সিপিবি ঢাকা দক্ষিণ জেলা কমিটির দ্বিতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স [ ছবি: রতন কুমার দাস ]একতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির দ্বিতীয় সম্মেলনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ভিন্ন দেশের জন্য মঙ্গলজনক আর কোন পথ নেই। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাটতে হবে। এই উত্তরণকালীন যাত্রা ব্যহত করতে নানা অপশক্তির চলমান তৎপরতা রুখে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরেও মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন বাংলাদশ গড়ে ওঠেনি। রাজধানী ঢাকাও অদক্ষ ও গণবিরোধী শাসকদের হাতে বৈষম্যের অনিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে। শাসকগোষ্ঠীর লুটপাটের নীতি এই অবস্থার জন্য দায়ি। একদল লুটেরা গোষ্ঠী দেশের মালিক বনে গেছে। এদের একটি অংশ বিগত দিনে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় ছিল। ২০২৪-এর অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের পতন ঘটেছে।
তিনি আরো বলেন, একবছর পেরিয়ে গেলেও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তার প্রধান কারণ হলো ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার বদল না হওয়া। সাধারণ মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজ ব্যবস্থা বদল করতে হবে। কমিউনিস্টরা সে লক্ষ্যে লড়াই করছে। তিনি এই লড়াইয়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশ গত ২২ আগস্ট বিকেল ৪টায় পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কে অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান হীরার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন আশু, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ত্রিদিব সাহা। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাইফুল ইসলাম সমীর।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একদিকে উগ্র ডানপন্থি ও একাত্তরের ঘাতক শক্তির আস্ফালন দেখতে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি হচ্ছে। তিনি দেশের স্বার্থ ও গণবিরোধী সকল জনবিরোধী পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার যে দায়িত্ব নিয়েছে সেই ম্যান্ডেটের মধ্যেই কর্তব্য সম্পাদন করা দেশের জন্য ভালো হবে।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।