বিচ্ছিন্নতার নতুন পাঠ : নয়া-উদারবাদী বাংলাদেশে শ্রম, শ্রেণি ও রাজনৈতিক সম্ভাবনা
কাজী মারুফুল ইসলাম
১. ভূমিকা : রূপান্তরের সন্ধিক্ষণ ও একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন
বাংলাদেশ এই মুহূর্তে একই সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অর্থনীতির দিক থেকে দেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের দোরগোড়ায়, যা একদিকে অগ্রগতির স্বীকৃতি, অন্যদিকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা হারানোর ঝুঁকি ও তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ। তৈরি পোশাকশিল্প-নির্ভর একমুখী রপ্তানি-কাঠামো, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত এবং আইএমএফ-নির্দেশিত সংস্কার (বিনিময় হার নমনীয়করণ, রাজস্ব সম্প্রসারণ, ভর্তুকি হ্রাস, আর্থিক শৃঙ্খলা) মিলিয়ে নয়া-উদারবাদী পুনর্গঠনের চাপ আজ সবচেয়ে তীব্রভাবে এসে পড়ছে সেই বিপুল অনানুষ্ঠানিক ও অনিশ্চিত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর, যাদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
রাজনৈতিক দিক থেকেও দেশ এক জটিল রূপান্তরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্ম দেয়; এরপর ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোটের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় নতুন নির্বাচিত সরকার ও একটি নতুন দলীয় বিন্যাস। কিন্তু অভ্যুত্থানে যে বিশাল, বহুস্তরী, বহুপরিচয়ী জনগোষ্ঠী রাস্তায় নেমেছিল, তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল প্রধানত অভিন্ন শত্রুতা মোকাবিলার ভিত্তিতে। সুসংগঠিত, পরিকল্পিত অভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে নয়। ফলে জনগণের সেই ঐক্যবদ্ধতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ভাঙন কোনো বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং কাঠামোগত। আর এখানেই মূল প্রশ্নটি জন্ম নেয়: অভ্যুত্থানের সেই বিক্ষিপ্ত, পর্বান্তরিক (বঢ়রংড়ফরপ) মবিলাইজেশনের শক্তিকে কীভাবে একটি টেকসই, কর্মসূচিভিত্তিক সামাজিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, যা কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের দিকে এগোতে পারে?
এই প্রশ্নই এ লেখার কেন্দ্রীয় সমস্যা। কারণ যাকে আমরা ‘নতুন জনগোষ্ঠী’ বলছি—অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক, গিগকর্মী, পোশাকশ্রমিক, মৌসুমি অভিবাসী মজুর, শহুরে তরুণ প্রিকারিয়াট—তারা ক্লাসিক্যাল অর্থে সংহত সর্বহারা নয়; তারা বিক্ষিপ্ত, বহুধাবিভক্ত ও অনিশ্চিত। এই বিক্ষিপ্ততার ভেতরেই নিহিত আছে বিচ্ছিন্নতার সমকালীন রূপ এবং শ্রেণি-রাজনীতির নতুন জটিলতা। এই কাঠামোগত প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই নিচে বিচ্ছিন্নতার ধারণাগত পাঠ ও তার বাংলাদেশি রূপ বোঝার চেষ্টা করা হলো।
২. বিচ্ছিন্নতা : একটি সমকালীন পাঠ
