মহিলা পরিষদের উদ্যোগে কবি সুফিয়া কামালের প্রয়াণ দিবস পালন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নারীমুক্তি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালের ২৬তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ২০ নভেম্বর আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কবি সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মহিলা পরিষদের নেত্রীবৃন্দ ও আগত অতিথিবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংগীত পরিবেশ করেন মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্যরা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের অন্যতম সুহৃদ, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এবং কবি কন্যা সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সুফিয়া কামাল শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি আছেন আমাদের চিন্তায়, আমাদের মননশীলতায়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর মত সুফিয়া কামাল নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন যা তাঁর একক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। তিনি সবসময় বলতেন আমি আমার বিবেকের কথা শুনে চলি। এই যে বিবেকের কথা শোনা ও নিজের বিবেক কে ঠিক রাখা এটা একটা বড় কঠিন সংগ্রাম। এই একবিংশ শতাব্দীতে মানবিক সমাজ তৈরির কাজকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে জানতে হবে, বিবেক বোধ থাকতে হবে এবং নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আসলে আমরা তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিবস কোন টাই পালন করিনা, আমরা তাঁর জীবনকেই উদযাপন করি। একটা শতাব্দীব্যাপী জীবনকালে তিনি মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে লড়েছেন, লড়েছেন পাকিস্থান ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এবং লড়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য। তাঁর জীবন পর্যালোচনা করে দেখা যায় এইসময়ে এক রক্ষণশীল পরিবারের খোলস থেকে বের হয়ে নিজেকে শিক্ষিত করে; নিজের সাহিত্য প্রতিভাকে বিকাশ ঘটিয়ে, মানবিকতা বোধ-এর বিকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়ে একজন অতিসাধারণ মানুষ থেকে নেতৃত্ব দেয়ার পর্যায়ে চলে আসেন-যা বিস্ময় জাগানোর মত, শুধু তাই নয় তিনি একা আসেন নি অনেক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আসেন- তার এই পরিবর্তন সমাজ পরিবর্তনের কাজের মধ্য দিয়ে হয়েছে। তিনি এসময় আরো বলেন, বর্তমান সময়ে এসে অনুভব করি যেকোনো পরিস্থিতি বিশ্লেষণের একটা অসাধারণ ক্ষমতা ছিলো তার। যে বিশ্লেষণ হতো অত্যন্ত সঠিক এবং কার্যকর, সেই বিশ্লেষণ থেকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করতেন। ফলে তার বহুমাত্রিক কাজের সাথে বহুধরণের মানুষ অর্থাৎ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সকলে শামিল হয়েছেন। অন্যদিকে তিনি তাঁর সংগ্রামমুখর জীবনে ছিলেন অসম্ভব রকমের ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এবং কবি কন্যা সুলতানা কামাল বলেন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ হয়েও আবার অসাধারণ হয়ে উঠতে পারতেন সকলের মাঝে। জীবনের চলার পথে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি নতুন করে ভাবতে পারতেন, নতুন করে কাজ করতে পারতেন। স্রোতের বিপরীতে চলতে যেয়ে তিনি জীবনভর নানামুখী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছেন। এসময় তিনি আরো বলেন সর্বজনীন মঙ্গলের জন্য সবসময় তিনি সকলকে সাথে কাজ করে গেছেন। সমাজ তৈরির কাজে বেশি বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রায় ২০ টির মত সংগঠন গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। তিনি সবসময় বলতেন পুরুষদের বাদ দিয়ে নারীমুক্তি সম্ভব নয়, আর নারীমুক্তি না হলে মানবমুক্তি হবেনা। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, ঢাকাস্থ জাতীয় পরিষদ সদস্য, সম্পাদকমণ্ডলী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..