চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না দাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দিনাজপুর সংবাদদাতা : উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় চামড়ার বাজার দিনাজপুরের ‘রামনগর বাজারে’ ঈদের দিন থেকেই কোরবানির চামড়া বেচাকেনা চলছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কেনা চামড়া নিয়ে এ বাজারে বিক্রির জন্য আসছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে ‘সঠিক দাম’ না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। রামনগর চামড়া বাজারে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া ফেলে দিচ্ছেন। সরেজমিন পৌরসভার বর্জ্য পরিবহনে করে ফেলা দেওয়া চামড়া নিয়ে যেতে দেখা যায়। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরুর চামড়া কিছু বিক্রি করতে পারলেও ছাগলের চামড়া আড়তগুলো নেয়নি। কিছু বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ টায়। একই অভিযোগ একরামুল হক নামের আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ীর। তিনি একটি মাদ্রাসার সংগ্রহ করা বেশ কিছু চামড়া আড়তে বিক্রি করতে এসেছিলেন। একরামুল বলেন, “আমাকে আড়তদার গরুর চামড়া দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা বলছে। আড়তদাররা ছাগলের চামড়া নিবে না বলছে। ওই চামড়া ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।” মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, “মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার ধরন ও মাপ না বুঝেই বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। এখন তারা আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। “একটা চামড়া লবনজাত করে ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ হবে তিনশ টাকা। এই খরচের বিষয় মাথায় রেখে আমাদের চামড়া কিনতে হচ্ছে।” দেশের অন্য যে কোনো জেলার চেয়ে এখানে চামড়া ‘বেশি দামে’ কেনা হচ্ছে বলেও দাবি এ চামড়া ব্যবসায়ীর। চামড়া ফেলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে চামড়া আমরা বিক্রি করতে পারব না সেই চামড়া আমরা নিচ্ছিনা। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে। কেনা দাম না পেয়ে লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। তাদের দাবি, ন্যায্যমূল্য দিচ্ছেন না আড়তদাররা। ওদিকে আড়তদাররা বলছে, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার ধরন না বুঝেই বেশি দামে চামড়া কিনে এখন এমন কথা বলছেন। সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস ঠেকানো যায়নি। আড়তগুলোয় চামড়া বিক্রি করতে এসে এবারও ন্যায্য দাম পাননি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তেও সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও চামড়া বিক্রি হয়নি। এমনকি অর্ধেক দামেও চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবারও বঞ্চিত হয়েছেন চামড়া বিক্রির অর্থের হকদাররা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, সরকার সময়মতো উদ্যোগের বাস্তবায়ন না করলে চামড়ার বাজার আগের রূপে ফিরবে না। কাঁচা চামড়ার মূল্য ঘোষণা না করা, বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুযোগ না থাকা, সময়মতো রপ্তানির ঘোষণা না দেওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..