নাচোলের ‘রাণীমা’ ইলা মিত্র
কারাবন্দী ইলা মিত্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ওমর তারেক চৌধুরী
পৈত্রিক সূত্রে ইলা মিত্র অবিভক্ত বাংলার পূর্বাঞ্চলের মেয়ে। পিতা নগেন্দ্রনাথ সেনের বাড়ি ছিল ব্রিটিশ বা পাকিস্তান জমানার যশোর জেলার ঝিনাইদহের বাগুটিয়া গ্রামে। কিন্তু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর কর্মস্থল ছিল কলকাতা। সেখানেই জন্ম হয় ইলা (সেন) মিত্রর। স্বাভাবিক কারণে ইলা মিত্রর লেখাপড়া, আলোচিত ও কৃতী ক্রীড়াবিদ হিসেবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠা এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া সবই ঘটেছিল কলকাতায়। তিনি লেখাপড়া করেন কলকাতার বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজে। বেথুন কলেজ থেকেই তিনি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করেন ১৯৪৪ সালে। বিয়ে ও রাজনীতিতে জড়িত হবার ফলে তাঁর লেখাপড়ায় প্রায় দেড় যুগের ছেদ ঘটেছিল। লেখাপড়ার শেষ অংশটি তিনি পূরণ করতে চেয়েছিলেন রাজশাহী কারাগারে বন্দী অবস্থায় থাকার সময়ে।
ইলা মিত্রর জীবন পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের মাঝে বৃত্তাকারে ঘোরার একটি কাকতালীয় অদৃশ্য সূত্রে যেন বাঁধা ছিল। ১৯৪৫ সালে মালদার কমিউনিস্ট ও কৃষক আন্দোলনের নেতা রমেন মিত্রর সঙ্গে বিবাহের সূত্রে তিনি চলে আসেন মালদার নবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর হাটের শ্বশুরবাড়িতে। রমেন মিত্রর সঙ্গে ক্রমশ যুক্ত হন তেভাগা আন্দোলনে। ১৯৪৭ সালে পাক-ভারতের স্বাধীনতার ফলে দুই দেশের সীমান্ত ভাগ হলে নবাবগঞ্জ তথা রামচন্দ্রপুর হাটসহ ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ ও নাচোল; মোট পাঁচটি থানা পূর্ববঙ্গের রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। নতুন মহকুমাটির নাম হয় নবাবগঞ্জ। রমেন ও ইলা মিত্র তাঁদের রাজনৈতিক তৎপরতায় ও সাংগঠনিকভাবে তৎপরতা বজায় রাখেন পাকিস্তানে আসা নতুন অঞ্চলে। এক অর্থে পূর্ব বাংলার মেয়ে ফিরে আসেন নিজ দেশে। তিনি হয়ে ওঠেন নাচোলের মতো পশ্চাৎপদ অঞ্চলে মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রসারের শিক্ষক এবং কৃষক আন্দোলনের সূত্রে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বা নাচোলের ‘রাণী মা’! কিন্তু চূড়ান্তভাবে ১৯৫৪ সালে আবার ফিরে যেতে হয় কলকাতায়; দুই বাংলায় চলার বৃত্তটি পূরণ করতে।
নাচোলে ১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারিতে আকস্মিকভাবে কৃষক আন্দোলনের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিক্ষুব্ধ কৃষকরা নাচোল থানার দারোগাসহ তিনজন সশস্ত্র পুলিশ সিপাহীকে হত্যা করে তাদের অস্ত্রশস্ত্র কেড়ে নেয়। এই ঘটনার পরিণতিতে পুরো এলাকায় নেমে আসে পাকিস্তানের পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর নির্মম হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। পুরো আন্দোলন ছত্রখান হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ইলা মিত্র এলাকা থেকে নিরাপদে সরে যাবার সময় রহনপুর স্টেশনে ধরা পড়েন সাথী বৃন্দাবন সাহাসহ। তাঁদের উপরে, বিশেষত ইলা মিত্রর ক্ষেত্রে, নাচোল থানায় বর্বরোচিত ও নারকীয় নিপীড়নের ঘটনা, রাজশাহী আদালতে দেয়া তাঁর ‘জবানবন্দী’, তাঁদের বিচার ও সাজা, হাইকোর্টের নির্দেশে পুনর্বিচার হওয়ার ঘটনাবলি বহুল পরিচিত।
১৯৫০ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল ইলা মিত্রর কারাবন্দী জীবন। যা কার্যত বহাল ছিল ১৯৫৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। পুলিশের নিপীড়নের ফলে পুরো জেলজীবনই তিনি কার্যত গুরুতরভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটলে, ১৯৫৪ সালে জানুয়ারি মাসে তাঁর সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁকে মুক্তি দেবার বিষয়েটি সাধারণ্যে সম্ভবত স্পষ্টভাবে পরিষ্কার ছিল না। সাধারণ্যে সম্ভবত ধারনা ছিল তিনি বন্দী।
‘নাচোল পুলিশ হত্যা মামলা’ শেষ হয়েছিল ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারিতে। ইলা মিত্রসহ ২২জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। তারপর সেই মামলার আপিল গড়ায় হাইকোর্টে এবং হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় ফিরে আসে রাজশাহীর আদালতে। সেখানে ২০ বছরের সাজা কমে হয় ১০ বছর।
