সম্পাদকীয়...
ভোট দিন কাস্তে মার্কায়
আর কয়েকদিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশ, আবার একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখোমুখি। দেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা প্রহসনের নির্বাচন চায় না। জনসমর্থহীন অনির্বাচিত কোনো সরকার গদি দখল করে রাখুক, তা তারা চায় না। তারা চায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তারা চায় এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে না, রাষ্ট্রের সেক্যুলার চরিত্রকে কোনভাবে দুর্বল করা হবে না, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক দেশ গড়ার ধরে অগ্রসর হয়ে শোষণ-বৈষম্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে। এবং ভয় দেখিয়ে নয়- যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সমাজ বিপ্লব ও বিকল্প গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত সার্বিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে কমিউনিস্টরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। বামপন্থিদের কাছে নির্বাচন হচ্ছে মানুষের মুক্তির জন্য যে ধারাবাহিক সংগ্রাম পরিচালনা করে তারই একটি অংশ। তাই অবাধ সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য বাম দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে।
কাস্তে মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সিপিবির প্রার্থীরা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনি সংগ্রাম করে। তাদের লড়াই হচ্ছে শোষণভিত্তিক যে সমাজের মধ্যে বসবাস করে সেই সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করা। অতীতে আমরা এক শোষকশ্রেণির পরিবর্তে আর এক শোষকশ্রেণিকে ক্ষমতায় বসিয়েছি, কিন্তু জনগণ যেই তিমির ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। তাই এই লড়াই শুধুমাত্র মার্কা বদলের লড়াই নয়। এ লড়াই ব্যবস্থা বদলের লড়াই। তাই ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম জোরদার করার জন্য ‘কাস্তে’ মার্কায় ভোট দেওয়া জরুরি।
আমাদের দেশের উপরতলার মানুষ লুটেরা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তারা আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সহায়তায় জনগণের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে দেশের সম্পদের সিংহভাগের মালিক। অন্যদিকে মেহনতি মানুষসহ ব্যাপক জনগণ সে সম্পদের ছিটে ফোঁটাও পায় না। দেশের মানুষ এক অর্থে এই দুই ভাগে বিভক্ত। দেশের এক শতাংশ মানুষের পক্ষে লুটেরা ধনিক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ অন্যদিকে নিরানব্বই শতাংশ মানুষের পক্ষে বামপন্থিরা। তাই ‘কাস্তে’ মার্কায় ভোট দিয়ে গরিব মেহনতি মানুষের স্বার্থের পক্ষে থাকুন।
ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট– মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করছে। কারণ, এর আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচন যেভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার নিজের খেয়ালখুশি মতো আয়োজন করেছে, তা ‘নির্বাচন’ ব্যবস্থাটির প্রতি মানুষকে আস্থাহীন করে ফেলেছে। বিরোধীদের দমন, প্রকাশ্য ও গোপন জালিয়াতি, রাতে ভোট-এসবের মাধ্যমে ভোটকে তামাশায় পরিণত করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে।
বর্তমানে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এই নির্বাচনে কাস্তে মার্কা নিয়ে যারা অংশগ্রহণ করছেন তারা মানুষের লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সামনের কাতারের সৈনিক। আপনার প্রতিটি ভোট এই সংগ্রামকে আরও জোরদার করবে। ‘কাস্তে’ মার্কার প্রার্থী কোনো ভুঁইফোঁড় প্রার্থী নয়। তারা গণমানুষের ভাত ও ভোটের অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে। তারা সংগ্রাম করছে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তির জন্য, সংগ্রাম করে আসছে কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-যুবক-চাকুরিজীবীর বাঁচার দাবিতে। এ সংগ্রাম করতে তাদেরকে সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলুম, নির্যাতন। এই সংগ্রামেরই একটি অংশ হচ্ছে নির্বাচনি সংগ্রাম। আজ তাই আমাদের আহ্বান-কাস্তে মার্কায় ভোট দিন।
কাস্তে মার্কায় ভোট দিলে সে ভোট নষ্ট হওয়ার কোনো আশংকা নেই। এর দ্বারা গরিব মানুষের জীবন যাত্রার সংকট লাঘব হবে, খাজনা-ট্যাক্সের বোঝা কমবে, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে, ঘুষ-দুর্নীতি খর্বিত হবে। সবটাতেই তাদের সকলেরই লাভ ও কল্যাণ হবে পক্ষান্তরে। বরং অন্য কোনো ‘বড় দলের’ মার্কায় ভোট দিলে সে ভোট দিয়ে শোষণের যন্ত্রণাকে বহাল রাখা অথবা বাড়ানো হবে। যারা একাত্তরে পাকিস্তানের দখলদার সরকারের সদস্য হয়ে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল সেই উগ্র সাম্প্রদায়িক দলের মার্কায় ভোট দিলে পাকিস্তানি কায়দার শোষণ-বৈষম্যই কেবল ফিরে আসবে। এই সংগ্রাম সমাজ বদলের লড়াই জোরদার করার ক্ষেত্রে এবং চূড়ান্ত বিজয়ের ক্ষেত্রে কাস্তে মার্কায় ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রথম পাতা
সিপিবির ‘ডায়েরি-২০২৬’সংগ্রহ করুন
২০ রোজার মধ্যে ঈদ বোনাস ও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে
গরিব মানুষের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের দাবি ক্ষেতমজুর সমিতির
উদীচীর সাবেক সভাপতি সফিউদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে শোক
ফেব্রুয়ারিতেই দেশে ১১ বার ভূমিকম্প, বাড়ছে উদ্বেগ
চাকরিপ্রার্থী ৩৮ জনের কেউই জাতীয় সংগীত পারলেন না
গণ-অভ্যুত্থানের গণ-প্রত্যাশা পূরণের জন্য নতুন পর্বের সংগ্রাম শুরু হোক
‘আঁধার’
বিপ্লবের লাল ফুল কমরেড তাজুল
বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস
আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আকরাম আপিলে খালাস
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন