বিপ্লবের প্রস্তুতিপর্বে

লেনিন ও বলশেভিকদের মতাদর্শিক সংগ্রাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
অভিনু কিবরিয়া ইসলাম : মার্কস-এঙ্গেলস যখন কমিউনিস্ট ইশ্তেহার লিখছেন, তখন রাশিয়ায় দোর্দণ্ডপ্রতাপে চলছে জারের আমল। ফরাসি বিপ্লব যেভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করেছিলো, পশ্চাদপদ রাশিয়ায় সে বিপ্লবের ছোঁয়া তেমন একটা লাগেনি। ১৮৬১ সালে রাশিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমিদাসপ্রথা বিলুপ্ত হলেও, সামন্তপ্রভুরা বহাল তবিয়তেই ছিলো। তবে এর মাঝেও রাশিয়ার কৃষিতে একটা বড় অংশে ছিলো ‘অবশ্চিনা’ বা সমবায় মালিকানা। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত কমিউনিস্ট ইশতেহারের রাশিয়ান সংস্করণের ভূমিকায় মার্কস ও এঙ্গেলস প্রশ্ন রেখেছিলেন, এই অবশ্চিনাগুলো কি ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত পুঁজিবাদী বিকাশের পথ ধরে এগুবে নাকি সরাসরি কমিউনিস্ট সাধারণ মালিকানার উচ্চতর স্তরে পৌঁছুবে? তারা আরো বললেন, যদি রাশিয়ার বিপ্লব সফল হয়, তা পশ্চিমের দেশগুলোর বিপ্লবকে একটি বার্তা দেবে, এবং রাশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য অংশের বিপ্লব একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে। সেই বিপ্লবের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিতে সাধারণ মালিকানা কমিউনিজমের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করতে পারে। তা করতে হলে, বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাঁধবে কে? রাশিয়ায় তখনো কোনো বিপ্লবী পার্টি গড়ে ওঠে নি। সর্বহারা শ্রেণি সংখ্যায় কম। কৃষকেরা সামন্তশোষণে পশ্চাদপদ অবস্থায় রয়েছে। বুর্জোয়া বিপ্লব সংঘটিত হয় নি, জারই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সে সময় রাশিয়ায় বিপ্লবীদের মধ্যে নারোদনিকদের চিন্তার বেশ প্রভাব ছিলো। নারোদনিকরা মনে করতো, রাশিয়ার বিকাশ পশ্চিমাদের মত করে হবে না, সেখানে পুঁজিবাদের বিকাশও সে অর্থে ঘটবে না। এখানে শ্রমিকশ্রেণি নয়, বরং কৃষক বিদ্রোহের মাধ্যমেই মুক্তি আসবে, জারতন্ত্রের পতন ঘটবে। অথচ, তখন রাশিয়ায় কৃষকদের মধ্যে শ্রেণিবিভাজন স্পষ্ট হতে শুরু করেছিলো। ধনী কৃষকদের (কুলাক) হাতেই ছিলো অধিকাংশ কৃষিজমি ও হালচাষে ব্যবহৃত ঘোড়ার মালিকানা। সামন্ত শোষণের জোয়াল থেকে মুক্ত হতে আধা সর্বহারা গরিব কৃষক ও মধ্য কৃষকেরা হিমশিম খাচ্ছিল, এবং কুলাকদের কাছেও তারা জিম্মি হয়ে পড়ছিলো। কুলাকদের স্বার্থ ও সাধারণ কৃষিজীবীর স্বার্থের মিল ছিলো না। শ্রেণিগত বিভাজনের সম্পর্কে ধারণা না থাকায়, নারোদনিকরা শেষ পর্যন্ত রাশিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে ব্যর্থ হয় ও ব্যক্তি সন্ত্রাসের দিকে ধাবিত হতে থাকে। সেসময়, রাশিয়ার মানুষের সাথে মার্কসবাদের সংযোগ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্লেখানভ। তিনি ও ভেরা জাসুলিচ রাশিয়ান ভাষায় মার্কসবাদী রচনাকে অনুবাদ করতে থাকেন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাশিয়াতেও শিল্প কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি প্রায়। গ্রামীণ আধা সর্বহারারা শহুরে সর্বহারায় পরিণত হতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে রাশিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ধর্মঘটের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই সময়ে লেনিন আসেন দৃশ্যপটে। লেনিনের বড় ভাই ছিলেন একজন বিপ্লবী। তিনি জারকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পান। সেসময়েই লেনিন বুঝতে পেরেছিলেন, তার ভাইয়ের লক্ষ্য ঠিক থাকলেও তা বাস্তবায়নের পথ ছিলো