাত্র-তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও, এই আন্দোলন বিকশিত হয়েছিল মূলত স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে। ফলে অর্জিত বিজয়কে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় অগ্রসর করার জন্য আন্দোলনের মধ্যে কোনো দল বা সংগঠিত সামাজিক শ্রেণি স্থান করে নিতে পারেনি। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সাংগঠনিক ও ভাবাদর্শগত পার্থক্য ছিল। আন্দোলনে সিপিবিসহ বাম-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তি কতক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করলেও তারা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দলগত বা জোটগতভাবে দৃশ্যমান ও প্রত্যক্ষ কোনো বড় ভূমিকা রাখতে পারেনি। এজন্য গণঅভ্যুত্থান ও গণঅভ্যুত্থান-উত্তর পরিস্থিতিতে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তি প্রভাবক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। বিজয়কে ধারণ করার মতো জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক দল যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায়, সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা সফল হয়।
গণঅভ্যুত্থানের অপ্রাপ্তির দিকগুলোকে সিপিবি অনেক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে : গণঅভ্যুত্থানের পরও রাষ্ট্রের মৌলিক অর্থনৈতিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ ও তার শাসনকাঠামো টিকে ছিল সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, লুটেরা মাফিয়া ব্যবসায়ী এবং সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির সমর্থনে। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পতন ও নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও, ফ্যাসিবাদের আর্থ-সামাজিক ভিত্তি ও কাঠামো এখনও টিকে আছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এখনো অসম্পূর্ণ। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন হয়নি।
সিপিবি গণঅভ্যুত্থান-উত্তর সংস্কারের গতি-প্রকৃতি ক্ষেত্র-পরিসর ও তার অভিঘাত নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে : সিপিবি দৃঢ়তার সাথে বলেছে-সংস্কারের ক্ষেত্র ও পরিসর নির্ধারণের সময় খেয়াল রাখতে হবে সংস্কারের পরিসর যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। সংস্কারের নামে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের কোনো প্রতিক্রিয়াশীল বয়ানকে কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সংগঠনসমূহের সঙ্গে আলোচনা করে কেবলমাত্র ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে হবে।
গণঅভ্যুত্থান-উত্তর সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ন্যারেটিভ ও গণঅভ্যুত্থানের মর্মবস্তুবিরোধী ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে সিপিবি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে : সিপিবি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছে- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে, বিপ্লব হয়নি। ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ও আসেনি। একাত্তরের কাউন্টার হিসেবে দ্বিতীয় স্বাধীনতার ন্যারেটিভ সামনে আনা ইতিহাসকে উল্টে দেখার একটি ভয়ংকর স্থুল প্রচেষ্টা। এই প্রজেক্ট সফল হবে না। আওয়ামী ঘরানার সংকীর্ণ, ক্ষমতার স্বার্থে প্রচলন করা একপেশে, বিকৃত, অনেক ক্ষেত্রে মনগড়া, একতরফা ন্যারেটিভের মধ্যে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধকে দেখার সময়ও এখন শেষ হয়ে গিয়েছে। এজন্য এসব ন্যারেটিভ ও দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে এসে ইতিহাসের মার্কসীয় বস্তুবাদী অবস্থান থেকে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ইতিহাস, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বামপন্থিদের নিজস্ব ন্যারেটিভ সামনে আনা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সিপিবি যেমন গণঅভ্যুত্থানকে পেছন দিকে বা মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে পরিচালনা করার বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থেকেছে, তেমনি গণঅভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করারও বিরোধিতা করেছে। আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী ঘরানার বামপন্থিরা দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থান মার্কিন ডিপ স্টেটের চাল, এটা একটি ‘রেইনবো রেভল্যুশন’। অর্থাৎ তারা একটি ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে সামনে নিয়ে আসেন। আসলে ‘যেকোনো গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী নিজেদের অপরাধ ও অপশাসনকে ঢাকতে এসব ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দোহাই দেয়। বাস্তবতা হলো, কোনো দেশে যখন গণঅভ্যুত্থান ঘটে, তখন বিভিন্ন পরাশক্তি (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন বা রাশিয়া) পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করে। ...আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ভারত নিজের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করেই ভূমিকা রেখেছিল, তার মানে এই নয়, মুক্তিযুদ্ধ ভারতের চক্রান্তে হয়েছে। ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য শক্তি অবশ্যই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে এবং আন্দোলনকারীদের কোনো কোনো অংশকে নিজেদের পকেটে পুরতে চেয়েছে বা পুরেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, কোটি কোটি মানুষ যে রাজপথে নেমে এলো, কিংবা শত শত তরুণ যে প্রাণ দিল- তা মার্কিন চক্রান্তে হয়েছে।’
ফরহাদ মাজহার দাবি করেছেন, বামের একটি অংশ এখন গণঅভ্যুত্থানকে ‘মব’ এবং ইসলামি সন্ত্রাসের উত্থান বলে অপমান করছে। তাদের এই অবস্থান শুধু তরুণদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নয়; কার্যত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বয়ানের পুনরাবৃত্তি। সিপিবি দলগতাবে এই বিষয়টি একদেশদর্শী হিসেবে নয়, দ্বান্দিকভাবে দেখে। গণঅভ্যুত্থান-উত্তরকালে কিছু ক্ষেত্রে এটি ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থাকলেও, এটি প্রধানত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততা ও প্রশ্রয়ে অতি দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি কর্তৃক আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর আঘাত।
