
১৭ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত ফিরোজ আহমেদের ‘চব্বিশের কাঠগড়ায় প্রগতিশীল রাজনীতি’ নিবন্ধটি নিয়ে আলোচনা জরুরি। কারণ, কোনো রাজনৈতিক মূল্যায়ন যখন গণঅভ্যুত্থানের বহুমাত্রিক বাস্তবতাকে সংকুচিত করে একটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতাকে সামগ্রিক ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন প্রকৃত চিত্রটি তুলে ধরাও এতিহাসিক দায়িত্বের অংশ হয়ে ওঠে।
লেখাটির মূল সীমাবদ্ধতা এখানেই যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক জোটের অভিজ্ঞতা ও কর্মসূচি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেন সেটিই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রধান ও প্রায় একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল ধারা। ফলে কমিউনিস্ট, বামপন্থি, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির বহুমাত্রিক অবদানকে আড়াল করে উল্টো তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
বিশেষত, ১৯ জুলাইয়ের পর ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার যখন কারফিউ, নির্বিচার হত্যা, গ্রেপ্তার এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন ছিল–আতঙ্কগ্রস্ত জনগণকে আবার কীভাবে রাজপথে ফিরিয়ে আনা যায়? সেই মুহূর্তেই আন্দোলনের ভেতরে নতুন রাজনৈতিক কৌশলের জন্ম হয়।
কারফিউ ভেঙে গানের মিছিল
২৬ জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ
২৬ জুলাই ছিল সেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কারফিউ-আবদ্ধ নগরীতে জনগণের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ (বর্তমান গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য) সাংস্কৃতিক সমাবেশ ও গানের মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এটি একটি আপাত নিরীহ কর্মসূচি হলেও এর প্রভাব ছিল ব্যাপক। রাষ্ট্রীয় ভয়কে অস্বীকার করে জনপরিসর পুনর্দখলের সচেতন রাজনৈতিক কৌশল ছিল এটি।
এই উদ্যোগে সংস্কৃতির্মীদের পাশাপাশি, বিভিন্ন কমিউনিস্ট ও বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরাও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী দিনগুলোতে নারী সংগঠনের সমাবেশ, প্রতিবাদী গানের মিছিল এবং ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আন্দোলনের স্থবিরতা ভেঙে নতুন গতি সৃষ্টি করে। অর্থাৎ গণঅভ্যুত্থানের এই পর্যায়ে সংস্কৃতি ছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের এক কার্যকর হাতিয়ার।
এই পর্বের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদকে ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের দিকে নিয়ে যায়। আন্দোলনের বিভিন্ন ধারার মধ্যে আলোচনা, সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থার যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত গণসমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। ফলে ২৬ জুলাইকে বাদ দিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ইতিহাস লেখা মানে আন্দোলনের একটি নির্ণায়ক বাঁককে অদৃশ্য করে দেওয়া।
দ্রোহযাত্রা : একটি কর্মসূচি নয়, রাজনৈতিক ঐক্য নির্মাণের ইতিহাস
২৬ জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ছিল সূচনা, তার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠে পরবর্তী কয়েকটি দিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। আন্দোলনের প্রশ্ন তখন আর কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না, প্রয়োজন ছিল এমন একটি কর্মসূচির, যা কারফিউ ও দমন পীড়নের আবহ ভেঙে ছাত্র, শ্রমিক, নারী, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারাকে একই মিছিলে একত্রিত করতে পারে। সেই রাজনৈতিক প্রয়োজন থেকেই দ্রোহযাত্রার ধারণা পরিণত হতে শুরু করে।
এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এবং ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ। তবে শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল, এটি যেন কোনো একক প্ল্যাটফর্মের কর্মসূচি হয়ে না থাকে। সেই উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, ছাত্র ফেডারেশনসহ ছাত্রজোটের বাইরে থাকা অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ করা হয়। একইসঙ্গে কমিউনিস্ট ও বামপন্থি রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, নারী সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজকে যুক্ত করার জন্য ব্যাপক রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এই সমন্বয় প্রচেষ্টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার বহু নেতাকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সিপিবির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী (কাফি রতন), কমিউনিস্ট লীগের ডা. হারুন অর রশীদ, বাসদ (মার্কসবাদী)র সীমা দত্ত, সিপিবির জলি তালুকদার, মঞ্জুর মঈনসহ আরও অনেকে সাংগঠনিক যোগাযোগ, মতৈক্য গঠন এবং কর্মসূচির বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
এদিকে ৩০ জুলাই সরকার ঘোষিত তথাকথিত ‘শোক দিবস’-এর বিপরীতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ গুলিস্তানে প্রতিবাদী গানের মিছিলের আয়োজন করে। পুলিশ সেই মিছিল এগোতে দেয়নি। কিন্তু দমন-পীড়ন সেদিন কর্মসূচিকে থামাতে পারেনি, রাজপথ দখল রেখেই জিরো পয়েন্টের সামনে সহস্রাধিক শিল্পী, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক গতি লাভ করে। সেখান থেকেই ২ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে অবরুদ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে শোকযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে শোকযাত্রা শব্দবন্ধটি পরিবর্তীত হয়ে দ্রোহযাত্রায় রূপ নেয়।
দ্রোহযাত্রার সভাপতিত্বের জন্য প্রথমে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলে তিনি শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সেই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্ক তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির সময় পুনর্নির্ধারণ করে দ্রোহযাত্রার সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, শ্রমিক, নারী সংগঠন এবং বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে যে ঐক্য গড়ে ওঠে, তা গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা করে। এর সাথে যুক্ত হয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ সেদিন এই দ্রোহযাত্রায় যুক্ত হন।
এই ইতিহাসের আলোকে প্রশ্ন জাগে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল্যায়নে যদি ২৬ জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, ৩০ জুলাইয়ের প্রতিবাদী গানের মিছিল ও সমাবেশ এবং ২ আগস্টের দ্রোহযাত্রার মতো ঘটনাগুলো প্রায় অনুপস্থিত থাকে, তবে সেই মূল্যায়ন কতটা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে?
