টাকার শক্তি

কার্ল মাক্স; অনুবাদ : জাভেদ হুসেন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

এই লেখাটি কার্ল মার্ক্সের ১৮৪৪ সালের ইকোনমিক এন্ড ফিলোজফিক ম্যানুস্ক্রিপ্টের একটি অধ্যায়। মার্ক্স এটি লেখেন ২৬ বছর বয়সে। পাঠক, পড়ে দেখুন, মনে হবে ঠিক আজকে আপনারই সমাজের দেশের কোনো মানুষ এই লেখাটি লিখেছেন। অনুবাদটি করা হয়েছে ইংরেজি থেকে। মানুষের অনুভূতি, আবেগ, ইচ্ছাগুলোকে আমরা কেবল মনোজগতের বিষয় হিসেবে ধরে না নিয়ে, এগুলোকে মানুষের অস্তিত্বেরই একটি জীবন্ত প্রকাশ, প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত কিছু হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। এই অনুভূতিগুলো কেবল তখনই বাস্তব হয়ে ওঠে, যখন তারা চোখে দেখা, ছোঁয়া বা ব্যবহারযোগ্য কোনো বাস্তব জিনিসে রূপ নেয়। তাহলে সেগুলো থেকে কয়েকটা ব্যাপার বের হয়ে আসে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো: ১. প্রতিটি অনুভূতির প্রকাশের নিজস্ব একটি ভঙ্গি বা ধরন থাকে। অর্থাৎ, কোনো চাহিদা বা অনুভূতি ঠিক কীভাবে পূরণ হচ্ছে, সেটাই বলে দেয় সেই অনুভূতির প্রকৃতি। অনুভূতির চরিত্র নির্ধারিত হয়, সেটা যেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে। ২. কিছু অভিজ্ঞতা জড়িয়ে আছে কোনো জিনিসকে সরাসরি ব্যবহার বা খরচ করার সঙ্গে। যেমন খাওয়া, পান করা, বা কোন কাঁচা উপাদান দিয়ে কিছু বানানো। সে জিনিসগুলোকে ব্যবহার করাই তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সত্যিকারের স্বীকৃতি। ব্যবহারের মধ্য দিয়ে জিনিসটি বিলীন হয় ঠিকই, কিন্তু সেই বিলীন হওয়াতেই জিনিসটির ব্যবহার আর অর্থ প্রকাশ পায়। ৩. মানুষ এবং তার অনুভূতিগুলো মানবিক। তাই কোনো কিছুর প্রতি অন্য কারও আনন্দও আমার নিজের আনন্দ হয়ে উঠতে পারে। মানুষের মধ্যে এই পারস্পরিক আনন্দের ক্ষমতাও তার মানবিকতার অংশ। ৪. মানুষের আবেগ-অনুভূতি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন শিল্প, প্রযুক্তি আর কাজের পরিসর পরিণত হয়—অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পত্তির কাঠামোর মাধ্যমে। তাই “মানুষ” নিয়ে যেকোনো বৈজ্ঞানিক চর্চা আসলে মানুষেরই তৈরি কাজ- নিজের ওপর নিজেরই বোঝাপড়া। ৫. ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ বলতে শুধু কোনো কিছু নিজের নামে রাখাকে বোঝায় না। এর আসল মানে হলো- মানুষের যেসব জিনিস দরকার, যেগুলো সে ব্যবহার করে বা উপভোগ করে, সেগুলো বাস্তবভাবে তার জীবনে থাকা। টাকা সবকিছু কিনতে পারে। টাকা সবকিছুকে নিজের করে তুলতে পারে। তাই এটা এক ধরনের সর্বশক্তিমান সম্পত্তির প্রতীক। টাকার এই সামগ্রিক ক্ষমতাই টাকাকে অলঙ্ঘ্য বলে তোলে। তাই টাকাকে প্রায়শই দেখা হয় সর্বশক্তিমান হিসেবে। টাকা হলো সেই মাধ্যম, যা মানুষের চাহিদা আর জিনিসের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে- মানুষের জীবন আর জীবনের উপায়গুলোর মধ্যে সংযোগ ঘটায়। কিন্তু এই সংযোগকারীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে, টাকা মানুষকে অন্য মানুষদের থেকেও বিচ্ছিন্ন করে তোলে। সে অর্থে, টাকাই অন্য মানুষ। গ্যোথের ফাউস্ট নাটকে মেফিস্টোফেলিস বলেন : কি বলছ!; হাত, পা, মাথা আর পিঠ- সবই তো তোমার!; আর জীবনের স্বাদ নিতে যা কিছু নেওয়া যায়,; ওসব কি তোমার নয় বলো?; ধরো, আমার ছয়টা ঘোড়া আছে।