
সিলেট সংবাদদাতা :
শ্রমিকের শ্রম ঘামে গড়ে উঠা মহানগরীতে আজ লুটেরাদের স্বার্থে শ্রমিকদের উৎক্ষাত করার পায়তারা চলছে। ঐতিহাসিকভাবে সিলেট শান্তি-সম্প্রিতি-মানবিকতার নগরী। এই নগরীকে ধনী, মধ্যবিত্ত, গরিব সকলের জন্য বাসযোগ্য করে গড়তে হবে। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হলে সর্বপ্রথম নাগরিকের জীবিকা নিরাপদ ও জীবন ব্যয় বহনের পর্যাপ্ত উপার্জন নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আমরা সিলেট প্রশাসনকে উল্টো পথে হাটতে দেখছি। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান- লুটেরাদের স্বার্থের নীতি নয়, গণমানুষের স্বার্থে শান্তি-সম্প্রীতি-মানবিকতার নীতিতে সিলেট গড়ুন।
গত ২৬ নভেম্বর বিকাল ৪টায় সিলেট মহানগরীর শারদা স্মৃতি ভবনের হল রুমে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট জেলার প্রতিনিধি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রতিনিধি সভায় ওয়াহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মাশরুখ জলিলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন সুমন, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, জেলা সিপিবির সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, সিপিবি সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে বাংলাদেশের নগরীসমুহের নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়ছে। লুটপাটের স্বার্থে বড় বড় লোক দেখানো প্রজেক্ট করা হয় যা সকলের জন্য বাসযোগ্য নগরী নিশ্চিত না করে দীর্ঘ মেয়াদে জনভোগান্তির কারণ হয়ে উঠছে। নগরীর সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে গণস্বার্থের নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
প্রশাসনের ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধের সিদ্ধান্তে নগরীর ৩০ হাজার রিকশা শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপনের প্রসঙ্গে এনে বক্তারা বলেন, ‘শ্রমিকদের সন্তানরা পড়ালেখা করতে পারছে না। তারা বাধ্য হচ্ছে শিশু শ্রমে যুক্ত হচ্ছে। এমন মানবিক বিপর্যয়ের সিলেট আমরা চাই না।’
প্রতিনিধি সভায় বক্তারা- অবিলম্বে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স ও যৌক্তিক নীতিমালাসহ রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
প্রতিনিধি সভা শেষে শ্রমিকনেতা রায়হান আহমেদকে সভাপতি, ধানিছ মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল আজিজকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা কমিটি গঠন করা হয়।