কফিল আহমেদ-এর কবিতা
১
ওদিকেই যাচ্ছিলো সবাই খুব রোজগারি হতে
আর ফিরছিলো দেহে মড়কের জীবানু নিয়ে
আর ওখানে সবাই ব্যস্ত ছিলো যার যার
পেটের দাউ দাউ নিয়ে
যার যার নিজস্ব রক্তের পীড়া নিয়ে
কিন্তু নিজের বমি নিজে পরিষ্কার করবার মতো কোনো অভ্যাস ছিলো না কারো
আর নগদ টাকা ছাড়া কোনো পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিলো না
তাই যে যেখানে পারতো সেখানেই হাগুমুতো সারতো ফাঁকেফাঁকে লুকিয়ে ঝুঁকিয়ে
মেয়েদের জন্য যা ছিলো প্রতিদিনকার যুদ্ধজয়ের মতোই আরো কঠিন সংগ্রামের
অবশ্য আমোদ আল্লাদের জন্য স্টেডিয়াম গ্যারিসন আর লেফটরাইটের জন্য সবুজ প্রান্তর ছিলো কিছু
কিন্তু মানুষের সাথে মানুষের দেখা হবার মতো
প্রেম হবার মতো নিরবতা ছিলো না কোনো
রাষ্ট্রের কেরানিগিরি শিখবার জন্য
মার্কেটিঙের দালালি করবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়
আর নানাদেশ থেকে আমদানি করা বড় বড় পণ্যশালা ছিলো কিছু কিছু
সারাদেশ থেকে নিয়ে আসা গবাদিপশুগুলিকে জবাই করার জন্য অলিগলি কসাইখানা
আর জনতার অসুখবিসুখ সারাবার নামে দোকানবাট্টা ছিলো কিছু
মরবার আগে ওখান থেকে ফিরছিলো অনেকেই
ফিরছিলো যার যার নিজস্ব গোরস্তানের দিকেই!
জুলাই ৩০, ২০১৯
২.
বলোতো শুকপাখি
এই যে বাংলাদেশ-
বাংলাদেশ বলে করো এতো ডাকাডাকি
আসলে এই বাংলাদেশটা কতো বড়ো
আসলে এই বাংলাদেশটা আজ কতোটা ছোটো
সেকথা তুমি আজ বলোতো পাখি
...
বুঝি একটাই শুকপাখি
থেকে থেকে দুই খাঁচাতে করছে ডাকাডাকি!
২০ জুলাই, ২০১৯
৩
অলড্রিন বলছিলো ‘অভাবনীয় নিরবতা’র কথা।
আর, নিল আর্মস্ট্রং বলছিলো বিজ্ঞানের নতুন জয়যাত্রার কথা। সচরাচর অনেকেই যেমন বলে থাকে।
তবে সেই নাইনটিন সিক্সটি নাইনে অলড্রিনের এই ‘অভাবনীয় নিরবতা’ কথাটার মাঝেই চাঁদকে অনেকটা খুঁজে পাওয়া যায়। যদিওবা চাঁদের বুকে অবতরণ করে পৃথিবীর কেউ কেউ সেই নিরবতাকে তছনছ করছে। বুকে বমি পর্যন্ত করে এসেছে। নিরবতাকে নোংরা করে এসেছে। এইতো, এই সপ্তাহকালেই ইন্ডিয়ান চন্দ্রযান-২ জ্বালানি চেম্বার লিক হবার কারণে আকাশপথ থেকে ফিরে এসেছে। ওদের এই ফিরে আসার খবরটা মন্দ লাগেনি আমার। এ যাত্রায় অন্তত ওদের থেকে একটু হলেও রক্ষা পেলো চাঁদ।
কিন্তু চীন নাকি চাঁদের অপর পিঠে খুব ঘাঁটি গাড়ছে। ওদের লক্ষ্য মনে হয় আরো বেশি কিছু। রাশিয়া আমেরিকাতো চাঁদের পিছু সবসময় লেগেই আছে। ওখানে ওরা সবাই মনে হয় নতুন নতুন জ্বালানি সম্পদ খুঁজে পাবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কিছু জানতে চাইলে এ নিয়ে নাসা পরিষ্কার কিছু বলবে বলে মনে হয় না। কতো পূর্ণিমাতে গৌতম বুদ্ধ, কতো অমাবস্যাতে মা কালির মুখমুরতির সামনে যেয়েও, আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ এলেও এসবের কতো কিছু নিয়ে যে একসময় ‘আমার’ সাথেই কতো আলাপ করেছি আমি! আর আমাদের বর্ষাকালীন রাতগুলিতে, হুহু চৈত্ররাতেও চাঁদ আর আমি একসাথে কতো কথা যে বলে রেখেছি! সময় মিললে একদিন সেসবের অনেক কিছুই বলবার ইচ্ছা আছে আমার।
১৮ জুলাই, ২০১৯
৪
ভেবে দেখো, এই দোয়েলটা যদি কাগজের আর ঘুঘুটা যদি প্লাস্টিকের হতো তাহলে পুরা সকালটাই কতোটা নিষ্প্রাণ আর কতোটা করুণ বর্জ্য হয়ে যেতো আমার। কিন্তু তা হয়নি, সেজন্য আমার কৃতাঞ্জলি নাও হে আজকের সকাল আমার! সত্যি সত্যি ঘঘুর ডাক শুনতে শুনতেই ঘুম ভাঙলো, আর সকালেই একটা দোয়েলকেও দোল খেতে দেখলাম সামনে আমার!
আর গতকাল ক্রিকেট- গ্যালারির দৃশ্যে অনুরাধা নামের তিরাশি বছরের যে বৃদ্ধাকে ভুভুজেলা বাজাতে দেখলাম, হায়, তার বাঁশিটা প্লাস্টিকের না হয়ে যদি পাতার বাঁশি হতো, তাহলে দৃশ্যটা যে আরো কতো নির্ভেজাল আর প্রাণবন্ত হতো তখন! কিন্তু তা হলো না! এই দুনিয়াটা কতোভাবে যে কতো উগ্র করুণ আর বিষাক্ত হচ্ছে প্রতিদিন! এই বিশ্ববিলাতে একটা উৎসবে এক বৃদ্ধা অনুরাধা বাঁশি বাজাচ্ছে, কিন্তু সে জানে না তার মুখের বাঁশিটা যে বিষাক্ত বর্জ্য!
কোলে খেলনা বাঘ নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কাল রাতে যারা ঘুমিয়ে গেছো, তোমাদের দেশাত্মবোধ নিয়ে কি আর বলবো! কতোদিন যে এদেশের আকাশ জমিন কিছুই দেখা হয় না তোমাদের! তাই একটু সেদিক তাকাতে বলছিলাম আর কি!
এতো যে খেলা দেখো, খেলা করো, যাকে এতো বুকে কোলে করে রাখো—- দৈবাৎ তাকে একটু ভাল করে ভেবেচিন্তে দেখো! বলছিলাম, যাও ঘুরে আসো, একবার একটু করে হলেও সুন্দরবন ঘুরে আসো!
সকাল, ০৩ জুলাই, ২০১৯
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন