
একতা বিদেশ ডেস্ক :
নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। গত এক সপ্তাহে ইউরোপের অন্তত ১০টি দেশের জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে,২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে শুধু স্পেনেই মারা গেছে এক হাজারের বেশি। যুক্তরাজ্যে আনুমানিক ৮৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া জুন মাসে ফ্রান্সেও মারা গেছেন বহু মানুষ।
ইউরোপ এবার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহগুলোর একটির মুখোমুখি। মাত্র এক সপ্তাহে অন্তত ১০টি দেশের জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে।
জুন মাসেই যুক্তরাজ্য, স্পেন আর ফ্রান্সে তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। যুক্তয়ারজ্যের এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য মতে, শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ইউরোপজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, গত চার বছরে ইউরোপে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত গরমে। যার বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য ছিল বলে মনে করছে সংস্থাটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হওয়া মহাদেশগুলোর একটি। আর এই গরম থেকে বাঁচতে এসি ব্যাবহারের দিকে ঝুঁকছে ইউরোপের দেশগুলো।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ার কন্ডিশনিং একদিকে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। অন্যদিকে এর ব্যাপক ব্যবহার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়িয়ে ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকটকে আরও নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে।
এদিকে তাপপ্রবাহের প্রভাব ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে আটলান্টিকের ওপারেও। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলজুড়ে এখন তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে, যেখানে কয়েক লাখ মানুষ সর্বচ্চ হিট অ্যালার্টের আওতায়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে তাপমাত্রা এরই মধ্যে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। তবে উচ্চ আদ্রতার কারণে রিয়েল-ফিল তাপমাত্রা পৌঁছাচ্ছে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
এদিকে জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে পানিতে ডুবে ৩০ জনের বেশি মারা গেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই তাপপ্রবাহের মধ্যে নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটতে যান; যদিও জার্মানিতে এ ধরনের ঘটনা বিরল। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পুরুষ। রয়েছে কয়েকজন কিশোরও।
জার্মানির জীবন রক্ষা সংস্থার (ডিএলআরজি) তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রচণ্ড গরমে এ পর্যন্ত গোসল বা সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।