বইছে শৈত্যপ্রবাহ, কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ধরে দেশের বেশির ভাগ স্থান ছিল কুয়াশায় আচ্ছন্ন। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে কুয়াশা কিছুটা কমেছে। তাপমাত্রাও কমেছে বলে কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৩১ ডিসেম্বর সকালে এবারের শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে। আর দেশের দুই বিভাগসহ মোট ২১ জেলায় আজ বইছে শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এই তাপমাত্রা কমে যাওয়ার প্রবণতা আরও কিছুদিন থাকতে পারে। পরে, অবশ্য রাজধানীতে তাপমাত্রা গতকালের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গোপালগঞ্জের এই তাপমাত্রা এ মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। খুলনা ও বরিশাল বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এ ছাড়া মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জেও শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে ওই এলাকার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, খুলনা ও বরিশালে জেলার সংখ্যা ১৬। আর এই ৫ জেলা মিলিয়ে মোট ২১ জেলায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বইছে। কিছুদিন এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কুয়াশা কমে যেতে পারে। যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ঠাকুরগাঁও : জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় কনকনে শীতের তীব্রতায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কাজে বের হতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রিকশা ও ভ্যানশ্রমিকরাও যাত্রী সংকটে পড়েছেন, ফলে তাদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ। প্রচণ্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পঞ্চগড় : উত্তরের সর্বশেষ জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গত দুই দিন ধরে সূর্য মেঘের আড়ালে থাকায় এবং হিমেল বাতাস বইতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে গরিব ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের শীতকবলিত মানুষের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে আরও শীতবস্ত্র সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় গত তিন দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা এবং শীতের তীব্রতা বিরাজ করছে। গত ৩০ ডিসেম্বর সকালেও আকাশ মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকার কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা ও শিশিরে ভিজে অধিকাংশ সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দিনের বেলাতেও যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..