জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি সিপিবির
একতা প্রতিবেদক:
২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স গত ২৫ আগস্ট এক বিবৃতিতে ফুলবাড়ী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্দোলনকারীদের প্রতি লাল সালাম জানিয়ে জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার এবং ফুলবাড়ী চুক্তির ৬ দফার পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৬ আগস্ট ২০০৬, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এলাকা, জমি, জেলা, জনপদ ও জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। আন্দোলনরত অবস্থায় সেদিন সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন আমিন, সালেকিন, তরিকুল। গুরুতর জখম হন বাবলু, প্রদীপ, শ্রীমন। এছাড়া দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন কাটাচ্ছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনে এটি একটি অনন্য দিন। দীর্ঘ সংগ্রামের পটভূমিতে ঐদিন দেশের কয়লা সম্পদ, স্থানীয় জমি-জলা, জনবসতি পরিবেশ রক্ষায় লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘উন্মুক্ত না, বিদেশি না, রপ্তানি না’। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায় ঘোষিত হয় দেশের গ্যাস, তেল, কয়লাসহ সব সম্পদের ওপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে, জনস্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানি, দেশি-বিদেশি কমিশনভোগীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে। অভ্যুত্থানের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এশিয়া এনার্জি নানাভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ষড়যন্ত্র থামেনি। বরং নতুন করে ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন নেতারা।
সিপিবি নেতারা বলেন, বিগত দিনে দেশের সমুদ্রের গ্যাস সম্পদ অসম চুক্তিতে সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানিকে দেওয়া, চট্টগ্রাম বন্দর বেসরকারি মালিকানায় দিয়ে লুটপাটের আয়োজন চলছিল। এ সময়েও বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির তৎপরতা অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। রাখাইনে করিডোর দেওয়ার নামে এ অঞ্চলের সাম্রাজ্যবাদী অপতৎপরতার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। দেশের মাটিতে বিদেশীদের সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ম্রাজ্যবাদের সাথে বাণিজ্য চুক্তির নামে গোপন চুক্তি করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক ঘটনাবলি দেশকে সাম্রাজ্যবাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলার প্রচেষ্টা চলছে। তাই দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষা, দেশকে সাম্রাজ্যবাদের ছোবল থেকে মুক্ত রাখতে এই মুহূর্তে মুহূর্তেও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই জনদাবি বাস্তবায়নে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
শেষের পাতা
দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবি
বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গণমুখী পরিকল্পনা
জনমনে ন্যূনতম আস্থা সৃষ্টি হওয়ার মতো উদ্যোগ নেই সরকারের
চা-শ্রমিকদের আন্দোলনে ১৩৫ নাগরিকের সংহতি
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান লিজের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তার দাবি কৃষক সমিতির
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন