চীন ও বাংলাদেশের জনগণের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হোক
[চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনের দূতাবাসের আয়োজিত ‘প্রাচ্যের জাগরণ: চীন ও বাংলাদেশ একসাথে পথচলায়’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন-এর বক্তব্য]
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সিম্পোজিয়ামে আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। একই সঙ্গে সিপিসি এবং চীনের জনগণকে জানাই এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি চীনের রূপান্তরে একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে। একসময় দারিদ্র্য ও বিদেশি আধিপত্যে জর্জরিত একটি দেশ থেকে আজকের বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হওয়ার যে যাত্রা, তা সমগ্র বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য যাই থাকুক না কেন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের সাফল্য গভীরভাবে অধ্যয়ন ও মূল্যায়নের দাবি রাখে।
মার্কসবাদী হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, ইতিহাস গড়ে ওঠে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম এবং সমাজের বস্তুগত বাস্তবতার ভিত্তিতে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায় যে, প্রতিটি দেশকে তার নিজস্ব ইতিহাস, বাস্তবতা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে উন্নয়নের নিজস্ব পথ নির্ধারণ করতে হয়। এটি সেই মার্কসবাদী নীতিরই প্রতিফলন যে, সমাজতন্ত্র কোনো যান্ত্রিক অনুকরণের বিষয় নয়; বরং প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার বিকাশ ঘটতে হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সবসময় সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য এবং শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শকে ধারণ করে এসেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানুষকে–শুধু মুনাফাকে নয়। জনগণমুখী অর্থনীতি, শক্তিশালী সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদনমুখী সুযোগের ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মৌলিক শর্ত।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সহযোগিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। গত কয়েক দশকে বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে।
বর্তমান বিশ্ব এক গভীর পরিবর্তনের সময় অতিক্রম করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সশস্ত্র সংঘাত, বৈষম্য এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তর মানবজাতির সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সংঘাত নয়, সংলাপ; বিভাজন নয়, সহযোগিতা; এবং দ্বন্দ্ব নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কমিউনিস্ট হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক সংহতি, শান্তি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা এবং জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে আমরা স্বীকার করি যে, ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুসরণকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও গঠনমূলক সহযোগিতা আজকের বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক আইন, বহুপাক্ষিকতা এবং রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌম সমতার নীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমুন্নত থাকা উচিত।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বের বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ আমাদের একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ করে দেয়, একই সঙ্গে প্রতিটি দলের স্বাধীনতা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ঐতিহ্যও বজায় রাখে। আন্তর্জাতিক প্রগতিশীল আন্দোলনের ইতিহাসে পারস্পরিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য।
বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতের সহযোগিতা টেকসই উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, যুবসমাজের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সর্বোপরি, উন্নয়নের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত এই ভিত্তিতে যে, তা কতটা মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সবার জন্য সমান সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে।
এই শুভক্ষণে আমি আবারও চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে তাদের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। চীন ও বাংলাদেশের জনগণের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হোক, এবং আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখুক।
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক।
শান্তি, সংহতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দীর্ঘজীবী হোক।
প্রথম পাতা
স্লোগানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কাজে ‘সবার আগে আমেরিকা’
বন্যায় মৃত্যু অর্ধশতাধিক, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি, নতুন শঙ্কা
ডেঙ্গু ও হামে প্রাণহানি বাড়ছেই
বিশ্বকাপে কে জিতল?
‘গায়েব’
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক
শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কটুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা ছাত্র ইউনিয়নের
বন্যার্তদের পর্যাপ্ত খাদ্য খাবার পানি, নিরাপত্তার দাবি ক্ষেতমজুর সমিতির
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন