
একতা প্রতিবেদক :
বামপন্থি ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের টাঙানো একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত রাজাকারদের ছবি গুটিয়ে নিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমকে সেসব ছবি সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করে স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির (পূর্বনাম ছাত্রসংঘ)। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ও মানবতা অপরাধে দ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী স্বীকৃত রাজাকার আলবদরদের চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। পরবর্তীতে জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-(বিসিএল), ছাত্র ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
এসময় বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং এই প্রদর্শনী বন্ধের দাবি করেন। তারা বলেন, স্বাধীনতা আমাদের স্মম্ভ। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী কোনো সংগঠনের কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলতে পারে না। ঢাবি ক্যাম্পাসে কোনো রাজাকারের ঠাঁই হবে না।
শিবির বহিরাগত শিক্ষার্থীদের এনে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। একাত্তরে ঘাতক হিসেবে পরিচিত এমন একটি সংগঠন কিভাবে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি করে, ঢাবি প্রক্টরকে এমন প্রশ্ন করেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা। ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিম পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।
স্লোগান দেওয়ার সময় ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হাসান অনয় বলেন, ছাত্রশিবিরের আয়োজনে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশের মাটিতে কোন রাজাকার, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর রাজনীতি মেনে নিব না। এসময় তিনি ছাত্রদের তাদের সংগ্রামে একাত্মতা পোষণ করার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে ঢাবি ক্যাম্পাসে সকল বামপন্থি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন মিলে বিক্ষোভ মিছিল করে। ‘আমার সোনার বাংলায় আলবদরের ঠাই নাই,’ ‘জামায়াত-শিবির-রাজাকার এই মুর্হুতে বাংলা ছাড়,’ ‘পাকিস্তানের পেতাত্মা পাকিস্তানে ফেরত যা’ ‘জামায়াত-শিবির পাকিস্তানি তুমিও জানো আমিও জানি’, ‘শহীদ রিজভী-মুক্ত শেষ হয়নি যুদ্ধ’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঢাবিতে চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনীর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্ট। এসময় তারা রাজাকারের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করে। এছাড়াও, ছাত্র ইউনিয়ন রংপুর জেলা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, শিবিরের এরকম ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাবি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। রাজাকারদের ছবি টাঙিয়ে স্বাধীনতাকে অপমান করেছে বলে জানান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীর নাম ও ছবি প্রদর্শনীর নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।