দ্রুত নির্বাচনের প্রশ্নে টালবাহানা আর নয়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পর্যবেক্ষক : সম্প্রতি নানা ঘটনায় দেশবাসী বিস্মিত হতবাক হয়ে গেছেন। দেখা যাচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে অপরাধী বানিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অতঃপর যারাই অপরাধ সংগঠিত করলেন তাদের বিরুদ্ধে কিছু না বলে পুনরায় নিরাপরাধ ব্যক্তিদের সন্ত্রাসী সাজিয়ে কারাগারে ভরা হচ্ছে। সকলেই জানেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আর যাই হোক আওয়ামী স্বৈরাচারী আমলেই তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক কার্জনকে আর যাই বলা হোক না কেন তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লীগ দলের দোসর বলা যাবে না। একসময় তিনি হয়তো বাকশালের সদস্য হয়েছিলেন বলে শোনা যায়। সেটা তো তখন অনেকেই হয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজ্জাককে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে এসে বাকশাল নতুন করে গঠন করতে হয়েছিল। তখন কার্জনসহ অনেকেই তাতে যোগ দিয়েছিলেন। এবার রিপোর্টার্স ইউনিটের যে সভাটি ‘৭১ মঞ্চ’ থেকে ডাকা হয়েছিল তার মূল উদ্দেশ্য স্বৈরাচারের প্রত্যাবাসন বা বাকশালের পুনরুজ্জীবন ছিল না। সেখানে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে লেখা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করা। এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ। এ কথা কি ঠিক নয় যে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধ টি ছিল গণযুদ্ধ? এ কথা কি ঠিক নয় এটা ‘ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা’ বা ‘সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র’ ভেঙ্গে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তিতে স্বাধীন গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এতে মুষ্টিমেয় দালাল ও যুদ্ধাপরাধী ধর্মভিত্তিক দলগুলি ও কতিপয় চীনপন্থী বামই শুধু বিরোধিতা করেছিল। এই কথা ঠিক এর পরে বুড়িগঙ্গায় অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতি করে ‘১৯৪৭-এ দেশ প্রথম স্বাধীনতা অর্জন করেছে’ অথবা সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাতিল করে সেখানে নিছক বহুত্ববাদের প্রতিস্থাপন অথবা ‘জুলাই অভ্যুত্থান’কে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ আখ্যা দেয়া এগুলি সবই হচ্ছে ইতিহাসের বিকৃতি। সুতরাং এগুলির পাশাপাশি ইউনূস সরকারের আমলেই টাকা পাচারকারী বা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিচার ও শাস্তি তো দেয়া সম্ভব হলই না উপরন্ত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের (২০০০ জন) ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের আয়োজন অব্যাহত হতে দেখা যাচ্ছে। বন্দর ও করিডোর নিয়েও নানা বিদেশমুখীন বিতর্কিত চুক্তি ও যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে। অতএব এইসব নিয়ে দেশবাসী হতাশ তাদের প্রত্যাশা ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। তাদের কথা– এখন দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। কথায় আছে– ‘ভিক্ষা চাই না কুকুর সামলাও’।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..