মার্কসের কাছে বিচ্ছিন্নতা নিছক দারিদ্র্য বা শোষণের সমার্থক নয়; এটি একটি গুণগত সম্পর্ক। শ্রমিকের সঙ্গে তার শ্রমের পণ্য, শ্রমপ্রক্রিয়া, স্বজাতিসত্তা এবং সহশ্রমিকের সম্পর্কের ভাঙন। ক্লাসিক্যাল পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদনে শ্রমিক নিজের সৃষ্টির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, আর শ্রম হয়ে ওঠে বাইরের এক বৈরী শক্তি। বিশ শতকে এসে এই ধারণা নতুন মাত্রা পেয়েছে। লুকাচের ‘বস্তুকরণ’ (ৎবরভরপধঃরড়হ) দেখায় কীভাবে মানবিক সম্পর্ক পণ্যসম্পর্কের রূপ নেয় (খঁশপ্সপং, ১৯৭১)। অপরদিকে, ব্রেভারম্যান বলেন, প্রবল দাপুটে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমের ‘দক্ষতাহরণ’ ও অবনমনের কথা (ইৎধাবৎসধহ, ১৯৭৪)। আর মার্কুইজ দেখান ভোগবাদী ‘একমাত্রিক’ সমাজ কীভাবে প্রতিবাদের সম্ভাবনাকেই শুষে নেয় (গধৎপঁংব, ১৯৬৪)।
অর্থাৎ, এটা পরিষ্কার যে সমকালীন, অর্থাৎ নয়া-উদারবাদী, পর্বে বিচ্ছিন্নতার মনোসামাজিক এবং স্থানিক পরিসর বদলে গেছে। হার্ভে যাকে ‘নমনীয় পুঁজিসঞ্চয়’ বলেন, তাতে স্থায়ী কারখানা-শ্রমের জায়গা নেয় অনানুষ্ঠানিকতা, চুক্তিভিত্তিকতা ও অনিশ্চয়তা (ঐধৎাবু, ২০০৫)। স্ট্যান্ডিং এই স্তরকে চিহ্নিত করেন ‘প্রিকারিয়াট’ নামে। এখানে একটি ধারণাগত সতর্কতা জরুরি: বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা ও শোষণ সমার্থক নয়। অনিশ্চয়তা কেবল বিচ্ছিন্নতার একটি সমকালীন রূপ ও শর্ত তৈরি করে। তাই আজকের বিচ্ছিন্নতাকে বুঝতে হবে দ্বিমাত্রায়। কেবল শ্রমপ্রক্রিয়ার ভেতরে নয়, শ্রমশক্তির ছিন্ন-বিচ্ছিন্নতা ও বিক্ষিপ্ততার মধ্যেও। ধরা যাক, সাভারের কোন একটা তৈরি পোশাকশিল্প এলাকা। সেখানে এক একটা কারাখানায় কয়েক’শ থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। একটু দূরেই আছে ইপিজেড এলাকা সেখানেও হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এই শ্রমিকরা যেখানে রাতে এসে ঘুমান-থাকেন সেখানে বিশাল টিনশেডের মেসভবন তৈরি হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক বসবাস করেন। এইসব মেসবাড়িতে কাজ করেন কয়েক হাজার গৃহকর্মী। আবার বাড়িভাড়া কম বলে এই অঞ্চলে থাকেন কয়েকশ মটরবাইকার যারা সারাদিন পাঠাও বা উবারের হয়ে কাজ করেন। আরও আছেন অল্প বেতনের কেরানি, দোকানদার, রেস্টুরেন্ট-শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, বাস-ট্রাকের হেল্পার ও মৌসুমি কৃষিশ্রমিক। এই বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ ভৌগলিকভাবে একজায়গায় থাকলেও বর্তমানের ভোগবাদী একমাত্রিক সমাজ দিনায়ন্ত কায়িক শ্রমের পর তাঁদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ, বিনিময় ঘটার সুযোগ খুব সামান্যই দিয়ে থাকে। বিচ্ছিন্নতার শিকড় প্রসারিত হয়। বিক্ষিপ্ততা বিস্তৃত থাকে।
৩. কৃষি-কাঠামোর রূপান্তর
ও গ্রামীণ শ্রমসম্পর্ক
একটু পেছনে ফিরে দেখলে দেখা যাবে আশির দশক থেকে বাংলাদেশের কৃষি ক্রমাগত কাঠামোগত রূপান্তরের ভেতর দিয়ে গেছে: উচ্চফলনশীল বীজ, অগভীর নলকূপ, পাওয়ার টিলার ও বাজার-সংযুক্তি গ্রামীণ অর্থনীতির আপেক্ষিক স্থবিরতা ও স্থিতিশীলতা ভেঙে দিয়েছে। ফলে জোতদার-নির্ভর ‘বাঁধা’ শ্রম, বর্গাপ্রথা এবং প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক শিথিল হয়ে জন্ম নিয়েছে মজুরিভিত্তিক, অকৃষি ও মৌসুমি অভিবাসী শ্রমের।
তবে এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার। পুরোনো সম্পর্ককে ‘স্থিতিশীল ও নিরীহ’ ভাবা ভুল হবে। তা ছিল ব্যক্তিগত অধীনতা ও আধিপত্যের সম্পর্ক। তাই রূপান্তরটিকে বিচ্ছিন্নতার ‘উদ্ভব’ না বলে বলা উচিত এর রূপবদল: ব্যক্তিগত অধীনতা থেকে বাজার-মধ্যস্থ, নৈর্ব্যক্তিক বিচ্ছিন্নতায় উত্তরণ। এই নৈর্ব্যক্তিকতাই পুঁজিতান্ত্রিক বিচ্ছিন্নতার স্বাতন্ত্র্য। শোষণ এখানে আর মুখচেনা মহাজনের নয়, বরং এক অদৃশ্য বাজার-যুক্তির।
৪. নগর, উৎপাদন ও নতুন অনিশ্চয়তা
গত প্রায় তিন দশকে বাংলাদেশের শহরগুলোও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। নগরে তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) চল্লিশ লক্ষাধিক শ্রমিক—যাঁদের অধিকাংশ নারী—কে গ্রামীণ কাঠামো থেকে তুলে এনে বৈশ্বিক উৎপাদন-শৃঙ্খলে যুক্ত করেছে। কিন্তু এই সংযুক্তি একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নকারী: দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শ্রমপ্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা, এবং ব্যক্তি-শ্রমিকের বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা। বড় শহরগুলোতে বিপুল পরিমাণ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়জিত। খোলা চোখেই অনুমান করা যায় যে ঢাকা শহরে প্রায় ২৫-৩০ লক্ষাধিক গার্হস্থ্যশ্রমিক কাজ করেন। প্রায় ১০ লক্ষ রিকশা শ্রমিক কাজ করেন। এর সঙ্গে আছেন বিপুল সংখ্যক নির্মাণ শ্রমিক। সাম্প্রতিক পর্বে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্ল্যাটফর্ম ও গিগ-শ্রমের নতুন অনিশ্চয়তা—রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি (পাঠাও, উবার)—যেখানে শ্রমিক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীন উদ্যোক্তা’, অথচ বাস্তবে অ্যালগরিদম-নিয়ন্ত্রিত, বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত। এর পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতের বিপুল স্ফীতি শ্রমশক্তিকে স্থানিক ও সামাজিকভাবে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে। তারপরেও রানা প্লাজা ও মজুরি-আন্দোলনের মতো বিস্ফোরণ সত্ত্বেও টেকসই শ্রেণি-সংগঠন গড়ে উঠছে না বা চোখে পড়ার মত সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। কেন? এটিই আমাদের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ইয়ান ব্রেমান তাঁর ‘ভাসমান শ্রম’ ধারণায় দাবি করেন যে অনানুষ্ঠানিকীকরণ বস্তুত শ্রমিককে স্থানিক ও সামাজিকভাবে বিক্ষিপ্ত করে এবং তার মাধ্যমে শ্রেণিগঠনের গড়ে ওঠা দুরূহ করে তোলে। আবার উল্টো দিকে, চীনের ফক্সকন-কেন্দ্রিক অভিবাসী কারখানা-শ্রমের উপর একটা গবেষণায় দেখা গেছে যে সেখানে সবাই কারখানা কর্তৃপক্ষের দেয়া ডরমিটরিতে থাকেন। কিন্তু সেখানে তৈরি হয় একধরনের ‘ডরমিটরি শ্রম-শাসন’ ব্যবস্থা, যার অধীনে বিচ্ছিন্নতা তীব্র রূপ ধারণ করে। এই দুইক্ষেত্রে একটি প্যারাডক্স স্পষ্ট। বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, অথচ চিরায়ত শ্রেণিচেতনার ভিত্তি—কেন্দ্রীভূত, সংগঠিত কারখানা-সর্বহারা—দুর্বল হয়ে পড়ে।