জেলে থাকা অবস্থায় ইলা মিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পরীক্ষা দেবার সিদ্ধান্ত নেন ১৯৫১ সালের শেষ দিকে। তাঁর ইচ্ছা জানিয়ে তিনি আবেদনপত্র পেশ করেন। এই নিয়ে শুরু হয় প্রধানত পূর্ব বাংলার কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শক এ. এইচ. খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কারাগার বিভাগ) সহকারী সচিব ওয়াই এ খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ রব চৌধুরীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চিঠি চালাচালি, আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভিন্নতা এবং অবশেষে পরীক্ষা দেবার অনুমতি পাবার প্রক্রিয়া।
ইলা মিত্র ঠিক কত তারিখে ও কার কাছে প্রাথমিকভাবে আবেদন পাঠান, তার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি এ সংক্রান্ত পাওয়া চিঠিপত্রগুলো থেকে। পরবর্তী সময়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ রব চৌধুরীর ইলা মিত্রকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৫১ তারিখে লেখা সংক্ষিপ্ত ও নেতিবাচক উত্তরের অনুলিপি থেকে সহজে অনুমান করা যায় ইলা মিত্র এবং কারাগার দফতর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মাঝে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালের শেষ দিকে। ইলা মিত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো উত্তরের কপিটি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেন্ডেন্টকেও পাঠানো হয়েছিল অবগতির জন্য।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তাঁর দুই-বাক্যের চিঠিতে ইলা মিত্রকে জানিয়ে দেন: নিয়মানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে কেবল নিরাপত্তা বন্দীরা অংশ নিতে পারেন। আপনি নিরাপত্তা বন্দী না হওয়াতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রার্থী হবার আপনার আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উত্তর ইলা মিত্রকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করলে তিনি কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ও কারাগারে অন্যান্য যে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তার সুরাহা করার আবেদন জানান।
পূর্ববঙ্গের কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শককে ইলা মিত্র ১৯৫২ সালের ৮ মার্চ লিখেছিলেন: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির (বিচার চলাকালীন সময়ে তিনি প্রথম শেণির বন্দী ছিলেন। বন্দী নম্বর ৩৭২১) মহিলা বন্দী হিসেব কারাগারে যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি তা আপনাকে জানাতে চাই। তিনি তিনটি বিষয়ে লিখেছিলেন। প্রথমত, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পরীক্ষা দিতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু, দুঃখের বিষয় সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থী হবার যুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় আমার আবেদনটি অগ্রাহ্য করেছে। বিষয়টি আমার জন্য অতিশয় বৈপরীত্যমূলক। আমি অনুরোধ করব আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আমাকে পরীক্ষা দেবার বিশেষ অনুমতি নেবার ব্যবস্থা করে আমার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করবেন। কারাগারের গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বইর সংগ্রহ নেই। আমার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তার জন্য গ্রন্থাগারে বইয়ের সংগ্রহ বাড়ানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, আমার সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার আমাকে উচ্চতর শেণির সুবিধাদি দিয়েছে। কিন্তু, আমাকে পরিধেয় হিসেব দেয়া কাপড়গুলো এত রুক্ষ যে তা আমার জন্য সম্পূর্ণ ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। এছাড়া আমাকে প্রয়োজনের তুলনায় অতি স্বল্পসংখ্যক কাপড় দেয়া হয়। আমাকে উন্নতমানের চারটি শাড়ী, চারটি ব্লাউজ ও চারটি সায়া দেবার জন্য অনুরোধ করছি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ রব চৌধুরীর ইলা মিত্রকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৫১ সালে দেয়া চিঠির উত্তরে কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শক ৭ এপ্রিল ১৯৫২ সালে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানান কারাবিধি এবং ১৯৪৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী কোনো শোভন আচরণসম্পন্ন সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন বন্দীকে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রদেশের অন্যান্য পরীক্ষাসমূহে অংশ নিতে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হলেন কারাগারের মহাপরিদর্শক। সুতরাং আমি অনুরোধ করব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ইলা মিত্রকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হোক। কারাগারে বন্দীর আচরণ ভাল এবং আমি তাঁর জন্য সুপারিশ করছি। এ বিষয়ে অতি দ্রুত উত্তর পাওয়া জরুরি।
