চিনি-ছোলার দাম বৃদ্ধি স্বস্তি পেঁয়াজ-ডিমে সরবরাহে ঘাটতি নেই তবুও দাম বাড়তি
রমজানের আগেই চড়া বাজার
একতা প্রতিবেদক :
নিত্যপণ্যের বাজারদর একবার বাড়লে তা আর কমে না। তবে পবিত্র রমজান মাসে বাজারের হালচাল পরিপূর্ণ থাকে। দামও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এমটাই প্রতাশ্য ভোক্তাদের। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে রমজান মাস শুরু। রমজান ঘিরে এরই মধ্যে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
রমজান মাসে পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় সিন্ডিকেট চক্র অধিক মুনাফা অর্জন করতে দাম বাড়িয়ে দেয়, এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষত রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে সেগুলোর দাম এখনই বেশ চড়া। যার মধ্যে অন্যতম ছোলা ও চিনি। গত কয়েকদিনে এ দুটি ভোগ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট না থাকলেও পাইকারি বাজারে ছোলা-চিনির মতো পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। রমজানে বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের।
তবে ভরা মৌসুম হওয়ার কারণে কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। এছাড়া সবজির ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমে এলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভোক্তারা।
গত ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন প্রতি কেজি ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরেই পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকার মধ্যে।
রামপুরা বাজারের মুদি দোকানি এনামুল হক বলেন, ‘পাইকারি বিক্রেতারা ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তবে ছোলার সরবরাহে ঘাটতি নেই।’
শুধু ছোলা নয়, একই অবস্থা চিনির দামেও। বাজারে গত বছরের চেয়েও চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক। তারপরও বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামে স্থিতিশীলতা রয়েছে।
জানা গেছে, এক মাস আগেও প্যাকেটজাত চিনির দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন অবশ্য সবগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনির দামই ১০৫ টাকা করা হয়েছে। আর খোলা চিনি যেখানে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন কোনো দোকানেই ১১০ টাকার কমে চিনি মিলছে না।
বাজারে আল আমিন নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘রমজানে যেসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবারই এটা হয়। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ায়। এবারেও এর ব্যতিক্রম দেখছি না।’
এ দুই মুদি পণ্যের দাম বাড়লেও স্বস্তি ফিরেছে পেঁয়াজের দামে। ধারাবাহিকভাবেই পণ্যটির দাম কমছে। এখন প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। আর বাজারে বিক্রি হওয়া সিংহভাগ পেঁয়াজ দেশি। অন্যদিকে, ইনডিয়া থেকে আমদানি হয়ে আসা কিছু পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর সপ্তাহখানেক আগে মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছিল। এখনো সেই বাড়তি দামে আটকে আছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম এখনো বাড়েনি। বেশ কিছুদিন ধরে মুরগির ডিমের দাম অন্য সময়ের তুলনায় বেশ কম। প্রতি ডজন বাদামি রংয়ের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া শীতের সবজির দামও গত দুই সপ্তাহ বাড়লেও এখন আবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ফুলকপির দাম ৫০ টাকা থেকে কমে এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। বাধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। নতুন আলুর দাম মান ও বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, টমেটোর ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে অন্য পণ্যগুলো আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
প্রথম পাতা
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল কর
সমস্যা-সংকটের অচলায়তন ভাঙতে জোর কদমে পা বাড়াও-কমরেডস
সর্বনাশা চুক্তি প্রণয়নকারীদের শাস্তি দিতে হবে
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্ত হলেন ৩ জন
অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে গানের মিছিল
দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি জনগণ মানে না
কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যালোচনা’ ও ‘রিপোর্ট’ থেকে উদ্ধৃতি
নববর্ষ
গোলামীর চুক্তি সম্পাদনে যুক্তদের বিচার কর, চুক্তি বাতিল কর
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন