কমরেড ফরহাদের স্মরণসভায় সিপিবি সভাপতি

জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কখনো আপস হবে না

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের প্রয়াণ দিবসে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। রতন কুমার দাস
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৪০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁর দেখানো পথে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সম্পদ রক্ষা এবং বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৪০তম প্রয়াণ দিবস বা ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গত ৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টায় পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে সিপিবির উদ্যোগে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সিপিবি কখনো আপস করেনি। হামলা-মামলা-নির্যাতন করে সিপিবিকে দমন করা যাবে না। জাতীয় স্বার্থ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো চুক্তি, সিদ্ধান্ত ও তৎপরতার বিরুদ্ধে সিপিবি যেকোন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে তার প্রতিবাদ ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। জনগণের সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির স্বার্থে বিপন্ন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ হলো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা এবং শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে বৈষম্য, শোষণ ও লুটপাটের অবসান ঘটাতে হবে। একটি কমিশনভোগী গোষ্ঠী জনগণের জীবন-জীবিকা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের ভুয়া পরিসংখ্যান ও বিদেশি বিনিয়োগের অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা ত্রিদিব সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হেসেন প্রিন্স, অধ্যাপক এমএম আকাশ, জাতীয় পরিষদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন প্রমূখ। স্মরণসভায় সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ আমাদের শিখিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আদর্শ ও নীতিতে অবিচল থেকে কিভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। তাঁর দেখানো পথেই সিপিবি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি সকল প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলমান দুঃশাসন, অন্যায়,

নারায়ণগঞ্জ
দমন-পীড়ন ও জনগণের স্বার্থবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যখন পুলিশ বর্বর নির্যাতন চালায়, তাদের আঘাতে যখন সিপিবি সভাপতি আহত হন, তখন বুঝতে হবে সরকার অল্প সময়েই রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্র ভালোভাবে আয়ত্ব করেছে। সরকার কানসাট, ফুলবাড়ি ইত্যাদি অতীতের শিক্ষা ভুলে তার বিদেশি প্রভূর স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া। তিনি বলেন, উপযুক্ত জবাব সরকারকে দেয়া হবে। স্মরণসভায় সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হেসেন প্রিন্স বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, নারী-বিদ্বেষ, জাতিগত বৈষম্য ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের পথে গুরুতর বাধা। ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা, লিঙ্গ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনআকাঙ্ক্ষাকে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের দেখানো পথ ধরে এগিয়ে নিতে হবে। স্মরণসভায় সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার সংগ্রামে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ তাঁর গোটা জীবন ব্যয় করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান পর্বে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, মহান ভাষা আন্দোলন, ’৫৮-র সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দেখানো সেই সংগ্রামের পথ ধরেই সিপিবি অগ্রসর হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখা এবং এ দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিতে হবে। কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৪০তম প্রয়াণ দিবসে সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে সিপিবিসহ বিভিন্ন গণসংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। নারায়ণগঞ্জে সিপিবি’র আলোচনা সভা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিপিবি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা করা হয়। ৯ অক্টোবর বিকেল ৫ টায় সিপিবি জেলা কার্যালয় দুই নাম্বার রেলগেইট, সিটি দোয়েল প্লাজায় (৫তলা) এ আলোচনা সভা করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী, বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, সম্পাদক মন্ত্রীর সদস্য আঃ হাই শরীফ, শাহানারা বেগম, বিমল কান্তি দাস, জেলা

বগুড়া
কমিটির সদস্য জাকির হোসেন ও শোভা সাহা প্রমুখ। আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় নাম কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ। তিনি ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৭১-পরবর্তী গণতন্ত্র আন্দোলন সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সম্মুখ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬০ হতে ১৯৮০ দশক পর্যন্ত মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন বাংলাদেশের সমস্ত আন্দোলনের কেন্দ্র বিন্দু। ১৯৬৯ এর ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের তিনি ছিলেন নেপথ্য কারিগর। শ্রমিক মেহনতি মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড ফরহাদ ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আকন্ঠ বিপ্লব পিয়াসী কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বৃহত্তর সামাজিক রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করেছেন। তিনি পথ হেঁটেছেন বিপ্লবের পথে। ফরহাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, পেশাদার বিপ্লবী চরিত্র, অপূর্ব সাংগঠনিক দক্ষতা, নীতিতে অবিচল থেকে কৌশলে নমনীয়তা কমরেড ফরহাদ জাতীয় পর্যায়ে একজন অন্যতম জননেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আদর্শ, নিষ্ঠা, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, সমাজতন্ত্র ও মানবমুক্তির সংকল্পে অবিচল কমরেড ফরহাদ ছিলেন একজন নির্লোভ, প্রতিশ্রুতিশীল এবং কৌশলী সেনাপতি। বগুড়ায় স্মরণসভা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে উদীচী বগুড়া জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি বগুড়া জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিন্নাতুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী শেখ। স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হরি শঙ্কর সাহা, শাহনেওয়াজ কবির পাপ্পু, অখিল পাল ও লিয়াকত আলী। বক্তারা বলেন, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন এ দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের আদর্শে অবিচল থেকে তিনি শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ ও নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা, আদর্শনিষ্ঠা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..