মহাপরিদর্শকের ৭ এপ্রিল ১৯৫২ সালের চিঠি উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তাঁকে ১৫ এপ্রিলে পাঠানো উত্তরে ইতিপূর্বে ১৯৫১ সালের ডিসেম্বরে ইলা মিত্রকে দেয়া নেতিবাচক আইনি ব্যাখ্যারই পুনরাবৃত্তি করেন।
তিনি পরদিন ১৬ এপ্রিল চিঠি পাঠান সহকারী সচিবকে। ইলা মিত্রর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পরীক্ষা দেয়া বিষয়ে পাওয়া চিঠিগুলোর মধ্যে উল্লিখিত সহকারী সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কয়েকটি দিক থেকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পত্রটির বিষয় ছিল বন্দী ইলা মিত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী এমএ পরীক্ষায় অংশ নিতে সরকারের অনুমতি প্রার্থনা। সহকারী সচিবের কাছেও তিনি মূল বক্তব্যর দিকে থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ৭ এপ্রিলে পাঠানোর চিঠির বক্তব্যই তুলে ধরেছিলেন। উপরন্তু তিনি জানিয়েছিলে যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দেয়া আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল। তিনি এ বিষয়ে সরকারকে ত্বরিত নির্দেশ প্রদান করতে অনুরোধ করেন। সিদ্ধান্ত নেবার সুবিধার জন্য তিনি চিঠির সঙ্গে ইলা মিত্রর আবেদন এবং জেলখানায় বন্দীর বিবরণমূলক খতিয়ানটিও (ডেসক্রেপটিভ রোল) সংযুক্ত করে দেন।
সহকারী সচিবের ২২ এপ্রিলে পাঠানো চিঠির উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ১৯৫২ সালের ১ মে একই আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
ঊনত্রিশে জুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সহকারী সচিবকে অবহিত করেন যে, তাঁর পাঠানো ৭ জুনের চিঠির উত্তরে তিনি কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শকের কাছে উত্তর পাঠিয়েছেন। সে অনুযায়ী যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শক ১৯৫২ সালের ২৬ জুলাই চিঠি দিয়ে সহকারী সচিবকে অবহিত করেন যে ইলা মিত্রর মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে রাজশাহীর আদালতে পুনর্বিচারাধীন এবং ইলা মিত্র বর্তমানে একজন প্রথম শ্রেণির বিচারাধীন বন্দী।
একই সঙ্গে ২৬ জুলাই তারিখে কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে চিঠি দিয়ে জানান যে ইলা মিত্রর বিএ পরীক্ষার সনদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর ৮ মের চিঠিতে উল্লিখিত অন্য বিষয়ে তাঁকে দ্রুত জানান হবে।
অবশেষে ৯ অক্টোবর ১৯৫২ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কারাগারসমূহের মহাপরিদর্শককে চিঠি দিয়ে জানান যে ইলা মিত্রকে ‘হয়তো’ এমএ পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হবে। কিন্তু তাঁকে পরীক্ষা দিতে হবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে। কারাগার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় প্রহরার দায়িত্ব কারাগার কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বৈরি মনোভাবসম্পন্ন ও কালক্ষেপমূলক আচরণের মধ্যে ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার সময় পার হয়ে যায়। কাজেই সে বছর ইলা মিত্র পরীক্ষা দিতে পারেননি।
কারাগার দফতরের হাতে লেখা অভ্যন্তরীণ খসড়া নোটস ও সিদ্ধান্তের বিবরণে ১১ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে টাইপ করে লেখা আছে ইলা মিত্র ১৯৫৩ সালে এমএ পরীক্ষা দিতে চান। অনুগ্রহ করে বন্দীকে ১৯৫৩ সালে পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্য নতুন নির্দেশ প্রদান করা হোক।
চিঠিপত্রগুলো থেকে ইলা মিত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবার ক্ষেত্রে কারাগার দফতর ও তার মহাপরিদর্শককে যতখানি ত্বরিত ও সহানুভূতিশীল বলে প্রতীয়মান হয়, তার বিপরীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ততোধিক বৈরি ও অসহযোগী বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন