
৩১ জুলাই-২০২৬, সাপ্তাহিক একতার ৫৭তম জন্মদিন। বাংলাদেশের স¦াধীনতা এবং জন্মের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথী। স্বাধীন, মুক্তচিন্তা আর বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। পত্রিকাটির বয়সের বিবেচনায় শিশু-কিশোর আর যুবকের গন্ডি পেরিয়ে প্রবীণে উপনীত হয়েছে। কত বিখ্যাত মনীষী, প্রতিথযশা লেখক, খ্যাতিমান সাংবাদিকের পদচারণা ঘটেছে পত্রিকাটির ছায়াতলে। পত্রিকাটি একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দলের মুখপত্র হলেও সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে যেমন ত্যাগ করেনি তেমনই জন্মকালের অঙ্গিকারকে ভুলেনি, যদিও তার ওপর অনেক বাধাবিপত্তি এসেছে এবং আছে। বাম রাজনীতির রণকৌশলগত ভিন্নতায় ভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উদয় হলেও সে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। ব্যবসা এবং মুনাফার পরিবর্তে, তার নিকট গুরুত্বপূর্ণ ছিলো সাধারণ মানুষের স্বার্থ। অসাম্প্রদায়িকতা সমতা আর মানবমুক্তি এবং সাম্যবাদ, সেইসাথে পাঠক, পার্টি কমরেড এবং শুভাকাক্সক্ষীদের অনুপ্রেরণা। সে, যে লড়াইয়ের নেমেছিল, সেটা শেষ হয়নি। পত্রিকাটির জন্মের সাথে জড়িতদের জন্য শুভকামনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যার জন্য একতার পাঠকদের উদ্দেশ্যে এই লেখাটি নিবেদন করলাম।
শিক্ষা মানুষ গড়ার কারিগর, এর অবস্থান দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে শিক্ষা মৌলিক অধিকার, তবে বাংলাদেশে এখনো সেটা মৌলিক অধিকার নয়, সর্বজনীন শিক্ষা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব। শিক্ষা দুই ধরনের, অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার বয়স খুুব বেশি দিনের নয়, তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বয়স মানবজন্ম থেকে, গুহা, নগর সভ্যতার হাট-বাজার-গঞ্জ আর পরিবারে মা-বাবা খালা-ফুপু আর পরিবেশ থেকে; প্রকৃতিই ছিলো সেই শিক্ষা কারিকুলাম আর কাজের বিশেষায়ণ থেকে যে বিভাজন সেটাই ছিলো সিলেবাস। শারীরিক ফিটনেস আর কাজের প্রয়োজনে তা সমাধানের কলাকৌশল শেখানোর চেষ্টা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ থেকে ১০০০ অব্দের মধ্যে–প্রাচীন মিশর, গ্রিস, চীন ও ভারতবর্ষে। ভারতবর্ষে শুরু হয়েছিলো গুরুকুল পদ্ধতির শিক্ষার মাধ্যমে। আধুনিক শিক্ষার শুরু প্রশিয়াতে (বর্তমান জার্মানি) (১৭৬৩), অষ্টাদশ শতাব্দিতে (১৮৩৭) আমেরিকতাতে, তবে অনেকেই গ্রিসকে আধুনিক শিক্ষার সুতিগার মনে করেন। ১৮৪০ এর দশকে আমেরিকার হোরাস মান প্রশিয়ার মডেলের আলোকে কমন স্কুল আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈতনিক, সর্বজনীনও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। ব্রিটিশ-ভারতের গর্ভনর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের আমলে লর্ড মেকলের প্রস্তাবনার আলোকে ১৮৩৫ সালে ইংরেজি শিক্ষা আবশ্যিক করার মাধ্যমে এ অঞ্চলের পুরাতন ঘরানার বদলে আধুনিক ও প্রাশ্চাত্য শিক্ষার সূচনা করলেও তাদের ব্যবসায়িক এবং উপনিবেশ রক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষাকে ব্যবহার করে, যেটা লর্ড মেকলের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়, এরা রং চেহারায় হবে ভারতীয় আর চিন্তা- চেতনায় হবে ব্রিটিশ। সেটা করার জন্যই তারা ভারতে ১৮৫৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ, ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ১৮৩৫ সালে ঢাকা গভর্নমেন্ট কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়।
শিক্ষার দর্শন : শিক্ষা কি? এর প্রয়োজনীয়তা কি? কিভাবে এটা প্রয়োগ করা হয়–এ বিষয়গুলোই শিক্ষার দর্শন। এর মাধমে শিক্ষার প্রকৃতি, মৌলিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মূল্যবোধ ও শিক্ষাদান পদ্ধতির যৌক্তিক বিশ্লেষণ থাকে। সহজ কথায় মানুষ কেন শিক্ষা গ্রহণ করবে, সমাজ গঠনে শিক্ষার ভূমিকা কী হবে? এসকল মৌলিক প্রশ্নের উত্তর বের করা বিজ্ঞানসম্মত তাত্ত্বিক বিষয়ের সাথে যুক্ত। কোন ধরনের জ্ঞান শিক্ষার্থীদের শেখানো দরকার, শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কী ধরনের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আদর্শিকতা গড়ে তোলা হবে, বাস্তব জগতের সাথে মানুষের সম্পর্ক কী এবং শিক্ষা কিভাবে মানুষকে তার জীবনের সাথে আসল সত্যের উপলব্ধি করাতে পারবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যক্রম তৈরি, শিক্ষণ পদ্ধতি ঠিক করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক কেমন হবে, দায়িত্ব ও কর্তব্য কী হবে সে বিষয়টা বিবেচ্য। একসময় অদৃশ্যতা এবং ভাববাদ ছিলো শিক্ষা দর্শনের অন্যতম দর্শন। পরবর্তিতে দর্শন বিজ্ঞান আর যুক্তির চর্চা, ইউরোপে রেনেসাঁর আবির্ভাব,ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব, যন্ত্রের আবিষ্কার শিক্ষার দর্শনে আমূল পরিবর্ত আনলো। ক্রমবর্ধমান জনশক্তি তাদের নানাবিধ চাহিদা পূরণের তাগিদে শিক্ষার দর্শনে আনলো যুক্তি দর্শন আর বিজ্ঞান। ফলে শোষক, ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতিক, পুঁজিবাদী শাসক তাদের স্বার্থরক্ষায় শিক্ষার দর্শনে ভাববাদ কল্পনা অদৃশ্য শক্তি নির্ভরতা অতিলৌকিতাকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে, এর ফলে তারা লাভবান হলেও মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। আর যারা যুক্তি দর্শন আর বিজ্ঞানকে শিক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে নিয়েছে তারা এগিয়েছে সামনে, পৃথিবীর জন্য করেছে অনেক কিছু। পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানোই শিক্ষার দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই কারণেই বলা হয় প্রকৃত শিক্ষা মানুষের আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে।
শিক্ষায় অর্থায়ন : আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ২৬ ধারা মোতাবেক প্রত্যেকটি রাষ্ট্র তার নাগরিকের জন্য প্রাইমারি ও এলিমেন্টারি শিক্ষা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নিশ্চিত করবে, (১৮ বছর বয়স পর্যন্ত)। এটা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের জিডিপির ৭% শিক্ষায় ব্যয় করবে। সে আলোকে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ তাদের সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থায়ন করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশের সংবিধানে শিক্ষা মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতিও পায় নি আবার জিডিপির ৭% বরাদ্দও পায়নি স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও। বাংলাদেশ ঐ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছে, খুদা কমিশন তার রিপোর্টে এই বরাদ্দকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫% এবং পর্যায়ক্রমে

সেটাকে ৭% উন্নীত করার সুপারিশ করেছিল। বর্তমান সরকারও জিডিপির ৫% বরাদের কথা বলেছে, তবে বাস্তব চিত্র বাংলাদেশে শিক্ষায় সবোচ্চ বরাদ্দ ২.৪%। ২০০১ সালে শামসুল হক কমিশনেও অনুরূপ সুপারিশ করা হয়েছিল। ১৯৭০-৮০ জিডিপির ০.৯%, ১৯৯৪-৯৫ সালে ছিল ২.৪, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিলো জিডিপির ১.৬৭% এবং ব্যয় হয়েছে ১.৩৬%। চলতি বাজেট হয়েছে ২%, যদিও তাদের নির্বাচনি ইস্তেহারে ছিলো ৫%। বিজ্ঞান শিক্ষায় কোরিয়ায় মাথাপিছু ১৭০ ডলার, মালয়েশিয়ায় ১৫৫ ডলার, ভারতে ১৪ ডলার, পাকিস্তানে ১০ ডলার আর স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র ৫ ডলার। এমনোতর বাস্তবতায় মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। ভেনিজুয়েলার একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন মাসিক ৮০০ ডলার এবং হাইস্কুল শিক্ষকের মাসিক বেতন ১৪০০ ডলার আর বাংলাদেশের একজন হাই স্কুর শিক্ষকের ১২৫০০ টাকার স্কেলে ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা ১৫% বাড়িভাড়া এর মধ্যে ১০% কর্তনের পর মাসে বেতন তুলতে পারে ১৩৭৫০ টাকা।
১৩৭৫০ টাকার শিক্ষক দিয়ে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার শিক্ষকের মতো মানসম্পন্ন শিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা বাস্তবায়নে শাসকদের স্বপ্ন ৫৬ বছর ধরেই চলছে তবে তার বাস্তবায়ন কবে হবে,তা কে জানে? শিক্ষা বাজেটে দেখানো বরাদ্দের টাকাও স্থানান্তর হয়ে অন্য খাতে নেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্যাডেট শিক্ষার যাবতীয় ব্যয় শিক্ষার বরাদ্দ থেকে দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিদেশি সংস্থার (ঋণের ব্যবসাকারী) নিকট থেকে শিক্ষা সংস্কারের নামে ঋণ নেওয়া হয়, যা শিক্ষা প্রশাসনে নিয়োজিত আমলাদের দেশ-বিদেশ ঘুরতে ব্যয় হয়ে যায়। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে এই টাকার কার্যকর ব্যবহার হয় না। ঋণ করে ঘি খাওয়ার এই সংস্কৃতি পরিহার করা উচিত। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা আর ২৫% উৎসব ভাতা পরিবর্তনের দাবিকে শাসক মহল যৌক্তিক মনে করেন, তবে আর্থিক সংকটের কথা বলে বিষয়টিকে উপেক্ষা করে চলেছেন, বর্তমান শাসকমহলও এর ব্যতিক্রম নন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রথম ১৯৮১ সালের ১লা জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয় এবং মূল বেতনের ৫০ ভাগ পান। ১৯৮৬ সালে ৬০ ভাগ, ১৯৮৯ সালে ৭০ ভাগ, ১৯৯৫ সালে ৮০ ভাগ, ১৯৯৭ সালে ৯০ ভাগ, ২০০৩ সালে ৯৫ ভাগ এবং ২০০৫ সালে মূল বেতনের একাংশের ১০০ ভাগ প্রাপ্ত হন। সর্বশেষ বাড়িভাড়া মূলবেতনের ৭.৫ ও ৭.৫ হয়ে ১৫% হয়েছে।টাকার অভাবের চেয়ে আন্তরিকতা এবং রাজনৈতিক পলিসি বড় বাধা বলে মনে হয়। কারণ শাসকমহল ৯০ এর দশকে (ঝঅচ) ঝঃৎঁপঃঁৎধষ ধফলঁংঃসবহঃ ঢ়ৎড়মৎধস) এবং ডঞঙ (ডড়ৎষফ ঞৎধফব ঙৎমধহরুধঃরড়হ) এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং সেবাখাত উদারীকরণের কারণে শিক্ষাখাতে ব্যয় সংকুচিত হয়েছে। প্রকল্প আর থোক বরাদ্দ দিয়ে দেশের একটা বৃহৎ সেক্টরের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শাসক মহল এবং দেশের জনগণ যতোক্ষণ বিষয়টি না বুঝবেন ততোক্ষণ শিক্ষার ভগ্নদশা কাটবে না। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা থেকে কেটে রাখা ৪% ও ৬ % এর বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা ৫ বছর ধরে পাচ্ছে না, আবার অতিরিক্ত কর্তনের জন্য পূর্বের তুলনায় অতিরিক্ত হারে দেওয়ার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করে চুপ নেই, আপিল বিভাগে তার শুনানিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার টাইম পিটিশন দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের এমনতর ভূমিকার পেক্ষাপটে শিক্ষাবিদ ও নোবেল লরিয়েট বারট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণের বিপক্ষে হলে সেই দেশের জনগণ বাঁচতে পারে না।
ব্যবস্থাপনা: চাওয়া আর পাওয়ার কাজটি সম্পাদনে প্রয়োজন তার বাস্তবায়ন, সেটি করার জন্য সংগঠন এবং সাংগঠনিক সমন্বয় জরুরি। এ কাজের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসুসম্পর্ক জরুরি, তেমনি করিৎকর্মা লোকও প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বা গভর্নিংবডি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সিনেট বা সিন্ডিকেট, থানা, জেলা বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড নিরীক্ষা অধিদপ্তর মিলে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কাজটি করে থাকে। যেহেতু এরা বাস্তবায়ন র্পযায়ে কাজ করে, সেই কারণেই এখানে দক্ষ যোগ্য অভিজ্ঞ এবং সৎ মানুয়ের প্রয়োজন। স্বজনপ্রীতিমুক্তভাবে নিয়োগ, বাছাই পদোন্নতি এবং পদোবনতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দলবাজির বিপরীতে কমন ঐক্য ও সমঝোতার মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ করা দরকার, কারণ যারাই সরকারে আসুক সবার জন্য এ বিষয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে হয়। শিক্ষার আউটপুট পেতে কমপক্ষে দুটি জেনারেশন, যেখানে কমপক্ষে ২৫-৫০ বছর সময় দরকার। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে কারিকুলাম আর সিলেবাস পরিবর্তন করলে দেশপ্রেমিক এবং কর্মঠ এবং আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠন সম্ভব নয়।
বিষয়টি রাজনীতিক নীতিনির্ধারক দেশপ্রেমিক সিভিল সোসাইটি আর মিডিয়ার লোকজন যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন দেশ ও জাতির জন্য ততোই মঙ্গল। দায়িত্ববানরা জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েনামের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে পারেন। ৫৬ বছরের দেশে একটা শিক্ষা আইন প্রণীত না হলেও শিক্ষকদের বিষয়ে ফৌজদারী আইনজারি হয়েছে। প্রথমে হয়েছে ১৯৮০ সালে, পরে ২০২৬ সালে। অখচ ইউনেস্কো ও আইএলও ঘোষিত বিধান শিক্ষকদের একাডেমিক ফ্রিডম দিয়েছে। বুদ্ধিবিত্তিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভাগীয় বিধিনিষেধ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে রয়েছে। প্রতিহিংসাপরায়ণ সমাজে এ ধরনের ব্যবস্থা শিক্ষকদের মর্যাদাগত বিষয়কে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
লেখক: অধ্যক্ষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)