সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দেশের ১৩টি বামপন্থি’, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। গত ৯ এপ্রিল ঢাকার পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি অফিসের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন জোটের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে জোটের লিখিত বক্তব্য পাঠ ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। জোটের দলগুলি হল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ মাহবুব), গণমুক্তি ইউনিয়ন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, সোনার বাংলা পার্টি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (অজঞ)’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে ফেলবে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বক্তব্যে আরও বলা হয়, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য করা হবে, একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থান হুমকির সম্মুখীন হবে। এছাড়া অন্যান্য দেশের সাথে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি। এমনকি সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। বক্তব্যে একই সঙ্গে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শহীদুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবি জানিয়ে ২৭ এপ্রিল সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ; ১১ এপ্রিল ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ১৬-২২ এপ্রিল সারা দেশে গণসংযোগ ও প্রচারাভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..