সরবরাহ সংকটের অজুহাতে এলপি গ্যাস নিয়ে নৈরাজ্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম। গৃহস্থালিতে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। এই সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ২০০ টাকা হলেও কয়েকশ টাকা বেশি দিয়েও মিলছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। ভোক্তাদের অভিযোগ, গত সপ্তাহ ধরেই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে গ্যাসের দাম। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো পদেক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ফলে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে অতি মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে বিক্রেতাদের দাবি, শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। উৎপাদনও কম হয়। বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির এলপিজি সরবরাহ করছে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে প্রভাব পড়ছে বলে জানান তারা। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, জাহাজ সংকটে গ্যাসের আমদানি কমেছে ৩০ ভাগ। ফলে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দামের বিষয়টি নজরে আসায় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে বিইআরসি এলপিজির দাম ঠিক করে দিলেও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিইআরসির কোনো পদক্ষেপ না থাকা নিয়ে সমালোচনা বহুদিনের। বাজার নজরদারির সামর্থ্য না থাকার কথা বিইআরসি কর্মকর্তারা বলে আসছেন। বিভিন্ন সময় তারা জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে নজরদারির অনুরোধ করে দায়িত্ব সারছেন। তবে তাদের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের আরও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বাজার নিয়ন্ত্রণে বইআরসির ব্যর্থতা স্পষ্ট উল্লেখ করে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সরবরাহ না থাকলেও বেশি দামে তো ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বেশি দামে বিক্রি আইনত অপরাধ। বিইআরসি সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছে না। ‘এ সংস্থাটির প্রতি ভোক্তার অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের কোনো দপ্তর বাড়তি দামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোনো সভ্য সমাজে এটা হতে পারে না,’ বলেন তিনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..