কবি মোহন রায়হানকে পুরস্কার প্রদানে অবমাননার প্রতিবাদ উদীচীর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়া সত্ত্বেও কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানকে পুরস্কার প্রদান থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলিম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে কোনো সুনির্দিষ্ট বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা পুরস্কার স্থগিত রাখা কেবল কবির ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি চর্চা এবং সৃজনশীল সাহিত্যের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। আমরা গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি, কয়েক দশক আগে লেখা একটি কবিতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে এই ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একজন কবির সৃষ্টিশীলতাকে রাজনৈতিক চশমায় বিচার করে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান থেকে বঞ্চিত করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। মোহন রায়হান স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন লড়াকু মানুষ। তাঁকে এভাবে অপমান করার মানে হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক ও সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করা। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমির এমন নতিস্বীকার এবং খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মনে করে, এই ঘটনা দেশের লেখক-শিল্পী সমাজের জন্য এক চরম অবমাননাকর দৃষ্টান্ত। তারা দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কবি মোহন রায়হানকে যথাযথ মর্যাদায় তার প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করতে হবে। কী কারণে এবং কার প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। সৃজনশীল সাহিত্য চর্চায় রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আমরা দেশের সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিবেকবান নাগরিকদের এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..