মজুরদের কর্মসংস্থান খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ চায় ক্ষেতমজুর সমিতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুর, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য কর্মসংস্থান, রেশন, পেনশনসহ অন্যান্য খাতে কোনো বরাদ্দ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষেতমজুর সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসৃজন কর্মসূচি সকল উপজেলায় চালু, মজুরি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারের কাছে দেশের সিংহভাগ মানুষের পক্ষের বাজেটের দাবি করে আসছিল ক্ষেতমজুর সমিতি। কিন্তু এবারও অন্যান্য সরকারের মতোই গ্রামের দরিদ্র, শ্রমজীবী, ক্ষেতমজুরদের জন্য তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ সরকারের দেওয়া এই বৃহৎ আকারের বাজেটের কোনো সুফল পাবে না। এছাড়া পানিতে তলিয়ে ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করা হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ক্ষেতমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যেন চলছে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটের বড় অংশ আসে এসব দরিদ্র মানুষের প্রত্যক্ষ করের টাকা থেকে। ফলে তাদের জন্য বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এবার মোট বাজেটের ৫.৮ শতাংশ রাখা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। অথচ দেশের সিংহভাগ মানুষ এই সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়ার কথা। কিন্তু এ সামান্য বরাদ্দে এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসবে না। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন চাকুরিজীবীদের পেনশন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন খাত যুক্ত আছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ আরো কম হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং চালু করে ন্যূনতম দামে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটাসহ নিত্যপণ্য দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও বাজেটে তা উপেক্ষিত হয়েছে। এছাড়া এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর বয়স হয়ে গেলে তখন তারা কাজ করতে পারেন না। বয়ষ্ক এসব মানুষদের বিনা চিকিৎসায়, খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। এসব মানুষের জীবন বাঁচাতে ষাটোর্ধ্ব মজুরদের বিনা জমায় মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশনের দাবিটিও বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে। এছাড়া বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত, মজুরদের সন্তানদের কারিগরি ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে কাজ দিয়ে পাঠানোর জন্যও বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে বেকারত্ব বাড়বে, দরিদ্র মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা পাবে না। সন্তানদের পড়াশোনাও হবে না। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ কর্মক্ষম সন্তানদের ভোকেশনাল ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি করা হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী প্রধান পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা এবং কৃষি কার্ডে কৃষকদের বছরে ২৫০০ টাকা প্রণোদনার কথাও বলা আছে। যা বর্তমান বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য নয়। এ সামান্য টাকায় একজন অসহায় মা কিভাবে সংসার চালাবেন? নেতৃবৃন্দ এসব ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পানিতে তলিয়ে দেশের নিচু এলাকায় ধান নষ্ট হয়ে কৃষক, বর্গাচাষীদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাজেটে বয়স্ক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে যা ঐসব বয়স্ক মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ। নেতৃবৃন্দ ষাটোর্ধ্ব মজুরদের মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশন প্রদানের দাবি করেন। এছাড়া বিবৃতিতে প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে হাওর-বাওড়ের ইজারা বাতিল করে সামাজিক মালিকানার আওতায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে দেয়ার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..