; তবে কি তাদের শক্তি আমার সম্পত্তি নয়?; আমি যখন ছুটে চলি, তখন তো এমন মনে হয়; যেন ঘোড়ার পায়ের গতি আমারই। শেকসপিয়ারের টাইমন অব অ্যাথেন্স নাটকে তিনি লিখেছেন : সোনা? ঝলমলে, হলুদ, দামী সোনা?; না, দেবতারা, আমি অলস ভক্ত নই!...; এতটুকু সোনা কালোকে সাদা, কুৎসিতকে সুন্দর,; ভুলকে ঠিক, নিচকে মহৎ,; বৃদ্ধকে তরুণ, কাপুরুষকে সাহসী করে দেয়...; চোরকে সম্মান এনে দেয়; আরেক জায়গায় শেক্সপিয়র টাকাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন : যে তোমার ছোঁয়ায় বরফ গলে যায়,; যে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে!; তুমি সব ভাষায় কথা বলো,; তুমি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাও,; এমনকি পশুকেও রাজত্ব দিতে পারো! শেক্সপিয়ার এখানে টাকার প্রকৃত স্বভাবকে অসাধারণভাবে প্রকাশ করেছেন। গ্যাটের উক্তি দিয়েই আমরা এই আলোচনার শুরু করি। যে জিনিস টাকার মাধ্যমে আমার নাগালে আসে—যেটার জন্য আমি দাম দিতে পারি—সেই জিনিসটাই আমি। কারণ, আমি টাকার মালিক। টাকার যতটা ক্ষমতা, আমারও ঠিক ততটাই। টাকার গুণাবলিই আমার গুণ। টাকার শক্তিই আমার শক্তি। ফলে, আমি কে, আমি কী পারি- এসব আর আমার নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে ঠিক হয় না, ঠিক হয় আমার টাকার ক্ষমতা দিয়ে। আমি যদি দেখতে কুৎসিত হই, তবু টাকার জোরে সবচেয়ে সুন্দর নারীকে পেতে পারি। সেক্ষেত্রে আমি আর কুৎসিত থাকি না। কারণ আমার কুৎসিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাধারণভাবে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার কথা। আমার টাকা থাকলে হবে তার উলটো। আমার শরীরে যদি সমস্যা থাকে, আমি যদি পঙ্গু হই, তবু টাকার জোরে গাড়ি, পালকি, চাকর-বাকর বা আরও অনেক ‘পা’ কিনে ফেলতে পারি। যেমন ধরো, ট্যাক্সি, লিফট, হুইলচেয়ার, দেহরক্ষী ইত্যাদি। অর্থাৎ, আমি শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও, টাকা আমাকে যেমন ইচ্ছে সব পা এনে দেয়। তাই আমি পঙ্গু থাকি না। আমি চরিত্রহীন হই, অসৎ, নিষ্ঠুর বা বোকা হতে পারি। কিন্তু টাকাকে তো সম্মান করা হয়। আর তাই টাকার মালিক হিসেবেও আমাকেও সম্মান করা হবে। টাকার চাইতে ভালো আর কিছু নেই। তাই যার কাছে টাকা আছে, তাকেও ভালো বলে মেনে নেয় সবাই। তার ওপর, টাকা থাকলে অসৎ হওয়ার কষ্টটাও নেই। ফলে আমাকে সৎ হিসেবেই মনে করা হয়। আমি যদি মূর্খ হই, তাও ক্ষতি নেই- কারণ টাকা-ই সব কিছুর আসল ‘বুদ্ধি’। তাহলে টাকার মালিক কিভাবে মূর্খ হতে পারে? আর টাকার মালিক তো চাইলেই বুদ্ধিমান লোকজনকে কিনে নিতে পারে। তাহলে যে বুদ্ধিমানদের কিনে নিতে পারে, তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান আর কে আছে? যা কিছু মানুষের মন চায়- ভালোবাসা, ক্ষমতা, আরাম, আনন্দ, নিরাপত্তা- আমি টাকার জোরে সব কিছু পেতে পারি। তাহলে কি আমি সেই সব মানবিক ক্ষমতার অধিকারী নই? টাকা কি তাহলে আমার সব অপারগতাকে তার ঠিক উল্টো শক্তিতে পরিণত করে না? যদি টাকা-ই আমাকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করে, সমাজকে আমার সঙ্গে বেঁধে রাখে, প্রকৃতি আর মানবিক সম্পর্কের মধ্যে সংযোগ ঘটায়- তাহলে কি টাকা-ই সব বন্ধনের আসল মাধ্যম নয়? আর একইসাথে কি এটি বিচ্ছেদেরও মাধ্যম নয়? টাকা হলো সেই রসায়ন যা সব কিছু গলিয়ে একসঙ্গে মিলিয়ে দেয়, আবার একে অপর থেকে বিচ্ছিন্নও করে ফেলে। শেকসপিয়ার দুইটি জিনিস বিশেষভাবে তুলে ধরেন: ১. টাকা হলো দৃশ্যমান ঈশ্বর-যে সব মানবিক ও প্রাকৃতিক গুণকে তার বিপরীতে রূপান্তর করে; যা অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে, সব কিছুকে বিকৃত করে, গুলিয়ে ফেলে। ২. টাকা এমন এক জিনিস, যাকে সবাই ব্যবহার করে। টাকা মানুষ আর গোটা জাতিকেও দালালের মতো কিনে-বেচে ফেলতে পারে। এই বিকৃতি আর গুলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আসলে একটা সত্য থেকে উঠে আসে। টাকা মানুষের এক প্রকার বিচ্ছিন্ন ও বহিরাগত ক্ষমতা। মানুষ যা নিজে করতে পারে না, তা টাকার সাহায্যে করতে পারে। আমি যদি কোনো বিশেষ খাবার চাই বা হেঁটে যেতে না পারি—তাহলে টাকাই আমাকে খাবার এনে দেয়, গাড়ি এনে দেয়। অর্থাৎ, টাকাই আমার কল্পনা থেকে বাস্তবতায় রূপান্তর ঘটায়—চাহিদাকে বাস্তব করে তোলে। এভাবেই টাকা এমন এক শক্তি হয়ে ওঠে যে সৃষ্টি করতে পারে। নিঃসন্দেহে যার টাকা নেই, তারও চাহিদা থাকে। কিন্তু তার সেই চাহিদা কেবল কল্পনাই থেকে যায়- তা বাস্তবে রূপ নেয় না। তার চাহিদা অন্যদের কাছে বাস্তবতা নয়। যার চাহিদার টাকার জোর আছে, তার চাহিদাই বাস্তব। যার চাহিদা কেবল প্রয়োজন, তা অবাস্তব। এটাই হচ্ছে অস্তিত্ব আর চিন্তার পার্থক্য, বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনার পার্থক্য। আমার যদি কোথাও ভ্রমণের টাকার জোগান না থাকে, তাহলে আমার ভ্রমণের চাহিদা বাস্তব নয়। আমার যদি লেখাপড়ার যোগ্যতা থাকে, কিন্তু টাকার অভাবে আমি পড়তে না পারি, তাহলে সেই যোগ্যতাও অবাস্তব। অন্যদিকে, আমার যদি প্রকৃত কোনো আগ্রহ বা ক্ষমতা না থাকে, কিন্তু টাকার জোরে আমি পড়াশোনা করতে পারি- তাহলে আমার পড়ালেখার করবার অযোগ্যতা বা অক্ষমতাও হয়ে ওঠে আমার প্রকৃত ‘যোগ্যতা’। টাকা এমন এক বাহ্যিক ও সর্বজনীন মাধ্যম, যা মানুষের ভেতর থেকে বা সমাজের প্রকৃত সম্পর্ক থেকে জন্মায় না। বরং এটা এমন এক শক্তি, যা কল্পনাকে বাস্তবে বদলায়, আবার বাস্তবকে কেবল কল্পনার ছবি বানিয়ে ফেলে। মানুষের আর প্রকৃতির যে সত্যিকারের গুণ ও শক্তি আছে- টাকা সেগুলোকে বানিয়ে ফেলে নিছক ধারণা, বিমূর্ত চিন্তা- যার ফলে তা হয়ে ওঠে অপূর্ণতা, অথবা হতাশাজনক ভ্রান্তি। একইভাবে, যেসব গুণ আসলে দুর্বল, যেগুলো কেবল কারও কল্পনায় আছে- টাকা সেগুলোকে বাস্তব শক্তিতে রূপ দেয়। এই দিক থেকে দেখলে, টাকা এমন এক বিকৃত শক্তি, যা ব্যক্তিত্বকে উল্টে দেয়- ভালোকে খারাপ, খারাপকে ভালো, যোগ্যতাকে অযোগ্যতা আর অযোগ্যতাকে যোগ্যতা হিসেবে তুলে ধরে। তাই টাকা হয়ে ওঠে এমন এক শক্তি, যা শুধু ব্যক্তিমানুষকেই বিকৃত করে না, সমাজের যেসব সম্পর্ক, নিয়ম বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে ‘স্থায়ী’ বা ‘স্বতন্ত্র’ বলে মনে করে, সেগুলোকেও উল্টেপাল্টে দেয়। টাকা বিশ্বস্ততাকে বদলে দেয় বিশ্বাসঘাতকতায়, ভালোবাসাকে পরিণত করে ঘৃণায়, ঘৃণাকে বানিয়ে ফেলে ভালোবাসা। নৈতিকতা পরিণত হয় পাপে, আর পাপ হয়ে যায় গুণ। চাকর হয়ে ওঠে প্রভু, আর প্রভু হয়ে পড়ে চাকর। মূর্খতা হয়ে ওঠে বুদ্ধিমত্তা, আর বুদ্ধিমত্তা দেখায় মূর্খতার মতো। এই সমাজে আপনি মূল্য বলতে যা বোঝেন টাকাই হচ্ছে তার জীবন্ত রূপ। টাকা না থাকলে এসব ধারণার কোন কাজ নেই। টাকা তাই এসব মূল্যকে এলোমেলো করে দেয়, উল্টে দেয়। টাকা দুনিয়াকে পা নিচে মাথা ওপরে দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। প্রাকৃতিক এবং মানবিক- সব গুণ, সব সম্পর্ক, সব স্বভাবকে এক ভয়ংকর এলোমেলো করে দেওয়া খেলায় পরিণত করে। যে টাকা দিয়ে সাহস কিনতে পারে, প্রকৃতপক্ষে কাপুরুষ হলেও সেই সাহসী। কারণ টাকা কোনো একটি নির্দিষ্ট গুণ, একটি জিনিস বা মানুষের কোনো নির্দিষ্ট ক্ষমতার বিনিময়ে আসে না। টাকা মানুষ ও প্রকৃতির পুরো জগৎকেই কেনার ক্ষমতা রাখে। সেই কারণে, টাকার মালিকের কাছে এটা এমন এক ক্ষমতা হয়ে দাঁড়ায়, যার মাধ্যমে এক গুণকে অন্য গুণে, এমনকি একেবারে বিপরীত গুণেও বদলে ফেলা যায়। টাকা যেন সবকিছুর বিনিময়যোগ্যতা তৈরি করে দেয়। সাহসের বদলে কাপুরুষতা, ভালোবাসার বদলে ঘৃণা, গুণের বদলে অপগুণও আদান-প্রদানযোগ্য হয়ে যায়। এতে বিপরীত বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যন্ত একে অপরকে আলিঙ্গন করে ফেলে। টাকা যেন অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। ধরে নাও, মানুষ একজন মানুষ হিসেবে আচরণ করছে, আর তার চারপাশের জগতের সঙ্গে সম্পর্কও মানবিকভাবে গড়ে উঠেছে। তাহলে ভালোবাসা তুমি পাবে শুধু তখনই, যখন তুমি কাউকে ভালোবাসবে। বিশ্বাস পাবে তখনই, যখন তুমি কাউকে বিশ্বাস করবে। শিল্প উপভোগ করতে চাও? তাহলে তোমার নিজের মধ্যেও শিল্পবোধ থাকতে হবে। অন্যদের উপর প্রভাব ফেলতে চাও? তাহলে এমন একজন হতে হবে, যার আচরণ অন্যকে উৎসাহ দেয়, অনুপ্রাণিত করে। মানুষের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে তোমার প্রতিটি সম্পর্কই তখন তোমার নিজের ইচ্ছা, ব্যক্তিত্ব আর জীবনের একটি নির্দিষ্ট প্রকাশ হয়ে ওঠে। তুমি যদি কাউকে ভালোবাসো, কিন্তু সে ভালোবাসা যদি কারও মধ্যে ভালোবাসা না জাগায়- অর্থাৎ, তোমার ভালোবাসা যদি ভালোবাসা হিসেবে কাজ না করে, যদি তা কাউকে তোমাকে ভালোবাসতে আকর্ষণ না করে- তাহলে সেই ভালোবাসা আসলে দুর্বল, ব্যর্থ; একধরনের দুর্ভাগ্য। লেখক : গবেষক, অনুবাদক ও সাংবাদিক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..