কমরেড গুরুদাস তালুকদারের স্মৃতি রক্ষায় ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

দিনাজপুর সংবাদদাতা : তেভাগা আন্দোলনের অগ্রসেনানী কমরেড গুরুদাস তালুকদারের স্মৃতি রক্ষায় দিনাজপুরে একটি ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ‘কমরেড গুরুদাস তালুকদার স্মৃতি পরিষদ’। তাঁর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গুরুদাস তালুকদার মহান মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তাঁর জীবন ও কর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রেরণা জাগাতে, তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করতে একটি ভাষ্কর্য নির্মাণ খুবই জরুরি বলে মনে করেন বক্তারা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে কালিতলাস্থ দিনাজপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে কমরেড গুরুদাস তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে কমরেড গুরুদাস তালুকদার স্মৃতি পরিষদ। রঞ্জন কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে ও প্রমথেশ শীলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য মো. আলতাফ হোসাইন, সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম, সিপিবি নীলফামারী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি শ্রীদাম দাস, দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কানিজ রহমান, প্রগতি লেখক সংঘ দিনাজপুর জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নয়ন সূত্রধর, মাটির কাঁসার সংগঠক কবি বাসুদেব শীল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমৃত কুমার রায়, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক নুরুল মতিন সৈকত, সদালাপ এর সাধারণ সম্পাদক দুর্যোধন রায় দুর্জয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ’র সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। কমরেড গুরুদাস তালুকদার স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান উচীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনাজপুর জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যাপক জলিল আহমেদ। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে দিনাজপুর ফুলতলা শ্মশানে কমরেড গুরুদাস তালুকদার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। কমরেড গুরুদাস তালুকদারের জন্ম ১৮৯৬ সালে রংপুরের পীরগঞ্জে মন্থনা এস্টেটের জমিদার পরিবারে। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান গুরুদাস তালুকদার ভর্তি হন কলকাতা মেডিকেল কলেজে। মানুষের শরীরের চিকিৎসার চাইতে সমাজের ক্ষতের চিকিৎসা করাই আশু কর্তব্য মনে করে ছাত্রাবস্থায় জাড়িয়ে পড়েন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে। তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির নিদের্শে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য মেডিকেলের পড়ালেখা ছেড়ে কলকাতা থেকে চলে আসেন দিনাজপুরে। একারণে তার পিতামাতা তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করে দেয়। দিনাজপুর নাট্য সমিতি মঞ্চে নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন তিনি। ১৯৮০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন এই বিপ্লবী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..