‘সততা’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : নির্বাচনের আগের পরিবেশটা মনে আছে তো? জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মাঠ-ময়দান গরম ফেলেছিলেন নীতিবাক্য বলে! আমরা সরকারি কোনো সহায়তা নেব না, সরকারি গাড়ি নেব না- হেনতেন কত কী! একেবারে সৎ এর উপরে সোয়া সৎ আরকি! কিন্তু এখন কী হচ্ছে? কয়েকদিন আগে খবর বেরিয়েছে, ময়মনসিংহে নাকি মুরগির বিষ্টার ভাগাভাগি নিয়েও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মারামারি করেছেন। কয়েকদিন আগে সংসদে এক নেতা দাবি করেছেন, তার বাবা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরে যখন জানা গেল, ওই জামায়াত নেতার জন্মই হয়েছে ১৯৮১ সালে। তখন তিনি উপায়ন্তর না দেখে, স্বীকার করেছেন, তার বাবা শহীদ হননি। উপরন্তু এখনও বেঁচে আছেন। এসব সততার কিচ্ছা-কাহিনীর মধ্যে আবার নতুন খবর চলে এসেছে বাজারে। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুরির তালিকায় নিজের মেয়ের নামও আছে। তাও একবার নয়, দুইবার। জানা গেছে, সদর উপজেলায় ১০ জনের বিপরীতে ৮০ হাজার টাকা ও লোহাগড়া উপজেলায় ১১ জনের নামে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকার তার ১ নম্বরে হবোখালী গ্রামের ফাইজা (বাবা মো. বাচ্চু) এবং ৮ নম্বরে ফাইজা (বাবা মো. আতাউর) এর নাম আছে। তাদের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান লেখা রয়েছে। জামায়াতের আতাউর রহমান বাচ্চুর মেয়ের নামও ফাইজা। পরে অবশ্য তিনি নাকি তার পিএসের উপর দোষ চাপিয়ে তাকে বাদ দিয়েছেন। আরেকবার ‘সততা’ মিলেছে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নুরুল আমিনের মারফত। বলা হচ্ছে, তার এলাকার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচি প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সংসদ সদস্যের ভাগনে, ভগ্নিপতিসহ নিকট আত্মীয়রা। শুধু এমপিরাই সব করবেন, অন্যরা কেন পিছিয়ে থাকবে। তাই নিজ দ্বায়িত্বে মাদ্রাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দ আসা সরকারি সাইকেল নিজের নাতনিকে উপহার দিয়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম। এই অবস্থা দেখে লোকজন এখন বলাবলি করছে, নির্বাচনের আগে জামায়াত বেহেস্তের টিকেট বিক্রি করেছেন। এখন তাদের উচিত ‘সততার কথা বলে, কীভাবে চুরি করা যায়’ এরকম একটি কোচিং সেন্টার দেওয়া!!

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..