ভ্রান্ত। প্লেখানভের লেখার সংস্পর্শে এসে লেনিন মার্কসবাদ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। মার্কসবাদের গভীর অধ্যয়ন করতেন তিনি। সেন্ট পিটার্সবুর্গে তিনি বিভিন্ন পাঠচক্রে উপস্থিত হতেন এবং মার্কসবাদের চর্চা করতেন। তিনি নারোদনিকদের ভ্রান্ত পথকে খণ্ডন করলেন ও লিখলেন ‘জনগণের বন্ধু কারা’। তিনি সেন্ট পিটার্সবুর্গের শ্রমিকচক্রগুলোকে একত্রিত করে গড়ে তুললেন ‘শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি সংগ্রাম সংঘ’। তিনি শ্রমিকদের ধর্মঘট সংঘটিত করার কাজে নিয়োজিত হলেন। লেনিন মার্কসবাদকে আত্মস্থ করার সাথে সাথে রাশিয়ার বিপ্লব কীভাবে সংঘটিত করা যায়, তার পথ খুঁজতে থাকলেন। বিপ্লব সংঘটনের কাজে তিনি শুরু থেকেই নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রমকে নিয়োগ করেছিলেন। শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত করার দায়ে জারের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে জেলে নেয় ও পরবর্তীতে সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠায়। সাইবেরিয়াতে তার সুযোগ ঘটে আরো নিবিড়ভাবে মার্কসবাদ অধ্যয়নের। সেখানেই তিনি লেখেন, ‘রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ’ নামের গ্রন্থটি। রাশিয়ার কৃষিতে পুঁজিবাদ কীভাবে দখল প্রতিষ্ঠা করছে তা তিনি স্পষ্ট করে লেখেন। শহুরে শ্রমিকশ্রেণির সাথে গ্রামীণ সর্বহারা ও আধা সর্বহারা কৃষকদের মৈত্রীর মাধ্যমেই যে রাশিয়ার বিপ্লবী পরিবর্তন সম্ভব, সে কথাটি সম্ভবত সেসময়েই তিনি ভাবতে পেরেছিলেন। লেনিন বিদেশে থাকা অবস্থাতেই রাশিয়ায় ১৮৯৮ সালের মার্চ মাসে প্রথম কংগ্রেসে গঠিত হয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি। কংগ্রেসে প্রতিনিধি ছিলো মাত্র ৯ জন। নারোদবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মার্কস-এঙ্গেলসের চিন্তাধারাকে অনুসরণ করেই এই পার্টি গঠিত হয়। গঠিত হলে কী হবে, সেই কংগ্রেসে পার্টির কোনো কর্মসূচিই গ্রহণ করা যায়নি। উপরন্তু ৯ জন প্রতিনিধির ছয় জনই খুব অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে যান। বিপ্লব করতে প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত পার্টি। বিচ্ছিন্ন মার্কসিস্ট সার্কেলগুলোকে একত্রিত করে একটি পার্টিতে সংগঠিত করার জন্য প্রয়োজন ছিলো একটি পত্রিকার। লেনিন; প্লেখানভ, আক্সেলরড ও জাসুলিচের সহযোগিতায় জার্মানি থেকে বের করা হলো ‘ইস্ক্রা’। জারের পুলিশের নজর এড়িয়ে সেই পত্রিকা চলে যেত রাশিয়ায়, বিভিন্ন কৌশলে। লেনিন চেয়েছিলেন ইস্ক্রা শুধু পার্টির মতাদর্শগত ভিতকেই সংহত করবে না, বরং ইস্ক্রা পার্টির সাংগঠনিক ভিতকেও মজবুত করবে। ইস্ক্রার সংবাদদাতা ও এজেন্ট মিলে যে সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড়াবে, তার আশেপাশেই গড়ে উঠবে পার্টি। তাই হয়েছিলো। ইস্ক্রার এজেন্টদের সংগঠন পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভিত রচনা করতে পেরেছিলো। নারোদবাদের বিরুদ্ধে প্লেখানভ, লেনিনদের মতাদর্শিক সংগ্রাম নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয়। নারোদবাদের অন্তঃসারশূন্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর আসে আরেক বাধা। সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের মধ্যে চলে আসে অর্থনীতিবাদী ধারা। সহজ কথায় বলতে গেলে বলা যায়, অর্থনীতিবাদীরা মনে করত, শ্রমিকদের এখনকার কাজ হলো আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে যতটা সম্ভব মালিকপক্ষের কাছ থেকে অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া আদায় করা। রাজনৈতিক সংগ্রাম বা ধর্মঘটে শ্রমিকদের সংগঠিত করা উচিত নয়। এই অর্থনীতিবাদের বিরুদ্ধেও