৫. শ্রেণিচেতনা, রাজনীতি ও
নতুন পাঠের দায়
এখানেই মার্কসীয় ক্লাসিক্যাল থিসিস- বিচ্ছিন্নতা → শ্রেণিচেতনা → রূপান্তর - ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিক্ষিপ্ততা, অনানুষ্ঠানিকতা এবং ‘শ্রমের সংরক্ষিত বাহিনী’ তথা উদ্বৃত্ত জনগোষ্ঠীর স্ফীতি ও বৈচিত্র্য চেতনার সমস্বত্ব ভিত্তিকে খণ্ডিত করে। কিন্তু তাই বলে ঘটনাটি একটি পরিবর্তন-অযোগ্য অবস্থাকে নির্দেশ করে না। মানুষের এজেন্সি বা তার কর্তাসত্তা স্থির কোনো বস্তু নয়। তা পুনরাবৃত্ত অনুশীলনে ধারালো হয়। সামাজিক সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারএকশন, প্রতিদিনকার জীবন ও জীবিকা টেনে নেয়ার যে সংগ্রাম তার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির পরিচয়-স্বার্থ ধারনা স্পষ্ট হতে থাকে। প্রতিবাদ-ছোট আন্দোলন-বড় আন্দোলন এসবের পরিণতি একরকম হয় না। কখনো সফল। কখনো অতটা সফল না। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাগুলো ব্যক্তির এজেন্সিকে ধারালো করে। প্রতিটি অভিজ্ঞতা পরবর্তী সংগঠনের সক্ষমতা গড়ে তোলে। বিচ্ছিন্নতা তাই একসঙ্গে সংগঠনের প্রতিবন্ধক এবং সম্ভাব্য চেতনার উপাদান।
এর রাজনৈতিক তাৎপর্য পরিষ্কার। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এখনো ‘শ্রমিক-কৃষক’ নামক পুরোনো, সমস্বত্ব বর্গে সমাজশক্তিকে পাঠ করে, তবে তারা বাস্তবতা থেকেই বিচ্ছিন্ন হবে। প্রয়োজন সামাজিক শক্তির একটি নতুন মানচিত্র—যেখানে অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক, গিগকর্মী, মৌসুমি অভিবাসী মজুর ও নারী শ্রমিকের বিক্ষিপ্ত অথচ বিপুল বর্গগুলোর ভাষা, স্বার্থ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে বুঝতে হবে। কারণ, রাজনীতি কেবল দল-সংসদ-শাহবাগ-প্রেসক্লাব-পল্টন-মিছিলে সীমাবদ্ধ নয়; প্রোথিত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সর্বস্তরে।
আপাত শেষকথা
নয়া-উদারবাদী বাংলাদেশে, যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগের বিপুল বিস্তার-প্রয়োগ-অপপ্রয়োগে মানুষের বিচ্ছিন্নতা মুছে যায়নি। বরং কৃষির রূপান্তর, নগর-উৎপাদন ও অনানুষ্ঠানিক অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে তা আরও গভীর, আরও ব্যাপক—তবে আরও বিক্ষিপ্ত হয়েছে। ফলে বিচ্ছিন্নতা এখন একই সঙ্গে সুস্পষ্ট ও জটিল। এই জটিলতাকে অস্বীকার করে নয়, বরং সামাজিক শক্তির নতুন জ্ঞান ও নতুন পাঠের মাধ্যমেই বড় রাজনৈতিক রূপান্তরের সম্ভাবনাকে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
লেখক : অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন