গার্মেন্ট টিইউসির সমাবেশে মনজুর

দমন-নির্যাতন বন্ধ করে যৌক্তিক দাবি মেনে নিন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি দশ হাজার টাকা মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা দাবির ভিত্তিতে অবিলম্বে অর্থবহ আলোচনা ও মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু করে গার্মেন্ট শিল্পে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান প্রবীণ শ্রমিকনেতা কমরেড মনজুরুল আহসান খান। তিনি বলেন, গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীরা আজ মূল মজুরি দশ হাজার টাকার যে দাবি উত্থাপন করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ দীর্ঘদিন যাবৎ একই দাবি জানিয়ে আসছে। অতীতে বিভিন্ন সময় গার্মেন্ট শ্রমিকরা বিদ্রোহ করেছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসায় শিল্পের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে সবটাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। কমরেড মনজুর গার্মেন্ট শ্রমিকদের জীবনমান সম্পর্কে বলেন, খ্রীষ্ট ধর্মের প্রধান পোপ এর আগে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের দাস বানিয়ে রাখা হয়েছে মর্মে বক্তব্য দিয়েছিল। অথচ আমাদের দেশের কর্তা ব্যক্তিরা সেই দুঃখ-কষ্টকে বিবেচনায় নিতে পারেন না। শ্রম সচিব ইতিমধ্যেই বলেছেন যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ২০১৩ সালের মজুরি বৃদ্ধির সময়ই মালিকরা শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি না করে তিন বছর পর মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছিল। তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর কোন উদ্যোগ না থাকায় বর্তমান চড়া মূল্যের বাজারে শ্রমিকদের পক্ষে এই মজুরিতে জীবন চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমেছে এবং শিল্প ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গার্মেন্টের এক শ্রেণীর দালালদের মীর জাফর আখ্যায়িত করে তিনি আরো বলেন, যারা শ্রমিকদের আন্দোলনকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে থাকে তাদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। মনজুর আরো বলেন, হাজার হাজার শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিকের নামে মামলা দিয়ে, গ্রেফতার করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কমরেড মনজুর তাই শ্রমিকদের উপর দমননীতির পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম চালু করারও দাবি জানান। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হওয়া সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিকনেতা মণ্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি সাদেকুর রহমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ.এম মিন্টু, প্রচার সম্পাদক জালাল হাওলাদার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন ও কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদীন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..