ইস্ক্রার সাহায্যে লেনিন গড়ে তুললেন প্রতিরোধ। লেনিন লিখলেন, ‘কী করিতে হইবে’। এই বইটি মূলত অর্থনীতিবাদের বিরুদ্ধে ছিলো এক চরম আঘাত। রুশ সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে অর্থনীতিবাদী ধারা পরাস্ত হলেও, বলশেভিক ও সুবিধাবাদী মেনশেভিকদের মতাদর্শিক পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়। পার্টির কর্মসূচি নির্ধারণে তেমন সমস্যা না হলেও, মেনশেভিকদের সাথে পার্থক্য দেখা যায় পার্টির সদস্য হওয়ার বিধিমালা বিষয়ে। লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা বললেন, পার্টি সদস্য হতে হলে শুধু পার্টি কর্মসূচি মানলে ও অর্থ দিলেই হবে না, পার্টির কোনো না কোনো পর্যায়ের সংগঠনে যুক্ত থাকতে হবে। মেনশেভিকরা এর বিরোধিতা করে বললো, সংগঠনে যুক্ত থাকতেই হবে বা শৃঙ্খলার আওতায় আসতেই হবে, পার্টি সদস্যপদ লাভের জন্য তা জরুরি নয়। লেনিনরা বললেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মধ্যে না আসলে এই ভীষণ প্রতিকূল সময়ে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ভোটাভোটিতে লেনিনরা হেরে যান, ফলে পার্টি সদস্যের বিধিমালার প্রশ্নে মেনশেভিকরাই জয়ী হয়। তবে, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বলশেভিকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ইস্ক্রার সম্পাদকমণ্ডলীতে ঠাঁই পান প্লেখানভ, লেনিন ও মেনশেভিক মারটভ। মারটভ সিদ্ধান্ত না মেনে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে পার্টিতে প্লেখানভ ইস্ক্রার পুরাতন সম্পাদকমণ্ডলী, যাতে ছিলো মেনশেভিকদের সংখ্যাধিক্য, সেটা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেন। লেনিন কংগ্রেসের নির্বাচিত সম্পাদকমণ্ডলীর বাইরে অন্য কাউকে নিতে রাজি হলেন না। ফলশ্রুতিতে, আপসহীন লেনিনকেই পদত্যাগ করতে হলো ইস্ক্রার সম্পাদকমণ্ডলী থেকে। বলশেভিক ও মেনশেভিকদের মতাদর্শিক পার্থক্য আরো স্পষ্ট হয় ১৯০৫ সালের বিপ্লবের সময়। সেসময় রাশিয়ায় একের পর এক শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়। ‘রক্তাক্ত রবিবার’-এ জারের প্রাসাদ অভিমুখে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অভিযাত্রায় হাজারো শ্রমিক নিহত হয়। শ্রমিক বিদ্রোহে কেঁপে ওঠে রাশিয়া, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কারখানায় কারখানায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি তথা সোভিয়েত। লেনিন রাশিয়ায় আসন্ন বিপ্লবের স্তরকে বুর্জোয়া বিপ্লব বলে চিহ্নিত করেন এবং মেনশেভিকদের আপসকামী নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলেন, শ্রমিকশ্রেণিকে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না, বরং নেতৃত্বমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সেসময় লন্ডনে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির তৃতীয় কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি মেনশেভিকরা অল্প কিছু প্রতিনিধি নিয়ে জেনেভায় সম্মেলন আহ্বান করে। এতে পার্টির ভাঙন ত্বরান্বিত হয়। এরপর লেনিন বলশেভিক ও মেনশেভিক কৌশলের পার্থক্য সকলের কাছে তুলে ধরতে লিখেন, ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল ডেমোক্রেসির দুই রণকৌশল’। ১৯০৫ সালের বিপ্লব ব্যর্থ হয়। জারতন্ত্র টিকে থাকে। শ্রমিকদের ও আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। স্তলিপিন সংস্কারের নামে মেহনতি কৃষক ও সাধারণ জনগণের ওপর নেমে আসে আরো নির্মম শোষণ। লেনিনকে রাশিয়া থেকে চলে যেতে হয়। সেসময় জার ‘ডুমা’ (সংবিধান সভা) ডাকলেও তাতে শ্রমিক ও কৃষক প্রতিনিধিদের অনুপাত ছিল নগন্য। বলশেভিকরা ১৯০৬ ও ১৯০৭ সালের ডুমা বয়কট করে। পরে অবশ্য লেনিন