সংবিধান সংস্কার ও নতুন সংবিধান বিতর্কে সিপিবি তার বক্তব্য দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে : ফরহাদ মজহার বলেছেন- ‘বামের একটি বড় অংশ বাহাত্তরের সংবিধানকে প্রায় পবিত্র দলিল বানিয়ে ফেললো তারা সংবিধানের শ্রেণিচরিত্র, প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা এবং জনগণকে রাজনৈতিক কর্তা না বানানোর প্রশ্ন তুলল না। বরং বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সাংস্কৃতিক ভাষায় আওয়ামী রাষ্ট্রের লেজুড়বৃত্তি করল।’
সংবিধান বিতর্কে সিপিবি তার দলিলে স্পষ্ট করে বলেছে- ‘কোনো সংবিধানই চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে সংবিধানের সংস্কার ও সংশোধন হবে- এটাই স্বাভাবিক। আমরা চাইব সেই সংশোধনী যেন হয় প্রগতিমুখী। পরিবর্তন যেন সংবিধানকে উন্নত ও অধিকতর গণতান্ত্রিক করে তোলে। ...বর্তমান সংবিধানের অসম্পূর্ণতা দূর করা যেতে পারে, কিন্তু সংবিধানে প্রতিক্রিয়াশীল কোনো পরিবর্তনের অপচেষ্টা মেনে নেয়া হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রেণিগত চরিত্র-নীতি ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সিপিবি তার দৃষ্টিভঙ্গিকেই শুধু সুস্পষ্ট করেনি, একই সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে ও রাজপথে সোচ্চার থেকেছে। সিপিবি-র রাজনৈতিক প্রস্তাবে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড প্রশ্নে স্বাধীন নীতিনিষ্ঠ অবস্থান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সমালোচনা ও রাজপথে তীব্র সংগ্রাম পরিচালনা, প্রয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিপূরক আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করার আবশ্যকতার কথা বলা হয়েছে।
ফরহাদ মজহার দাবি করেছেন, ‘শেখ হাসিনার পতন জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার পতন আর রাষ্ট্র বদল এক কথা নয়। ... এই সহজ সত্য বাম ধরতে পারে নাই- অথবা ধরতে চায় নাই। ... এই মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল ক্ষমার অযোগ্য।’ আসল সত্য হচ্ছে, ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের উল্টোটাই করেছে সিপিবি।
‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সফলতা- ব্যর্থতা ও আগামী দিনের রাজনীতি’ প্রসঙ্গে সিপিবি স্পষ্ট করে তার রণকৌশল দলিলে বলেছে- আমাদের মনে রাখতে হবে যে, দেশে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, কোনো সমাজ বিপ্লব ঘটেনি। উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিকভাবে শ্রেণিতে শ্রেণিতে, মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমূল কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। সমাজব্যবস্থার বিপ্লবী পরিবর্তনের জন্য জনগণের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের এই চলমান সংগ্রামের ভেতর থেকে বামপন্থিরা শক্তি সঞ্চয় করবে এবং এক পর্যায়ে বামপন্থিদের নেতৃত্বেই হবে আরও শক্তি ও গভীরতাসম্পন্ন এক গণ-অভ্যুত্থান।
সিপিবির দৃষ্টিতে, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কোনো সমাপ্তি নয়; এটি গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সিপিবির দৃষ্টিতে কোনো গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হয়, যখন গণতন্ত্র কেবল ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক সমতা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের পথে অগ্রসর হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-নারীসহ সকল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য, ধারাবাহিক গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের প্রাথমিক সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ইতি ও নেতিবাচক সম্ভাবনা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিপিবি তার কর্তব্যও নির্ধারণ করেছে।
‘গণঅভ্যুত্থান-উত্তর সময়ে ফ্যাসিবাদের টিকে থাকা ভিত্তি– লুটেরা বুর্জোয়া ও সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের লুটপাট, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের অভিঘাত, সাম্প্রদায়িক শক্তির অপতৎপরতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা’ বনাম ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং বাংলাদেশের জাতীয় ও জনগণের মৌলিক স্বার্থের দ্বন্দ্বের কমপ্লেক্স অফ কমপ্লেক্সিটিই’ বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে।
এজন্য সিপিবি-র স্পষ্ট কথা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও গণ-অভ্যুত্থানের ন্যায্যতা-আকাঙ্ক্ষা ও ইতিবাচক দিকগুলোর পক্ষে আমাদের দাঁড়িয়ে, আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, একই সাথে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকসহ চরম ডানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির আস্ফালনসহ নেতিবাচক দিকগুলোকে মোকাবিলা করতে হবে। কেবলমাত্র শোষণ-দুর্নীতি-বৈষম্যবিরোধী, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জয়ী হওয়ার মাধ্যমেই এসব দ্বন্দ্বের কমপ্লেক্স অফ কমপ্লেক্সিটির সমাধানের সূত্রপাত হতে পারে।
‘পার্টি গড়ে তোলা, ফ্রন্ট গড়ে তোলা, সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কাজ ও সংগ্রাম গড়ে তোলা’ নীতির ভিত্তিতে বাম গণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রথম পাতা
জ্বালানি খাতে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি নির্ভরতা কমাও
সংসদে নয়, চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাবে রাজপথে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা
আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি
তীব্র গ্যাস সংকট এলএনজি আমদানির চক্রান্তের অংশ
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিসহ সাম্রাজ্যবাদী সব চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান
নোটিশ
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান সরকারি উদ্যোগে আধুনিকায়ন ও চালুর দাবি
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন