কুষ্টিয়ায় পীরের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা

নির্বাচিত বিএনপি সরকার মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নে দরবারে হামলা চালিয়ে পীর শামীম রেজাকে নৃশংসভাবে হত্যা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গত ১২ এপ্রিল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, এই বর্বরোচিত হামলা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করেছে, সরকার ভিন্নমতাবলম্বী মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এই নৃশংসতা সারা পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারাচ্ছন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিভাত করেছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত। তারই সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমতের কণ্ঠ রোধ করা এবং উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে। তারা একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ এ ধরনের দুষ্কর্ম করে যাচ্ছে, মাজার ভাঙছে, মন্দির ভাঙছে, বাউলের আখড়ায় অগ্নিসংযোগ করছে, বাউলদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে। শাসকগোষ্ঠী ও ধর্মাশ্রয়ী দলগুলো এই অসাধু ব্যক্তিবর্গকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপালন করছে। ফলে এসব ঘটনার কোনো বিচার তো হয়ই না বরং অনেক সময় ভুক্তভোগীকেই উল্টো জেল-জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে উসকানি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও ইন্ধনদাতাসহ সকল দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একইসঙ্গে সকল মাজার, দরবারসহ ঝুঁকিপূর্ণ ধর্মীয় ও অধ্যাত্মবাদী কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানানো হয়। একই দিন পৃথক বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে পীরের আস্তানায় উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা ও কুপিয়ে পীর শামীমকে হত্যা, দরবার শরীফ ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি শাহবাগ থানার সামনে ট্রান্স জেন্ডারদের উপর চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে যে ভয়াবহ মব সন্ত্রাস শুরু হয়েছে তা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলেও থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মবকে নিয়ন্ত্রণ তো দূরে থাক বরং উৎসাহ ও প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত বিএনপি সকরকারের সময়ে মব সন্ত্রাস বন্ধ হবে বলে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। নির্বাচিত সরকারও মব সন্ত্রাস বন্ধ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বিবৃতিতে কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা ও হত্যার জন্য এবং শাহবাগে ট্রান্সজেন্ডারদের উপর হামলার জন্য দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করা হয়। একই সাথে পুলিশের নির্লিপ্ততার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করা না গেলে এবং বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারালে মব সন্ত্রাস বাড়বে ও চরম নৈরাজ্যের দিকে দেশ চলে যাবে যা দেশ, জাতি, জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক বিপদ বয়ে আনবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মব সন্ত্রাসের এবং উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদ-এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদাক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধরণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ। নিন্দা ও বিচার দাবি উদীচীর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামিম নামের এক পীরের আস্তানায় কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, এতে আস্তানাটির প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, মানুষের ধর্মানুভূতিকে ব্যবহার করে এক শেণির অসাধু ধর্ম ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করে আসছে। তারা একের পর এক এধরণের দুষ্কর্ম করে যাচ্ছে, মাজার ভাঙছে, মন্দির ভাঙছে, বাউলের আখড়ায় অগ্নিসংযোগ করছে, বাউলদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে। এ সকল ঘটনার কেনো বিচার তো হয়েই না বরং অনেক সময় ভুক্তভোগীকেই উল্টো জেল-জুলুম ভোগ করতে হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের একটা অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভিন্নমতের উপর জুলুম-নির্যাতনকারীদের ইউনুস সরকার একরকম উৎসাহ যুগিয়ে চলেছে। আজ দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসীন। মানুষের প্রত্যাশা এই সরকার মব সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করবে এবং সমাজের সকল মত ও পথের মানুষকে মর্যাদার সাথে বাঁচার, নিজ নিজ মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পীরের আস্তানায় হামলা ও আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান শামিমের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..