নতুন দিনের আলোয় সম্মুখযাত্রা

গোলাম কিবরিয়া পিনু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মানুষ ও অন্য প্রাণীর মধ্যে মোটাদাগে পার্থক্য রয়েছে, অন্য প্রাণী প্রকৃতির অনুগত মূলত জৈবিক সত্তা নিয়ে জীবন ধারণ করে, আর মানুষ জৈবিক ও সামাজিক সত্তার সম্মিলনে প্রকৃতিকে জয় করে সামাজিক জীবনকে বিভিন্ন পরিধিতে ক্রমাগত বিকশিত করে–ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যকে ভিন্নমাত্রা দিতে পারে। মানুষের জীবনের চলমান বিকাশের রূপ-বৈচিত্র্যই হলো সংস্কৃতি। মানুষ সংস্কৃতিবান বলেই–বুদ্ধি, যুক্তি, অভিজ্ঞতা, ইতিহাসবোধ, শ্রেয়বোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জীবনের বহুবিধ সম্ভাবনাকে একীভূত করে অগ্রসর হতে পারে। সংস্কৃতিবান মানুষ মানেই–সুন্দরের প্রতি পক্ষপাত থাকবে, সমাজের অপরাপর মানুষের সঙ্গে যূথবদ্ধ হয়ে থেকে–কল্যাণমূলক ভূমিকাকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে জাগিয়ে রাখবে। আমাদের বাংলাদেশের ভৌগলিক অঞ্চলটি বিপুল জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের ইতিহাসের অন্তর্গত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনার অভিঘাতে একটি সাংস্কৃতিক মান ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বর্তমানে অবস্থান করছে। আমাদের ভূখণ্ডের ভূগঠন প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা যেমন রয়েছে, তেমনই এর সাংস্কৃতিক সত্তারও ভিন্নতা রয়েছে। ঐতিহাসিক ঘাত-অভিঘাতের মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা–এই চারনীতি আমাদের সংবিধানের মূলভিত্তি। বাঙালি জীবন পালটে যাচ্ছে, শুধু নাগরিক জীবনই নয়, পালটে যাচ্ছে আমাদের গ্রামীণ জীবনও। উনিশ শতক থেকে বিংশ শতাব্দিতে এসে বিশেষত এই ভূখণ্ডে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সুষম সমাজের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ লড়েছে, তারই বিজয়ী পরিণতি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হওয়ার পরও–ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, মূল্যবোধের ভাঙন ও রাজনৈতিক দিশাহীনতা বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে করে তুলেছে অস্থির। আমরা জানি–আগে গ্রামে মোড়লনির্ভর শাসনের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছিল, তার পরিবর্তে এখন রাজনৈতিক দল ও নেতা নির্ভর এবং প্রশাসনিক ক্ষমতানির্ভর নিয়ন্ত্রণ জোরালো হয়েছে। গৃহ নির্মাণে পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তন হয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়, রাস্তাঘাট পৌঁছে গেছে বিভিন্ন পরিধিতে। বয়স্ক ব্যক্তি এখন আর সংসারের কর্মকর্তা নেই, যৌথ পরিবার ভেঙেছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বেড়েছে, সেইসাথে বেড়েছে কোচিং সেন্টার। টিভি-চ্যানেল ও ইন্টারনেটের প্রভাব এবং বিস্তারও বেড়েছে। ধর্মীয় সভা-মাহফিল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তারও ঘটেছে। নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে গার্মেমেন্টস ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। বহু শ্রমজীবী মানুষ বিদেশে কর্মরত থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। জমির উৎপাদনশক্তি বাড়ছে–জমি চার ফসলীতে পরিণত হয়েছে। এসব অভিঘাত ব্যক্তিজীবনে, পারিবারিক জীবনে, সমাজজীবনে ও সাংস্কৃতিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি এখন সর্বগ্রাসী নয়, সর্বব্যাপী হয়ে উঠছে। আমাদের জীবনকেও সহজ ও গতিশীল করছে–প্রযুক্তি। প্রযুক্তি আগেও ছিল, মানুষ তা ব্যবহার করেছে কিন্তু এই সময় এসে প্রযুক্তির ব্যবহার বহুদিক থেকে বিস্তৃত হয়েছে, প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। কোথায় না প্রযুক্তি! আজকে প্রযুক্তির নজিরবিহীন উন্নতি হয়েছে, সে-কারণে অর্থনৈতিক, সামাজিক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে, সেই অনুপাতে মানুষ সভ্য হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে–কাক্সিক্ষতভাবে তার নৈতিকমান উন্নত করেনি। মানুষ সেইভাবে মানবিকও হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে মানবিকতা দূরবর্তী হয়েছে। নারকীয় ও দুর্বৃত্তায়ন প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। সেইসাথে যুদ্ধের বিভিন্ন রকম প্রস্তুতিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও বেপরোয়া হয়ে মানুষের সর্বজনীন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না এসে পারমাণবিক যুদ্ধের প্রতিযেগিতায় মেতে উঠেছে। আমরা জানি, শত বছর আগেও মানুষ এক ভূখণ্ড থেকে আর ভূখণ্ডে–যোগাযোগহীনতায়, বিচ্ছিন্নতায়, কী দূরবর্তী ছিল! যুগযুগ ধরে, শত শত বছর ধরে, এই বিচ্ছিন্নতার কারণে অঞ্চলে অঞ্চলে মানুষ বিভক্ত হয়ে ছিল–কত রকমের ভাষা, ধর্ম, আচরণ ও শাসনপদ্ধতিতে অভ্যস্ত থেকেছে, এযুগে তা আমরা জেনে হতবাক হই। বিংশ শতাব্দিতে–পরিবর্তন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়–রাস্তাঘাট তৈরি হলো, রেল তৈরি হলো, বিদ্যুৎ এলো। আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিকভাবে মানুষের মধ্যে যাতায়াত বেড়েছে, মেলামেশা বেড়েছে। অভিজ্ঞতার বিনিময় শুধু হচ্ছে না, একই ভূখণ্ডে কত ভাষার মানুষ, কত দেশের মানুষ থিতু হয়ে শুধু জীবননির্বাহ করছে না, যুথবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে ঐকসূত্র নিয়ে। পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা জ্ঞানের মূলভিত্তি, তারপরও–বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সুযোগ নিয়ে আজকের সভ্যতা এক বিশেষ জায়গায় দাঁড়িয়েছে। এইসব অভিঘাতের ফলে মানুষের আচরণের পরিবর্তন হচ্ছে, মানুষের মনস্তত্ত্বও জটিল হচ্ছে। সমুদ্র ও পর্বতের খবর মানুষের আয়ত্তে, নভোমণ্ডলের জ্ঞানও আয়ত্তে। জন্ম-জীবন-মৃত্যুর বিভিন্ন তত্ত্ব আমরা জানছি। কোষ ও জিন তত্ত্ব জানছি। অনুজীব ও অনুজীবের জগৎ সম্পর্কে নতুন অনেককিছু জানছি। ডারউইন, ফ্রয়েড ও কাল মার্কস, বিবতর্নবাদ, বস্তুবাদ, মনস্তত্ত্ব আজ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম থিওরি ও থিওরি অফ রিলেটিভিটি, হকিং–এর বিগব্যাং থিওরিও জানছি। উদ্ভিদবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যার বিকাশ হয়েছে বেশ। এসময়ে–বিজ্ঞানের বিশাল সমৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিদ্যারও অকল্পনীয় সাফল্য এসেছে। আমরা জানি, এখনকার সময়–দুটি বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়। আথেনীয় আমলে গণতন্ত্রের স্বর্ণযুগ ছিল–তার প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে একশত বছর। বলা হয়ে থাকে–সেই যুগে আথেন্স-এর সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা জনগণের হাতেই ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল অভিজাতবর্গের হাতেই! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অধ্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশ হয়েছিল–সেই অভিজাতশ্রেণির হাতেই। তাই, গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থেকেই যায়–তাতে জনগণের স্বার্থ ও অবস্থান কতটুকু ছিল–তা ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা যেতে পারে। ঐতিহাসিক থুকিডিডিস এবং দার্শনিক প্লেটো আথেনীয় গণতন্ত্রকে একটি অপকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা হিসেবে নিন্দা করেছেন। আবার অনেক দার্শনিক এ-বিষযে ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন। গণতন্ত্রের চর্চায় পশ্চিম ইউরোপ সেই উনিশ শতক থেকে এক ধরনের শাসনব্যবস্থা চালিয়ে এসেছে, এই শাসনব্যবস্থায় উচ্চশ্রেণি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সমঝোতায়–এক ধরনের সামাজিক ও মানবিকবোধের ঐক্য গড়ে তুলতে পেরেছে। এর ফলে তাদের মধ্যে রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে ওঠার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্যের পাশাপাশি অধিকার চেতনা কাজ করেছে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিজেদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধন তৈরি করে–কালের চাহিদা ও পরিবর্তনকে স্বাগত জানানোর মত সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা দীর্ঘকাল ধরে করে যেতে পারছে। এইসব দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়মনীতিও স্থায়ীভাবে জনগণের আচরণের সাথে সমন্বিত হয়ে কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে আধুনিক যুগের পরিবর্তিত শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আবিষ্কার ও অন্যান্য দিককেও সফলভাবে উন্নতস্তরে নিয়ে নিজেদের জীবনকে বিকশিত করতে পারছে। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি এখনো সেভাবে বিকশিত হতে পারেনি বলেই–গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে মানুষও সন্তুষ্ট নয়, মানুষের কল্যাণও গণতান্ত্রিকভাবে সেভাবে বিকশিত হচ্ছে না। নির্বাচনে প্রায় সব উল্লেখযোগ্য দলেরই প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাঞ্ছনীয়।ৎ নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রচারণায় প্রার্থীরা বেশ সহনশীল ও এক অপরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিবেশ থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা ও নির্বাচন অনুষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে হবে। কিন্তু আমরা বারবার দেখি–ভোট দেওয়ার মত পরিস্থিতি সীমিত পর্যায়ে অনুকূলে অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। ভোটের দিনে এইসব নির্বাচনের বিভিন্ন ঘটনায় এই নির্বাচন অনেক ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু ও কাক্সিক্ষত হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনে অনেক লোকও নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। খারাপ উপায় অবলম্বন করে ভালো লক্ষ্যে পৌঁছানোর মধ্যে এক ধরনের ভ্রান্তি ও সংকট থেকে যায়। এরফলে গণতন্ত্র স্থায়ী হতে পারে না। নির্বাচনের এইসব পরিস্থিতিই বলে দেয় আমাদের দেশে বিভিন্ন কারণে এখনো গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সুদৃঢ় হয়নি। নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্বাচন ঘিরে মন-মানসিকতা এখনো কলুষমুক্ত হয়নি। দুঃখের বিষয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণে এদেশে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির বিকাশ বারবার হোঁচট খেয়েছে। উল্লিখিত পরিস্থিতিতে জনগণ তাদের জীবন-জীবিকার কারণে রাজনীতি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে অনেক সময়ে নিস্পৃহ হয়ে ওঠে। রাজনীতিকেও উপেক্ষা করতে শুরু করে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ কমে যায়। নাগরিকরা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কর্মকাণ্ডে তখনই উৎসাহিত হয়–যখন দেখে তাদের ভূমিকা বাস্তবে কার্যকর হতে দেখা যায়। বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে জনগণের ব্যাপক মোহমুক্তি ঘটছে। এই অবস্থার পরিবর্তন না করতে পারলে–গণতন্ত্র আরও বিপন্ন হয়ে উঠবে। আজকের সময়কালে জগতের রূপান্তর ঘটেছে, মানুষ এগিয়েছে। মানুষের মনোজগতের পরিবর্তন হয়েছে–আশা ও আকাঙ্ক্ষারও। চাহিদা বেড়েছে–প্রবহমান জীবনে। মানুষের দাবি মিটানোর জন্য এই রাষ্ট্র ও সরকার কতটুকু প্রস্তুত ও সামর্থ্য রাখে–তাও বিবেচনায় এনে গণতান্ত্রিক রূপবিন্যাসে এর প্রতিফলন ঘটানো বড় একটা চ্যালেঞ্জ। তবে, একটি ব্যবস্থা বিচার করার মানদ- হওয়া উচিত–সেই ব্যবস্থা সেই দেশে জনগণের কল্যাণে কতটুকু সাহায্য করে এবং অধিকাংশ জনগণের কাছ থেকে তা সমর্থিত কি না? জনগণ যদি সেই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ না করে–সমর্থন না করে–তবে তা হয়ে উঠবে অপশাসন ও অগণতান্ত্রিক। মানুষ নতুনকে গ্রহণ করছে–পুরনোকে বর্জন করে এগুচ্ছে। নতুন সমস্যা সমাধানে নতুনৎ নতুন সমাধানের পথ খুঁজছে। জন্ম, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, আবাস, যোগ্যতা প্রভৃতির পার্থক্য সত্ত্বেও মানুষ এক অভিন্ন হয়ে উৎকৃষ্ট মানবিক গুণের অধিকারী হয়ে সভ্যতা এগিয়ে নিয়ে যেতে আজ বদ্ধপরিকর। একসাথে বাঁচা, সুষমভাবে বাঁচা, মানবিক ও যুক্তযুক্তভাবে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-স্থানের ঊর্ধ্বে থেকে বাঁচা; আজকের মানুষের আরও সভ্য হয়ে ওঠার জন্য পরিপূরক ও জরুরি বিষয়। এমন বোধ জাগ্রত রেখেই–বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য অভিঘাতকে বিবেচেনায় নিয়ে আমাদের সম্মুখযাত্রাকে দৃঢ় করতে হবে–নতুন দিনের আলোয়! লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..