খাগড়াছড়িতে বেড়েছে কচুরমুখী চাষ, কমছে পাহাড়ি বন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা : পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পাহাড়ে দিন দিন বাড়ছে কচুরমুখী চাষ। জেলার মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, গুইমারা, রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলায় এ চাষের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়ি সদরের সর্বোচ্চ উঁচু পাহাড় আলুটিলাতেও কচুরমুখী চাষ করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য এটি একটি অর্থকরী ফসল হলেও উঁচু পাহাড়ের বনজঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করায় মাটির ক্ষয়, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খাগড়াছড়িতে প্রায় ৮৪৫ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে কচুরমুখি চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ৭৮০ হেক্টর এবং তার আগের বছর ৭৪০ হেক্টর। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে কচুরমুখী চাষের জমি বেড়েছে ১০৫ হেক্টর। তবে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি হিসাবের চেয়ে বাস্তবে চাষের পরিমাণ আরও বেশি। পাহাড়ে সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে আগুন দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হয়। এরপর পাহাড়ের মাটি কুপিয়ে কচুরমুখির জন্য জমি তৈরি করা হয়। এপ্রিল মাসে বৃষ্টি শুরু হলে বীজ বপন করা হয়। পরিচর্যা শেষে আগস্টের শেষ দিকে বাজারজাত শুরু করেন কৃষকেরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, জুম চাষের তুলনায় কচুরমুখী চাষে পাহাড়ের মাটির ওপর চাপ বেশি পড়ে। কারণ চাষের আগে পাহাড়ের মাটি গভীরভাবে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করা হয় এবং গাছের গোড়ায়ও মাটি তুলে দিতে হয়। ফলে বৃষ্টির পানিতে সহজেই উপরিভাগের উর্বর মাটি ধুয়ে ছড়া-ঝিরিতে গিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় চাষ করার ফলে মাটির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে। ঝর্ণাটিলা এলাকার কচুরমুখী চাষি মো. আবুল কালাম জানান, চলতি বছর তিনি পাঁচ একর পাহাড়ি জমিতে কচুরমুখি চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো বছর কচু চাষ করে লাভ হয়, আবার কোনো বছর পুঁজিও ওঠে না। পাহাড় পরিষ্কার করা, মাটি কুপিয়ে জমি তৈরি, বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় খরচ অনেক বেশি। মরাটিলা এলাকার কৃষক কমল ত্রিপুরা এবার দুই একর পাহাড়ে কচুরমুখী চাষ করেছেন। গত বছর সাড়ে তিন একর জমিতে চাষ করলেও বিক্রি করে পুঁজি তুলতে পারেননি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..