নির্বাচিত স্মৃতি ও প্রগতিশীল
রাজনীতির খণ্ডিত পাঠ
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই ফিরোজ আহমেদের নিবন্ধটি পুনরায় বিবেচনার দাবি রাখে। তাঁর লেখার মূল সমস্যা কোনো রাজনৈতিক মতভেদ নয়; বরং গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে একটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার আলোকে বিচার করার প্রবণতা। ফলে আন্দোলনের যে বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতা ২৬ জুলাই থেকে ২ আগস্টের মধ্যে গড়ে উঠেছিল, তা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। কমিউনিস্ট-বামপন্থি ও তাঁর ভাষায় প্রগতিশীলদের অবদানকে অস্বীকার করার জন্যই তিনি এই কাজটি করেছেন।
শুধু তাই নয়, বামগণতান্ত্রিক জোট-ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি ও বাংলাদেশ জাসদের সমন্বয়ে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ ইত্যাদি আয়োজনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন তারিখে কর্মসূচি পালন করা হয়।
লেখক প্রগতিশীলদের ‘নাজুক অবস্থান’-এর কথা বলেছেন। কিন্তু একই সময়ে তিনি প্রায় নীরব থেকেছেন সেই রাজনৈতিক জোটের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে, যার সঙ্গে তিনি নিজেও যুক্ত ছিলেন। গণতন্ত্র মঞ্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের কর্মসূচিগত সমঝোতা ছিল মূলত বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে, কমিউনিস্ট ও বামপন্থি শক্তির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ঐকমত্য তখন গড়ে ওঠেনি। ফলে ১৯ জুলাইয়ের পর বৃহত্তর প্রগতিশীল ঐক্য কেন নির্মিত হলো না এই প্রশ্নটি গণতন্ত্র মঞ্চের প্রতিও প্রযোজ্য। অথচ এই আত্মসমালোচনার অনুপস্থিতিতেই দায় স্থানান্তরিত হয়েছে বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তির ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকার, কোটারি রাজনীতি
এবং ইতিহাসের দায়
গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৫ আগস্টের পর শুরু হয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রশ্ন সামনে আসে। সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়া সীমিত পরিসরের আলোচনার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী বহু কমিউনিস্ট, বামপন্থি, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তি কার্যত সেই প্রক্রিয়া থেকে বাইরে থেকে যায়।
এটি কেবল প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন ছিল না, গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চরিত্রেরও প্রশ্ন ছিল। কারণ যে আন্দোলন বহুধারার সম্মিলনে গড়ে উঠেছিল, তার রাজনৈতিক পরিণতিও স্বাভাবিকভাবেই সেই বহুত্বের প্রতিফলন দাবি করতো। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটি। ফলে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজে যে অস্থিরতা, মব-সহিংসতা, নারী, বাউল, মাজার, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্র ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় পরিপূর্ণভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হলেও ফিরোজ আহমেদ প্রগতিশীল শক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যারা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন, তাদের লেখায় আত্মসমালোচনার জায়গা প্রায় অনুপস্থিত।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা আগেও দেখেছি, ডানপন্থার উত্থান ঠেকানোর যুক্তিতে একসময় কিছু বনেদি বামপন্থি শেষ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রক্ষমতার অংশ হয়ে পড়েছিলেন। মেনন-ইনুদের ভূমিকায় এখন একটি পক্ষ অবতীর্ণ হয়ে ইতিহাহাসের সেই অঘজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি করছেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীর অধীনস্ত, শ্রমিক হত্যাকারী ও পাহাড়ি জাতির ওপর দমন নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষেই প্রগতিশীলদের অবস্থান গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছেন। ডানপন্থাকে প্রতিহত করতে প্রগতিশীলদের দরকার বলে যেভাবে লেখক মনে করছেন, তার মাধ্যমে তিনিও সেই বনেদি প্রগতিশীলদের স্ক্রিপ্টরই পুনারাবৃত্তি করছেন।
ফলে ফিরোজ আহমেদের সেই লেখাটি কোনো নির্মোহ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ নয়। গণঅভ্যুত্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বিভিন্ন ধারার শক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণের পরিবর্তে সেখানে ব্যক্তিগত অনুমান, নির্বাচিত তথ্য এবং সংবাদমাধ্যম ও ভিডিও ফুটেজনির্ভর বয়ানই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। যদি লেখক সত্যিই গণঅভ্যুত্থানের ময়দানের বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষভাবে অনুধাবন না করে থাকেন, তবে সেই সীমাবদ্ধতা সেই লেখাতে প্রতিফলিত হয়েছে। আর যদি তা না হয়, তবে এই লেখাকে কমিউনিস্ট, বামধারা ও বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠার সচেতন প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, আহ্বায়ক, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য