বলেছিলেন, বিপ্লবী পরিস্থিতিতে ১৯০৬ সালের ডুমা বর্জন করা সঠিক হলেও ১৯০৭ সালের ডুমা বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না। প্রতিক্রিয়ার কালে, আইনি ও বেআইনি উভয় পন্থায় শ্রমিকশ্রেণির সংগ্রামকে অগ্রসর করার জন্য লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা প্রস্তুত হয়। এসময় সরাসরি মার্কসবাদের উপর আক্রমণ আসে। মাখোঁপন্থিরা মার্কসীয় দর্শনকে আক্রমণ করে এবং রাশিয়াতেও তাদের অনুসারী তৈরি হয়। লেনিন তখন লিখেন ‘ম্যাটেরিয়ালিজম ও এম্পিরিওক্রিটিসিজম’ বইটি, যা মার্কসবাদের বিকৃত উপস্থাপনকে খণ্ডন করে। ইস্ক্রা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর বলশেভিকেরা ‘ভপারওদ’ (অগ্রগামী), ‘প্রলেতারি’ ‘জভেজদা’ (তারকা) নামের পত্রিকার মাধ্যমে তাদের মতবাদ প্রচার করে। একপর্যায়ে ১৯১২ সালের ২২ এপ্রিল তারা বের করে প্রাভদা (সত্য)-র প্রথম সংখ্যা। শ্রমিকদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই পত্রিকা। প্রাভদা খোলাখুলিভাবে জারতন্ত্র উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের রাজনীতি সচেতন করে তুলতো। কখন ধর্মঘট করতে হবে, কখন অর্থনৈতিক দাবি দাওয়ার চাইতে রাজনৈতিক সংগ্রামকে প্রাধান্য দিতে হবে, প্রাভদা সেই দিকনির্দেশনা দিতো। এখানেই লেনিন লেখেন, ‘শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের বিভিন্ন রূপ’ প্রসঙ্গে। প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সমাজতন্ত্রী দলগুলো পিতৃভূমি রক্ষার নামে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করে ও অংশ নেয়। লেনিন তখন এই যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং বলেন এই যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদের একে অপরের মধ্যে গোটা পৃথিবীটাকে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার দ্বন্দ্ব। এতে শ্রমিকশ্রেণির কোনো স্বার্থ নেই। তিনি লিখলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের দ্বিতীয় স্তর’ বইটি। তিনি দেখালেন, কীভাবে পুঁজিবাদ শেষ পর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদী যুগে পদার্পণ করে। তিনি ডাক দিলেন সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে নিজ দেশের শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে রূপান্তর করার। ১৯১৭ সালে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরে ক্ষমতায় আসে সাময়িক সরকার। একপর্যায়ে মেনশেভিক ও কৃষকদের পার্টি সোশ্যালিস্ট রেভলিউশনিরা সেই সরকারে যোগ দেয় বুর্জোয়াদের সাথে। বলশেভিকরা সেই সরকারে যোগ দেয় না। লেনিন রাশিয়ায় ফিরে এসে লেখেন বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’ যাতে তিনি লেখেন, বিপ্লবের প্রথম পর্বে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে বুর্জোয়াদের হাতে, এখন দ্বিতীয় পর্বে শ্রমিকশ্রেণি ও কৃষকদের মেহনতি অংশের ঐক্য গড়ে তাদের কাছে ক্ষমতা নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাময়িক সরকারকে কোনো সহযোগিতা নয়, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। সোভিয়েতগুলোতে বলশেভিক প্রাধান্য বৃদ্ধি করার দিকে মনোযোগ দেন লেনিন। ১৯০৫ সালেই লেনিন সোভিয়েতের বিপ্লবী সক্ষমতা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। মেনশেভিক ও সোশ্যাল রেভল্যুশনারিদের বিপরীতে বলশেভিকদের ‘রুটি, জমি, শান্তি’ ও ‘সমস্ত ক্ষমতা বুর্জোয়া পার্লামেন্টের বদলে চাই সোভিয়েতের হাতে’ স্লোগান মানুষকে আকৃষ্ট করেছিলো। এভাবে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (পরানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর) বলশেভিকদের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। এই পথ পরিক্রমা সরলরেখায় এগোয়নি। লক্ষ্যের ব্যাপারে দৃঢ় অথচ কৌশলে নমনীয় হয়ে বলশেভিকরা বিপ্লবের আকাবাঁকা পথে এগিয়েছেন। কখনো তারা আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, কখনো বেআইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন। কখনো পার্লামেন্ট বর্জন করেছেন, কখনো করেননি। ১৯০৫ সালে মেনশেভিকদের সাথে চরম মতপার্থক্য হওয়ার পরও ১৯০৬ সালের ঐক্য কংগ্রেসের পর দীর্ঘদিন তাদের সাথে এক পার্টিতে থেকে সংগ্রামকে অগ্রসর করেছেন। সোভিয়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বেই তারা হঠকারী কোনো পথ নেননি। সোভিয়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন আদায়ের জন্য তারা সোশ্যালিস্ট রেভ্যুলিউশনারিদের কৃষি কর্মসূচি হুবহু বাস্তবায়ন করার পথ নিয়েছিলেন। এসব কৌশল থাকলেও তারা কখনো তাদের লক্ষ্য গোপন করেনি। যখনই মার্কসবাদের উপর আঘাত এসেছে, যখনই জনগণের সংগ্রাম ভুলপথে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যখনই পার্টিকে বিপ্লবী সংগঠনে পরিণত করার বদলে ঢিলেঢালা পার্টিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলেছে, যখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সুবিধাবাদ, লেনিন ও বলশেভিকেরা তার বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম করেছেন। আমরা এ বছর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ পালন করছি। গত শতাব্দীর রাশিয়া আর এ শতাব্দীর বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এক নয়। আমাদের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন মাত্রার, তাই মার্কসবাদের সৃজনশীল বিকাশের মাধ্যমে রণকৌশলের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান হুবহু বলশেভিকদের মত হবে না। তবে অক্টোবর বিপ্লব যে শুধুমাত্র ১৯১৭ সালের ঘটনাপ্রবাহ নয়, অক্টোবর বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে যে দীর্ঘ মতাদর্শিক সংগ্রাম হয়েছে, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের দেশে সমাজতন্ত্র অভিমুখী বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের যে পর্যায়ে আমরা আছি, সেখানেও মার্কসবাদের উপর পুঁজিবাদী-নিওলিবারেল-সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শিক আক্রমণ, সুবিধাবাদ, উগ্র বাম হঠকারিতা কিংবা সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে আমাদের সক্রিয় মতাদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রয়োগবিহীন বা প্রয়োগ-অনুপযোগী জনবিচ্ছিন্ন মতাদর্শিক সংগ্রাম কোথাও বিপ্লব সংগঠিত করতে পারে না। লেনিন কংগ্রেসের নির্বাচিত সম্পাদকমণ্ডলীর বাইরে অন্য কাউকে নিতে রাজি হলেন না। ফলশ্রুতিতে, আপসহীন লেনিনকেই পদত্যাগ করতে হলো ইস্ক্রার সম্পাদকমণ্ডলী থেকে। বলশেভিক ও মেনশেভিকদের মতাদর্শিক পার্থক্য আরো স্পষ্ট হয় ১৯০৫ সালের বিপ্লবের সময়। সেসময় রাশিয়ায় একের পর এক শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়। ‘রক্তাক্ত রবিবার’-এ জারের প্রাসাদ অভিমুখে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অভিযাত্রায় হাজারো শ্রমিক নিহত হয়। শ্রমিক বিদ্রোহে কেঁপে ওঠে রাশিয়া, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কারখানায় কারখানায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি তথা সোভিয়েত। লেনিন রাশিয়ায় আসন্ন বিপ্লবের স্তরকে বুর্জোয়া বিপ্লব বলে চিহ্নিত করেন এবং মেনশেভিকদের আপসকামী নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলেন, শ্রমিকশ্রেণিকে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না, বরং