বাংলাভাগে পুঁজির ভূমিকা : সাম্প্রদায়িকতার আড়ালে অর্থনৈতিক স্বার্থের ইতিহাস

স্বপন বাগচী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ বা দেশভাগ নিয়ে আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ানগুলো ঘুরেফিরে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তেই আবদ্ধ থাকে। তা হলো–ধর্মীয় উন্মাদনা, জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব, নেহেরুর ক্ষমতার লোভ কিংবা লর্ড মাউন্টব্যাটেনের তাড়াহুড়ো। কিন্তু ইতিহাসের এই রাজনৈতিক কোলাহলের গভীরে যে একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চাল, কর্পোরেট স্বার্থ এবং একচেটিয়া পুঁজি রক্ষার মরিয়া চেষ্টা লুকিয়ে ছিল, তা নিয়ে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে আলোচনা প্রায় দেখাই যায় না। ইতিহাসকে কেবল ধর্মীয় চশমায় দেখলে তার ভেতরের আসল চালিকাশক্তি–অর্থাৎ ‘শ্রেণিস্বার্থ’ আড়ালেই থেকে যায়। ১৯৪৭ সালে যখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শরৎচন্দ্র বসু এবং আবুল হাশিমের উদ্যোগে ‘অখণ্ড স্বাধীন বাংলা’ গঠনের একটি জোরালো ও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তখন ধর্মীয় লাইনে বাংলা ভাগের জন্য সবচেয়ে বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছিল তৎকালীন অ-মুসলিম ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতি গোষ্ঠী। কেন তারা একটি স্বাধীন বাংলার ধারণায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন? সেই ইতিহাস ঘাঁটলে রোমাঞ্চকর কিন্তু নির্মম কিছু সত্য বেরিয়ে আসে। এটি স্পষ্ট হয় যে, সাম্প্রদায়িকতা এখানে ছিল একটি রাজনৈতিক ‘মুখোশ’, যা দিয়ে শ্রমিক-কৃষকের বৃহত্তর শ্রেণি-ঐক্যকে ভেঙে পুঁজিপতিদের শ্রেণিগত আধিপত্য নিশ্চিত করা হয়েছিল। অখণ্ড বাংলার উৎপাদন সম্পর্ক ও বুর্জোয়াদের শ্রেণি-আতঙ্ক তৎকালীন বাংলার উৎপাদন সম্পর্কের দিকে তাকালে আমরা একটি তীব্র শ্রেণি-বিভাজন দেখতে পাই, যা ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় লাইনে বিন্যস্ত ছিল। বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি ছিল ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দ্বারা সৃষ্ট একটি শোষক সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো। এই কাঠামোয় জমিদার, জোতদার এবং মহাজনদের সিংহভাগ ছিল উচ্চবর্ণের হিন্দু; কিন্তু প্রত্যক্ষ উৎপাদক বা কৃষক সমাজ ছিল মূলত মুসলিম এবং নিম্নবর্ণের নমঃশূদ্র হিন্দু। অন্যদিকে, কলকাতার শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাংকিং এবং চটকলগুলোর সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করত অ-মুসলিম পুঁজিপতি শ্রেণি–বিশেষ করে মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী (যেমন বিড়লা, জালান, বাজোরিয়া) এবং বোম্বের বৃহৎ পুঁজির (টাটা)। অন্যদিকে জনসংখ্যার সমীকরণটি ছিল অন্যরকম–৫৪ শতাংশ মুসলিম এবং ৪৬ শতাংশ হিন্দু (যার মধ্যে ২৫-৩০% নমঃশুদ্র)। পুঁজিপতিদের ভয়ের কারণটি কিন্তু কোনো ধর্মীয় অনুভূতি ছিল না, তা ছিল নিখাদ শ্রেণিগত এবং অর্থনৈতিক। স্বাধীন বাংলার যে অর্থনৈতিক খসড়া তৈরি করা হয়েছিল, তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছিল–সামন্ততান্ত্রিক চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটানো হবে এবং জমিদারি প্রথা কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হবে। একই সাথে, তৎকালীন বাংলায় তেভাগা আন্দোলন এবং নানকার আন্দোলন গ্রামীণ সর্বহারাদের জাগিয়ে তুলেছিল। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে চটকল ও রেল শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন তখন তুঙ্গে। মাড়োয়ারী ও হিন্দু পুঁজিপতিরা হিসাব কষে দেখলেন, অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠিত হলে মুসলিম কৃষক এবং নিম্নবর্ণের নমঃশূদ্র হিন্দুদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট তৈরি হবে। ফলে নবগঠিত রাষ্ট্রে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়ে একটি সমাজতান্ত্রিক বা রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কল্যাণমুখী অর্থনীতি প্রাধান্য পাবে। আর তা ঘটলে কলকাতার কর্পোরেট বাবুদের একচেটিয়া মুনাফার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। এই যৌথ ‘শ্রেণি-আতঙ্ক’ই পুঁজিপতিদের একাট্টা করেছিল। কংগ্রেসের ওপর বৃহৎ পুঁজির চাপ ও দিল্লির ভূমিকা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোনো সাধারণ গণ-সংগঠন ছিল না, বরং তা কাজ করছিল ভারতীয় বৃহৎ বুর্জোয়া শ্রেণির রাজনৈতিক মুখপাত্র হিসেবে। ১৯৪৭ সালের শুরুতেই বিড়লা, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে একটি জরুরি চিঠিতে লিখেছিলেন যে, কলকাতাসহ সমগ্র বাংলাকে যদি সমাজতান্ত্রিক সত্তা হওয়া থেকে বা পাকিস্তানের হাতে যাওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, তবে বাংলাকে ভাগ করতেই হবে। কলকাতা বন্দর ও তার আশেপাশের চটকল ও শিল্পাঞ্চলকে ভারতের অধীনে রাখা তাদের ব্যবসার জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন ছিল। হুগলি নদীর দুই তীরের চটকল ও টেক্সটাইল শিল্প ছিল ভারতীয় পুঁজির ‘লাইফলাইন’। যদি বাংলাকে ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাথে যুক্ত করা যায়, তবেই কেবল কলকাতার বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের ওপর দিল্লির কেন্দ্রীয় পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হতো। জওহরলাল নেহেরু এবং সর্দার প্যাটেল উভয়েই ছিলেন একটি শক্তিশালী ও কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রের পক্ষে, যেখানে বড় পুঁজির অবাধ বিকাশ সহজ হয়। তারা জানতেন, অখণ্ড বাংলা গঠিত হলে তা দিল্লির পুঁজিপতি-বান্ধব কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং নিজের স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করবে। ফলস্বরূপ, শরৎ বসুর মতো দূরদর্শী কংগ্রেস নেতারা অখণ্ড বাংলার পক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলেও, দিল্লির কেন্দ্রীয় কংগ্রেস হাই কমান্ড কর্পোরেটদের চাপে পড়ে তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করে। তারা প্রকারান্তরে মাড়োয়ারী পুঁজির স্বার্থে বাংলা ভাগের প্রস্তাব পাস করে এবং দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে। হিন্দু মহাসভা, শ্যামাপ্রসাদ ও পুঁজির রাজনৈতিক অর্থনীতি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের আবেগকে পুঁজি করে অর্থনৈতিক স্বার্থকে সবচেয়ে সুনিপুণভাবে মাঠে নামিয়েছিলেন হিন্দু মহাসভার নেতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। মার্ক্সীয় তত্ত্বে রাজনীতি হলো অর্থনীতিরই ঘনীভূত প্রকাশ, আর শ্যামাপ্রসাদের রাজনীতি ছিল কলকাতার ব্যবসায়ী মহলের কাঁচা টাকার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৪৭ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে শ্যামাপ্রসাদ যখন “বাঙালি হিন্দুদের জন্য আলাদা রাজ্য” বা বাংলা ভাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, তখন কলকাতার ‘বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স’ এবং বড় বড় হিন্দু ও মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনে বিপুল অর্থায়ন করেন। কেন তারা ধর্মীয় রাজনীতিতে বিনিয়োগ করেছিলেন? এর উত্তর পরিষ্কার: শ্রেণি সচেতনতাকে ধর্মীয় উন্মাদনা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। যে শ্রমিক ও কৃষক কিছুদিন আগেও ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ বা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ স্লোগানে পুঁজিপতিদের কাঁপিয়ে দিচ্ছিল, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রাজনীতি দিয়ে তাদের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা হলো। ফলে শ্রমিক তার প্রকৃত শোষককে ভুলে পাশের ধর্মীয় সম্প্রদায়কে শত্রু ভাবতে শুরু করল। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “বাংলা ভাগ করতেই হবে এবং ক্যালকাটা মাস্ট রিমেইন উইথ আস (কলকাতা আমাদের সাথেই থাকতে হবে)।” কারণ পূর্ববঙ্গ ছিল কেবল পাটের মতো কাঁচামালের উৎপাদক। কিন্তু সেই পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা, বন্দর, ব্যাংক এবং পুঁজির মূল কেন্দ্র ছিল কলকাতায়। পুঁজিপতিরা কাঁচামালের জমি হারাতে রাজি ছিলেন, কিন্তু কারখানার মালিকানা ও বন্দর ছাড়তে রাজি ছিলেন না। এই ভৌগোলিক-অর্থনৈতিক বিভাজনই ছিল পুঁজির আসল ছক, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় বুর্জোয়াদের যৌথ সম্মতিতে বাস্তবায়িত হয়। ইতিহাসের কালানুক্রমিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে এই অর্থনৈতিক আঁতাতের তত্ত্বটি পরিষ্কার হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে স্বাধীন ভারতের যে প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, সেখানে হিন্দু মহাসভার নেতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে, নেহেরুর মতো একজন নিজেকে ‘সমাজতন্ত্রী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দাবি করা প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায়, হিন্দু মহাসভার মতো একটি কট্টর ডানপন্থি ও সাম্প্রদায়িক দলের নেতাকে দেশের মূল অর্থনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়াটা এক বিরাট রাজনৈতিক অসঙ্গতি। কিন্তু যদি এর পেছনে টাটা-বিড়লা এবং মাড়োয়ারী পুঁজিপতিদের ইচ্ছার প্রতিফলন খোঁজা হয়, তবে সমীকরণটি পানির মতো পরিষ্কার। নেহেরুর প্রথম মন্ত্রিসভা ছিল পুঁজিপতিদের স্বার্থরক্ষার কমিটি। টাটা-বিড়লা গোষ্ঠীর কাছে শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন একজন বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত প্রতিনিধি, যিনি পূর্ব ভারত তথা কলকাতার শিল্পাঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছিলেন। পুঁজিপতিদের সেই স্বার্থরক্ষা করার এক প্রত্যক্ষ পুরস্কারস্বরূপই তিনি দেশের শিল্পমন্ত্রীর পদ পেয়েছিলেন। এই নিয়োগ প্রমাণ করে যে, পর্দার পেছনের অর্থনৈতিক সমঝোতার কাছে তথাকথিত আদর্শিক বা ধর্মীয় বিরোধিতা কতটা গৌণ ছিল। দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদি ট্র্যাজেডি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ ছিল মূলত বাঙালি বুর্জোয়া ও আন্তর্জাতিক পুঁজির এক বড় বিজয় এবং বাংলার সর্বহারা ও কৃষক শ্রেণীর এক ঐতিহাসিক পরাজয়। এর দীর্ঘমেয়াদী ট্র্যাজেডি হলো, এই কৃত্রিম ভাগের ফলে পূর্ববঙ্গে রয়ে গেল কাঁচামাল কিন্তু কোনো কলকারখানা রইল না, আর পশ্চিমবঙ্গে রয়ে গেল কারখানা কিন্তু কাঁচামাল রইল না। কাঁচামাল ও কারখানার এই কৃত্রিম বিচ্ছিন্নতার ফলে দুই প্রান্তেরই লাখ লাখ সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও কৃষক রাতারাতি উদ্বাস্তু আর সর্বহারায় পরিণত হলেন। পূর্ববঙ্গ থেকে যে লাখ লাখ হিন্দু শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে গেলেন, তারা কলকাতার শিল্পাঞ্চলের জন্য ‘সস্তা শ্রমের’ এক অন্তহীন জোগানদারে পরিণত হলেন, যা পুঁজির আদিম যোগানকে আরও বেগবান করেছিল। অন্যদিকে অখণ্ড বাংলায় যে প্রগতিশীল, বামপন্থি এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, দেশভাগের মাধ্যমে তাকে স্থায়ীভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ কেবল মানচিত্রে স্যার র্যাডক্লিফের পেন্সিলের দাগ ছিল না; ছিল কলকাতার মাড়োয়ারী ও কর্পোরেট পুঁজির এক নিখুঁত অর্থনৈতিক নকশা। সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন সে সময় জ্বালানো হয়েছিল, তা ছিল পুঁজিপতিদের নিজেদের মুনাফা এবং একচেটিয়া বাজার রক্ষা করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার মাত্র। আজ যখন দেশভাগের ইতিহাসকে পুনরায় কেবলই ধর্মীয় চশমায় কিংবা আবেগঘন বয়ানে দেখার চেষ্টা চলছে, তখন এই অর্থনৈতিক ও শ্রেণি-স্বার্থের ইতিহাসকে সামনে আনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, পর্দার পেছনের আসল শোষকদের না চিনলে, শোষণের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে এবং বুর্জোয়া শ্রেণি সবসময়ই ধর্মকে ব্যবহার করে মেহনতি মানুষের চোখ অন্ধ করে রাখবে। শোষণের আসল অর্থনৈতিক চরিত্রটি উন্মোচন করাই হোক আজকের ইতিহাস চর্চার মূল লক্ষ্য। লেখক : সভাপতি, সিপিবি, ঝিনাইদহ জেলা

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..