লেজেগোবরে
একতা প্রতিবেদক :
দিলশান বেগম জেলা শহরের বাসিন্দা। এ মাসের শুরুতে হঠাৎ করেই তার বাসায় গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। প্রথম কয়েকদিন হোটেলে থেকে খাবার কিনে এনে খান। পরে যখন দেখলেন খরচ আর কুলাতে পারছেন না, তারপরেই বিদ্যুৎ দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখা গেল, বিদ্যুতের অবস্থাও খারাপ। এই আছে তো এই নাই। একবার গেলে আবার কখন আসবে- তারও কোনো ঠিক-ঠিকানা নাই। ভাত রান্না করলেও তরকারি রান্না করতে পারেন না। ফলে গ্যাস আর বিদ্যুৎ সমস্যায় তিনি ও তার পরিবারের একেবারে নাকাল অবস্থা। কিন্তু তিনি আর কী করতে পারেন?
এতসব চিন্তা করলেও সেজন্য তো মাথা ঠান্ডা থাকা লাগে। কিন্তু মাথা ঠান্ডা করার জন্য যে ফ্যান চালাবেন বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাবেন- সেই ব্যবস্থাও নাই।
এর মধ্যে আবার সরকার বলছে, ‘অপেক্ষা করেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ সরকার নতুন এসেছে, মাত্র মাস ছয়েক হয়েছে, তার মধ্যেই এই লেজেগোবরে অবস্থা!
দিলশান বেগম রাজনীতি বুঝেন না। তার দরকার ভাত রান্নার গ্যাস আর এই গরমে মাথা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা। এর কোনোটাই তিনি পাচ্ছেন না। ফলে পরিবারের ভাতের জোগান দিতে গিয়ে তার অবস্থাও লেজেগোবরে।
দিলশানের স্বামীর ছাপাখানার ব্যবসা। কিন্তু বিদ্যুৎ না পেয়ে তার ব্যবসাও বন্ধ। ফলে তারও লোকসানে লোকসানে মাথা গরম। দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, গ্রাহকের মালামাল সরবরাহ করতে গিয়ে তার অবস্থাও লেজেগোবরে!
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন