
সমসাময়িক বামপন্থি রাজনীতির অন্যতম বড় সংকট কেবল সাংগঠনিক দুর্বলতা নয়; বরং আদর্শ, তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক অনুশীলনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা। এই বিচ্ছিন্নতার ফলেই এমন এক শ্রেণির রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবী বা তথাকথিত ‘তাত্ত্বিক পীর’-এর আবির্ভাব ঘটেছে, যারা নিজেদের মার্কসবাদী বা কমিউনিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। তারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কিংবা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশীদার হতে চান না; কিন্তু লেখালেখি, বক্তৃতা, টেলিভিশনের আলোচনাসভা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মার্কসবাদের প্রধান ব্যাখ্যাকার হিসেবে তুলে ধরেন। এই প্রবণতা কেবল একটি ব্যক্তিগত অবস্থান নয়; বরং এটি বামপন্থি রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শিক সংকট।
মার্কসবাদকে যদি কেবল কিছু তাত্ত্বিক ধারণা, উদ্ধৃতি বা দার্শনিক বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবে তার বিপ্লবী চরিত্র হারিয়ে যায়। মার্কসবাদ মূলত একটি বৈজ্ঞানিক সমাজবিশ্লেষণের পদ্ধতি এবং একই সঙ্গে সমাজ পরিবর্তনের কর্মসূচি। এটি কেবল পৃথিবীকে বোঝার দর্শন নয়, বরং পৃথিবীকে পরিবর্তনের দর্শন। এই কারণেই কার্ল মার্কস তাঁর বিখ্যাত থিসিস অন ফয়ারবাখ-এ লিখেছিলেন, “দার্শনিকরা এতদিন পৃথিবীকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; কিন্তু মূল কাজ হলো পৃথিবীকে পরিবর্তন করা।” এই বক্তব্যে মার্কস যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তা হলো– তত্ত্ব তখনই অর্থবহ, যখন তা বাস্তব রাজনৈতিক কর্মে রূপান্তরিত হয়।
মার্কসবাদের ভাষায় এই তত্ত্ব ও কর্মের ঐক্যকে বলা হয় ‘প্র্যাক্সিস’। অর্থাৎ, চিন্তা ও বাস্তব সংগ্রাম পরস্পরের পরিপূরক। কেবল বই পড়ে বা বক্তৃতা দিয়ে মার্কসবাদী হওয়া যায় না; আবার কেবল আন্দোলন করেও মার্কসবাদের গভীরতা অর্জন সম্ভব নয়। এই দুইয়ের সমন্বয়ই প্রকৃত মার্কসবাদী রাজনীতির ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান সময়ে এমন অনেকেই আছেন, যারা এই ‘প্র্যাক্সিসের’ ধারণাকে উপেক্ষা করে মার্কসবাদের কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক অংশটুকু গ্রহণ করেছেন। ফলে তারা সমাজ পরিবর্তনের বাস্তব সংগ্রাম থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
এই বিচ্ছিন্নতার একটি কারণ হলো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে রাজনৈতিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এখন একজন ব্যক্তি কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও নিয়মিত রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করে হাজার হাজার অনুসারী অর্জন করতে পারেন। ধীরে ধীরে অনুসারীর সংখ্যাই যেন রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অনুসারীর সংখ্যা কখনোই রাজনৈতিক সংগঠনের বিকল্প হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক আন্দোলন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনে সংগঠিত শক্তির মাধ্যমে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার মাধ্যমে নয়।
দর্শনের ইতিহাসেও ব্যক্তি ও সংগঠনের এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। অস্তিত্ববাদী দার্শনিক জঁ-পল সাত্রে ব্যক্তির স্বাধীনতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মানুষ নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেই দায়ী এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের অধীন হওয়া তার স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু মার্কসবাদ এই প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে। মার্কসবাদ মনে করে, মানুষ একটি সামাজিক সত্তা। তার স্বাধীনতা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নয়; বরং সামাজিক সম্পর্ক, উৎপাদনব্যবস্থা এবং শ্রেণিগত অবস্থানের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। ফলে সামাজিক মুক্তি অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সংগঠিত জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম।
এই কারণেই মার্কসবাদ রাজনৈতিক সংগঠনকে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে দেখে না; বরং শ্রেণিসংগ্রামের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে। একটি বিপ্লবী সংগঠন শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুবক এবং অন্যান্য শোষিত জনগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্ন আন্দোলনকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্যে পরিচালিত করে। সংগঠনই তত্ত্বকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করে এবং আন্দোলনকে ধারাবাহিকতা প্রদান করে। ইতিহাসে কোনো বড় সামাজিক পরিবর্তনই সংগঠন ছাড়া সম্ভব হয়নি।
কমরেড লেনিন এই বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কেবল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি। রাষ্ট্রের প্রশাসন, আইন, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম এবং শিক্ষা–সবকিছুই বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা পালন করে। তাই এই শক্তিকে মোকাবিলা করতে হলে বিপ্লবী আন্দোলনকেও সুসংগঠিত, আদর্শনিষ্ঠ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে। এই প্রয়োজন থেকেই লেনিন ক্যাডারভিত্তিক বিপ্লবী দলের ধারণা বিকাশ করেন।
অনেকে এই সংগঠনভিত্তিক রাজনীতিকে ব্যক্তি-স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলে সমালোচনা করেন। কিন্তু মার্কসবাদ সংগঠনের অন্ধ আনুগত্য শেখায় না। বরং গণতান্ত্রিক আলোচনা, সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়। সংগঠনের ভেতরে মতভেদ থাকতে পারে, বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সম্মিলিতভাবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাই রাজনৈতিক শৃঙ্খলার মূল ভিত্তি।
বর্তমান সময়ে কিছু তথাকথিত বামপন্থি বুদ্ধিজীবী সংগঠনের সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ সংগঠনবিমুখ অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা মনে করেন, স্বাধীন চিন্তাবিদ হিসেবে অবস্থান নেওয়াই অধিকতর বিপ্লবী। কিন্তু বাস্তবে এই অবস্থান প্রায়ই রাজনৈতিক দায়িত্ব এড়ানোর পথ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নিয়মিত গণসংযোগ, সাংগঠনিক দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকারের প্রয়োজন হয়। সংগঠনের বাইরে থেকে এসব দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে বিপ্লবের ভাষণ দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।
ফলে এক ধরনের বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়। বক্তৃতায় বিপ্লব, লেখায় শ্রেণিসংগ্রাম, আলোচনায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্ব– সবই উপস্থিত থাকে; কিন্তু বাস্তবে শ্রমিকের ধর্মঘট, কৃষকের আন্দোলন, ছাত্রদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কিংবা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মাঠে সেই মানুষদের দেখা যায় না। কথার সঙ্গে কাজের এই দূরত্বই তথাকথিত ‘তাত্ত্বিক পীর’-দের রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এই প্রসঙ্গে ইতালীয় মার্কসবাদী চিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামশির ভাবনা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। গ্রামশি তাঁর প্রিজন’স নোটবুক-এ ‘অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল’ বা ‘জৈব বুদ্ধিজীবী’-র ধারণা উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, প্রকৃত বুদ্ধিজীবী সেই ব্যক্তি নন যিনি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল তত্ত্বচর্চা করেন; বরং তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি জনগণের জীবন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে চিন্তার বিকাশ ঘটান। অর্থাৎ একজন মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবীর কাজ কেবল বিশ্লেষণ করা নয়; তিনি সংগঠক, শিক্ষাবিদ এবং সংগ্রামের অংশগ্রহণকারীও। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে সংগঠনবিমুখ বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান মার্কসবাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ কথা সত্য যে রাজনৈতিক সংগঠন সবসময় নিখুঁত হয় না। আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা, মতপার্থক্য, নেতৃত্বের ভুল কিংবা আদর্শগত বিচ্যুতি– এসব সমস্যা ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা সংগঠন ত্যাগের যুক্তি হতে পারে না। বরং মার্কসবাদ শেখায় যে সংগঠনের ভেতরেই গণতান্ত্রিক সমালোচনা, আত্মসমালোচনা এবং আদর্শিক সংগ্রামের মাধ্যমে সংশোধনের পথ খুঁজে নিতে হবে। সংগঠনের দুর্বলতা দূর করার কাজও সংগঠিত রাজনীতিরই অংশ।
বাস্তবে দেখা যায়, অনেক তথাকথিত স্বাধীন বামপন্থি চিন্তাবিদ সংগঠনের সমালোচনায় যতটা সোচ্চার, বিকল্প সংগঠন নির্মাণে ততটাই অনাগ্রহী। তারা বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন, কিন্তু জনগণকে সংগঠিত করার কোনো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেন না। এর ফলে তাদের সমালোচনা অনেক সময় রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত না হয়ে কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক অসন্তোষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য নিজেই অনেক সময় একটি পণ্য বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের উপকরণে পরিণত হয়। বিপ্লবী ভাষা, তাত্ত্বিক উদ্ধৃতি কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। কিন্তু জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক কার্যকারিতা এক জিনিস নয়। একটি পোস্ট, একটি বক্তৃতা বা একটি টেলিভিশন বিতর্ক কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কাজের বিকল্প হতে পারে না। কারণ ইতিহাসে কোনো শোষণব্যবস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কে পরাজিত হয়নি; তা পরাজিত হয়েছে সংগঠিত জনগণের রাজনৈতিক সংগ্রামে।
প্রকৃত মার্কসবাদী রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক। শ্রমিকের কর্মক্ষেত্র, কৃষকের জমি, শিক্ষার্থীর শিক্ষাঙ্গণ, নারীর অধিকার, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন– এসব ক্ষেত্রেই একজন মার্কসবাদীর উপস্থিতি দৃশ্যমান হওয়া উচিত। মানুষের বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল তাত্ত্বিক উচ্চারণ শেষ পর্যন্ত আত্মতুষ্টির জন্ম দেয়; সমাজ পরিবর্তনের শক্তি সৃষ্টি করে না।
একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং একজন রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীর মধ্যে কোনো কৃত্রিম বিভাজনও মার্কসবাদ স্বীকার করে না। বরং একজন আদর্শ মার্কসবাদী একই সঙ্গে চিন্তাশীল, সংগঠক এবং সংগ্রামী। তিনি বই পড়েন, কারণ বাস্তবতাকে বুঝতে চান; আবার মানুষের মধ্যে কাজ করেন, কারণ সেই বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে চান। এই দুইয়ের সমন্বয়ই মার্কসবাদকে অন্য অনেক রাজনৈতিক দর্শন থেকে আলাদা করে।
আজ যখন বৈষম্য, বেকারত্ব, শ্রমের অনিশ্চয়তা, করপোরেট পুঁজির আধিপত্য এবং গণতান্ত্রিক সংকোচন বিশ্বজুড়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তখন বামপন্থি রাজনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে তাত্ত্বিক চর্চা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই চর্চাকে অবশ্যই সংগঠন, গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় মার্কসবাদ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি, সেমিনারের আলোচ্য বিষয় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উদ্ধৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
সুতরাং আজ প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে ব্যক্তিগত খ্যাতির চেয়ে সমষ্টিগত নেতৃত্ব, বাগ্মিতার চেয়ে গণসংগঠন, এবং আত্মপ্রচারের চেয়ে জনগণের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক কর্মীদের আদর্শিক শিক্ষার পাশাপাশি বুদ্ধিজীবীদেরও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কারণ সংগঠন ছাড়া আদর্শ শক্তি অর্জন করে না, আর জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বিপ্লবী রাজনীতি ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি।
সবশেষে বলা যায়, মার্কসবাদের প্রকৃত শক্তি কেবল চিন্তায় নয়, কর্মে; কেবল ভাষণে নয়, সংগঠিত সংগ্রামে; কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, সমষ্টিগত রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায়। নিজেকে কমিউনিস্ট বা বামপন্থি বলে দাবি করাই যথেষ্ট নয়; সেই দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে, সংগঠনের শৃঙ্খলা মেনে চলার মধ্য দিয়ে এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। আদর্শ, সংগঠন, শৃঙ্খলা, আত্মসমালোচনা এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকার– এই পাঁচটি স্তম্ভের ওপরই মার্কসবাদের প্রকৃত চেতনা প্রতিষ্ঠিত। যে বামপন্থা এই ভিত্তিকে অস্বীকার করে, তা হয়তো তাত্ত্বিক আলোচনায় টিকে থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে সমাজ পরিবর্তনের কার্যকর শক্তি হয়ে উঠতে পারে না।
লেখক : সভাপতি, সিপিবি, ঝিনাইদহ জেলা।