ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে
একতা বিদেশ ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি কয়েক দশক ধরে মনে করত, তারাই মুসলিমদের আস্থার একমাত্র ভরসাস্থল। কিন্তু ইতিমধ্যেই তারা সেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এমন অবস্থায় কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হলে দলটির নেতৃত্ব পাবেন অ্যান্ডি বার্নহাম।
অ্যান্ডি বার্নহামের বোঝা উচিত, মসজিদে গিয়ে ছবি তুলে, ইফতার বা ঈদের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কিংবা কিছু গতানুগতিক আশ্বাস দিয়ে মুসলিমদের সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে না। যে আস্থা নষ্ট হয়েছে কাজের মাধ্যমে, তা শুধু কাজের মাধ্যমেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আস্থা হারানোর এই বিষয় একেবারেই কথার কথা নয়। এটি হাতেনাতে প্রমাণিত। ২০১৯ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি মুসলিমদের ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে এটি কমে ৬০ শতাংশের কাছাকাছি এসে থামে। বিশেষ করে যেসব আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি, এমন ২১টি নির্বাচনী এলাকায় দলটির ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির তৎকালীন পাঁচজন এমপি গাজার সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন। আরও কয়েকজন লেবার দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) অল্প কয়েক শ ভোটের ব্যবধানে টিকে যান।
মুসলিমদের এই প্রতিবাদ সাময়িক কোনো বিষয় ছিল না, যা সহজেই মুছে যাবে। গত এপ্রিলের জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টির প্রতি মুসলিমদের সমর্থন এখন মাত্র ৩৩ শতাংশ। লেবার পার্টিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন মুসলিম ভোটার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিতে রাজি। লেবার পার্টি মুসলিমদের ভোটারদের কাছে টানতে পারছে না। উল্টো দলটির সঙ্গে প্রতিনিয়ত তাদের দূরত্ব বাড়ছে।
অ্যান্ড বার্নহ্যামের উচিত নিজেকে সৎভাবে প্রশ্ন করা–কেন এমন হচ্ছে?
গাজার যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই মূলত এই দূরত্বের শুরু। কিয়ার স্টারমার একসময় বলেছিলেন, অবরুদ্ধ গাজার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অনেক মুসলিম এই বক্তব্যকে ফিলিস্তিনিদের সম্মিলিতভাবে শাস্তি দেওয়ার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখেছেন।
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন