নজরুলের ‘বরষা ঋতু এলো এলো’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা ডেস্ক : বরষা ঋতু এলো এলো বিজয়ীর সাজে বাজে গুরু গুরু আনন্দ ডম্বরু অম্বর মাঝে॥ বাঁকা বিদ্যুৎ তরবারি ঘন ঘন চমকায় হানে তীর বৃষ্টি অবিরল ধারায় শুনি রথ-চক্রের ধ্বনি অশনির রোলে সিন্ধু তরঙ্গে মঞ্জির বাজে॥ ভীত বন-উপবন লুটায়ে প্রণতি জানায় সেই বিজয়ীর পায়ে। তার অশান্ত গতিবেগ শুনি’ পুব হাওয়াতে চলে মেঘ-কুঞ্জর-সেনা তারি সাথে তূণীর কেতকীর জল-ধনু হাতে চঞ্চল দুরন্ত গগনে বিরাজে॥ ভাবার্থ: এই গানে কবি বর্ষায় ভয়ঙ্কর-সুন্দরকে উপস্থাপন করেছেন নানা উপমায়। রুক্ষ রুদ্র গ্রীষ্মকে পরাজিত করে ঋতুচক্রে বর্ষা আসে বিজয়ীর বেশে। তার বিজয়োৎসবে বাদিত মেঘের গুরু গুরু গম্ভীর নাদ- যেন আনন্দ ডম্বরু হয়ে বাজে। যোদ্ধা বর্ষার বাঁকা তরবারির ঝিলিক প্রকাশ পায়, ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকে। বৃষ্টিও যেন ঝরে পড়ে বিজয়ীর অবিরল তীরবর্ষণের মতো। মেঘমন্দ্রিত বর্ষা আসে রণরথের বজ্রপাতের ঘর্ঘর শব্দে। ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ সাগরতরঙ্গে বাজে অশান্ত ঢেউয়ের নূপুর। প্রকৃতিও বর্ষার এই ভয়ঙ্কর রূপ দর্শনে ভীত। তবু কল্যাণময় বর্ষার রূপে মুগ্ধ ও ভয়ার্ত উপবন যুদ্ধ-জয়ী বর্ষার পায়ে প্রণতি জানায়। কবি শোনেন বর্ষার পূব-হাওয়ার অশান্ত গতিময় বায়ুপ্রবাহের ধ্বনি, দেখেন বিজয়ী বর্ষার সাথে চলে হস্তিসেনাদল-রূপী মেঘ-সেনারা। সাথে চলে জলধনু ও ধনুধার হাতে কেতকী। প্রকৃতির বুকে বিদ্যুৎচমকানো, বজ্রপাত, সাগরের জলোচ্ছ্বাস, অশান্ত গতিতে ছুটে চলা মেঘরাশি। এ সব মিলে বর্ষা ভয়ঙ্কর। এরই মাঝে বর্ষার সহজাত সৌন্দর্য প্রকৃতিকে মহিমান্বিত করে তোলে। তাই কবির কাছে বর্ষা ভয়ঙ্কর হয়ে কাঙ্ক্ষিত। ভয়ঙ্কের সহজাত কাক্সিক্ষত সৌন্দর্যেকেই এই গানকে মহিমান্বিত করেছে। রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় নি। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৫) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ২ মাস।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..