নেতৃত্বমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সেসময় লন্ডনে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির তৃতীয় কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি মেনশেভিকরা অল্প কিছু প্রতিনিধি নিয়ে জেনেভায় সম্মেলন আহ্বান করে। এতে পার্টির ভাঙন ত্বরান্বিত হয়। এরপর লেনিন বলশেভিক ও মেনশেভিক কৌশলের পার্থক্য সকলের কাছে তুলে ধরতে লিখেন, ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল ডেমোক্রেসির দুই রণকৌশল’। ১৯০৫ সালের বিপ্লব ব্যর্থ হয়। জারতন্ত্র টিকে থাকে। শ্রমিকদের ও আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। স্তলিপিন সংস্কারের নামে মেহনতি কৃষক ও সাধারণ জনগণের ওপর নেমে আসে আরো নির্মম শোষণ। লেনিনকে রাশিয়া থেকে চলে যেতে হয়। সেসময় জার ‘ডুমা’ (সংবিধান সভা) ডাকলেও তাতে শ্রমিক ও কৃষক প্রতিনিধিদের অনুপাত ছিল নগন্য। বলশেভিকরা ১৯০৬ ও ১৯০৭ সালের ডুমা বয়কট করে। পরে অবশ্য লেনিন বলেছিলেন, বিপ্লবী পরিস্থিতিতে ১৯০৬ সালের ডুমা বর্জন করা সঠিক হলেও ১৯০৭ সালের ডুমা বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না। প্রতিক্রিয়ার কালে, আইনি ও বেআইনি উভয় পন্থায় শ্রমিকশ্রেণির সংগ্রামকে অগ্রসর করার জন্য লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা প্রস্তুত হয়। এসময় সরাসরি মার্কসবাদের উপর আক্রমণ আসে। মাখোঁপন্থিরা মার্কসীয় দর্শনকে আক্রমণ করে এবং রাশিয়াতেও তাদের অনুসারী তৈরি হয়। লেনিন তখন লিখেন ‘ম্যাটেরিয়ালিজম ও এম্পিরিওক্রিটিসিজম’ বইটি, যা মার্কসবাদের বিকৃত উপস্থাপনকে খণ্ডন করে। ইস্ক্রা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর বলশেভিকেরা ‘ভপারওদ’ (অগ্রগামী), ‘প্রলেতারি’ ‘জভেজদা’ (তারকা) নামের পত্রিকার মাধ্যমে তাদের মতবাদ প্রচার করে। একপর্যায়ে ১৯১২ সালের ২২ এপ্রিল তারা বের করে প্রাভদা (সত্য)-র প্রথম সংখ্যা। শ্রমিকদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই পত্রিকা। প্রাভদা খোলাখুলিভাবে জারতন্ত্র উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের রাজনীতি সচেতন করে তুলতো। কখন ধর্মঘট করতে হবে, কখন অর্থনৈতিক দাবি দাওয়ার চাইতে রাজনৈতিক সংগ্রামকে প্রাধান্য দিতে হবে, প্রাভদা সেই দিকনির্দেশনা দিতো। এখানেই লেনিন লেখেন, ‘শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের বিভিন্ন রূপ’ প্রসঙ্গে। প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সমাজতন্ত্রী দলগুলো পিতৃভূমি রক্ষার নামে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করে ও অংশ নেয়। লেনিন তখন এই যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং বলেন এই যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদের একে অপরের মধ্যে গোটা পৃথিবীটাকে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার দ্বন্দ্ব। এতে শ্রমিকশ্রেণির কোনো স্বার্থ নেই। তিনি লিখলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের দ্বিতীয় স্তর’ বইটি। তিনি দেখালেন, কীভাবে পুঁজিবাদ শেষ পর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদী যুগে পদার্পণ করে। তিনি ডাক দিলেন সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে নিজ দেশের শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে রূপান্তর করার। ১৯১৭ সালে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরে ক্ষমতায় আসে সাময়িক সরকার। একপর্যায়ে মেনশেভিক ও কৃষকদের পার্টি সোশ্যালিস্ট রেভলিউশনিরা সেই সরকারে যোগ দেয় বুর্জোয়াদের সাথে। বলশেভিকরা সেই সরকারে যোগ দেয় না। লেনিন রাশিয়ায় ফিরে এসে লেখেন বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’ যাতে তিনি লেখেন, বিপ্লবের প্রথম পর্বে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে বুর্জোয়াদের হাতে, এখন দ্বিতীয় পর্বে শ্রমিকশ্রেণি ও কৃষকদের মেহনতি অংশের ঐক্য গড়ে তাদের কাছে ক্ষমতা নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাময়িক সরকারকে কোনো সহযোগিতা নয়, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। সোভিয়েতগুলোতে বলশেভিক প্রাধান্য বৃদ্ধি করার দিকে মনোযোগ দেন লেনিন। ১৯০৫ সালেই লেনিন সোভিয়েতের বিপ্লবী সক্ষমতা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। মেনশেভিক ও সোশ্যাল রেভল্যুশনারিদের বিপরীতে বলশেভিকদের ‘রুটি, জমি, শান্তি’ ও ‘সমস্ত ক্ষমতা বুর্জোয়া পার্লামেন্টের বদলে চাই সোভিয়েতের হাতে’ স্লোগান মানুষকে আকৃষ্ট করেছিলো। এভাবে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (পরানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর) বলশেভিকদের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। এই পথ পরিক্রমা সরলরেখায় এগোয়নি। লক্ষ্যের ব্যাপারে দৃঢ় অথচ কৌশলে নমনীয় হয়ে বলশেভিকরা বিপ্লবের আকাবাঁকা পথে এগিয়েছেন। কখনো তারা আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, কখনো বেআইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন। কখনো পার্লামেন্ট বর্জন করেছেন, কখনো করেননি। ১৯০৫ সালে মেনশেভিকদের সাথে চরম মতপার্থক্য হওয়ার পরও ১৯০৬ সালের ঐক্য কংগ্রেসের পর দীর্ঘদিন তাদের সাথে এক পার্টিতে থেকে সংগ্রামকে অগ্রসর করেছেন। সোভিয়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বেই তারা হঠকারী কোনো পথ নেননি। সোভিয়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন আদায়ের জন্য তারা সোশ্যালিস্ট রেভ্যুলিউশনারিদের কৃষি কর্মসূচি হুবহু বাস্তবায়ন করার পথ নিয়েছিলেন। এসব কৌশল থাকলেও তারা কখনো তাদের লক্ষ্য গোপন করেনি। যখনই মার্কসবাদের উপর আঘাত এসেছে, যখনই জনগণের সংগ্রাম ভুলপথে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যখনই পার্টিকে বিপ্লবী সংগঠনে পরিণত করার বদলে ঢিলেঢালা পার্টিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলেছে, যখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সুবিধাবাদ, লেনিন ও বলশেভিকেরা তার বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম করেছেন। আমরা এ বছর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ পালন করছি। গত শতাব্দীর রাশিয়া আর এ শতাব্দীর বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এক নয়। আমাদের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন মাত্রার, তাই মার্কসবাদের সৃজনশীল বিকাশের মাধ্যমে রণকৌশলের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান হুবহু বলশেভিকদের মত হবে না। তবে অক্টোবর বিপ্লব যে শুধুমাত্র ১৯১৭ সালের ঘটনাপ্রবাহ নয়, অক্টোবর বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে যে দীর্ঘ মতাদর্শিক সংগ্রাম হয়েছে, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের দেশে সমাজতন্ত্র অভিমুখী বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের যে পর্যায়ে আমরা আছি, সেখানেও মার্কসবাদের উপর পুঁজিবাদী-নিওলিবারেল-সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শিক আক্রমণ, সুবিধাবাদ, উগ্র বাম হঠকারিতা কিংবা সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে আমাদের সক্রিয় মতাদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রয়োগবিহীন বা প্রয়োগ-অনুপযোগী জনবিচ্ছিন্ন মতাদর্শিক সংগ্রাম কোথাও বিপ্লব সংগঠিত করতে পারে না। লেখক: শিক্ষক, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..